রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গুলশান-বনানী-বারিধারা উন্নয়নে ব্যয় হবে ১৯৮ কোটি টাকা

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫
  • সিটি নির্বাচনের পর প্রকল্প অনুমোদন

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ গুলশান-বনানী ও বারিধারার কূটনৈতিক জোনের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা ও বনানী লেকের দূষণ কমবে এবং যানজট হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩৯ কোটি ৯৮ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান জানান, রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় কূটনৈতিক পল্লী, অধিকাংশ কর্পোরেট হাউস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদ্যমান। এ এলাকা হতে সর্বাধিক পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। ইতোপূর্বে এ এলাকায় আলাদাভাবে কোন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাস্তা, নর্দমা এবং ফুটপাথ নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে বিভিন্ন রাস্তা, নর্দমা এবং ফুটপাথ নির্মাণ ও উন্নয়ন এবং সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিকল্প ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বনানী এলাকার দূষণ নিরসন করা হবে। তাই এসব কিছু বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৯০টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ৩৬টি। এর আয়তন প্রায় ৮২ বর্গ কিলোমিটার। এই ওয়ার্ডগুলো ৫টি অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত। তারমধ্যে গুলশান, বনানী ও বারিধারার ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৩ গঠিত। এর আয়তন প্রায় ১৮ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে কূটনৈতিক পল্লীসহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমা মিডিয়ান, ফুটওবার ব্রিজ, আন্ডারপাস, খেলার মাঠ, কবরস্থান, মার্কেট ইত্যাদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন জনসেবা প্রদানে নগরবাসীর চাহিদা পূরণে সচেষ্ট।

অপরদিকে ঢাকা ওয়াসা মহানগরীর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের দায়িত্বে নিয়োজিত। কিন্তু গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়নি। ফলে জলাবদ্ধতা ওই এলাকার নৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানজট, পথচারীদের হয়রানি এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার আউটলেট গুলশান বনানী লেকের সঙ্গে যুক্ত। এতে পরিবেশ ও লেকের পানি দূষিত হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সড়ক অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসা গুলশান শুটিং ক্লাব হতে গুলশান-১ হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল পর্যন্ত গভীর স্ট্রম স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপন করেছে। এতে গুলশানের পূর্ব প্রান্তের জলাবদ্ধতা সমস্যার আংশিক সমাধান হয়েছে এবং গুলশান লেকের দূষণ কিছুটা কমে আসবে। কিন্তু গুলশান পশ্চিমাংস, বনানী ও বারিধারার ড্রেনেজ ব্যবস্থা পূর্বের মতোই ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে। তার ওপর সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাবিধারা জে ব্লক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বারিধারার জে ব্লকের বিদ্যমান সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। গুলশান, বনানী ও বারিধারা যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, তাই সড়ক, ফুটপাথ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমন্বিত ও আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন করা প্রয়োজন এবং এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। এত বিপুল ব্যয় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় থেকে করা সম্ভব নয় বলে সরকারী তহবিলের সহায়তায় এ প্রকল্পটি হাতে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৩৯ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, ৫৫ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার খোলা ড্রেন নির্মাণ, ২৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন নির্মাণ এবং ৫৬ দশমিক ৪১ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে।

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল ২০১৫

১৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: