কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামকে নতুনরূপে সাজাব ॥ নাছির আরেকবার সুযোগ চাই ॥ মনজুর

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি এ মহানগরীকে নতুনরূপে সাজাবো আর ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার আপনাদের কাছে ভোট চাইবো না। শনিবার বিকেল থেকে তিনি নগরীর সল্টগোলা, হালিশহর, গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় টানা প্রচারণা চালান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক গণ পরিষদ সদস্য এসহাক মিয়া, মঈনউদ্দিন খান বাদল, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সফর আলীসহ দলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। এ সময় আ জ ম নাছির বলেন, চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ জলাবদ্ধতা নিরসনে অতীতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা পানিতে গেছে। জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। এ সময় তিনি ভোটারদের কাছে জলাবদ্ধতামুক্ত আধুনিক নগরী গড়তে উদ্যোগ নেবেন। এ ব্যাপারে নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে তিনি আরও নতুন নতুন আয়বর্ধক প্রকল্প সৃষ্টির মাধ্যমে এ কর্পোরেশনকে একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সচেষ্ট হবেন।

ড. হাছান মাহমুদ ॥ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ শনিবার সকালে নগরীর লালখান বাজার, মতিঝর্না, বাগঘোনা, চানমাররি রোড, ইস্পাহানি মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চাকসুর সাবেক জিএস আজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আলম শাহীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম একজন ব্যর্থ মেয়র। তাঁর মেয়াদে তিনি কোন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিতে পারেননি। পুরো ৫ বছর নগরবাসীকে নাকে রুমাল ধরে চলাচল করতে হয়েছে। তিনি টকফল কমলালেবু প্রতীক লাভ করেছেন। এটিই তার জন্য যথার্থ। কারণ তিনি নগরীকে টক বানিয়ে ফেলেছেন। হাছান মাহমুদ আগামী সিটি নির্বাচনে নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রতীক হাতি মার্কায় ভোট দিয়ে আ জ ম নাছিরকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী গড়তে তরুণ ও নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক কর্মীর বিকল্প নেই।

মনজুর আলমের গণসংযোগ ॥ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন প্রার্থী এম মনজুর আলম শনিবার বিকেলে গণসংযোগ চালান নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী ও সরাইপাড়া এলাকায়।

এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং নগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গণসংযোগকালে তারা নগরীর উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক নগরী গড়তে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে আবারও মেয়র নির্বাচিত করতে হবে। মনজুর আলম বিগত ৫ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলমতের উর্ধে থেকে নগরবাসীর সেবা করে গেছেন বলে উল্লেখ করে নোমান বলেন, তিনি সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে দলীয়করণ করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ নেই। চট্টগ্রামকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বমানের আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মনজুর আলমকে কমলালেবু মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নোমান আরও বলেন, মেয়র নির্বাচনে জনগণ বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী ব্যালট প্রয়োগ করে সরকারের দমন-পীড়নের জবাব দেবে। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নির্বাচনের সাতদিন পূর্ব থেকে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান। মনজুর আলম তাঁর বক্তব্যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তাঁকে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, নগরীর বায়েজিদ এলাকায় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের নির্বাচনী কার্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী সমর্থকরা হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন। বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের উপস্থিতিতে শনিবার বিকেলে এ হামলা ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়। সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম জানান, এ ঘটনায় নারীসহ তাদের অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পূর্বনির্ধারিত সফর ও নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় মিলিত হয়েছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ৬০ থেকে ৭০ জন ছিল।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মনজুর আলমের বিরুদ্ধে অশ্লীল ও উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে উপস্থিত নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানালে ছাত্রলীগের কর্মীরা চলে যায়। বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা এ হামলা এবং কার্যালয় ভাংচুর করে বলে অভিযোগ করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

এদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি বাবুল গনি এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি কার্যালয়ের পাশ দিয়ে ছাত্রলীগের একটি মিছিল যাচ্ছিল। এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫

১২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: