কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব আলোকিত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫
  • ইশতেহার ঘোষণা করলেন আনিসুল হক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নগরীর বেশকিছু নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত এবং সেসব সমাধানে ছয়টি প্রতিশ্রুতিকে ভিত্তি করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা উত্তরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আনিসুল হক। ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য- ‘এবার সমাধান যাত্রা’। ‘পরিচ্ছন্ন-সবুজ-আলোকিত-মানবিক ঢাকা’ শিরোনামে মোট ১১ পৃষ্ঠার এই ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিসমূহের মধ্যে রয়েছেÑ পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা, নিরপাদ, স্বাস্থ্যকর ঢাকা, সচল ঢাকা, মানবিক উন্নয়নের ঢাকা, স্মার্ট ও ডিজিটাল ঢাকা এবং অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসিত ঢাকা।

শনিবার রাজধানীর খিলখেত নিকুঞ্জে অবস্থিত লোটাস কামাল টাওয়ারে নিজের নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ঢাকার যে সমস্যা তা চিহ্নিত করে আমরা বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলব। নগর বিনির্মাণে আমাদের দর্শন হচ্ছে গরিব, ধনী সকলের জন্য মানবিক এক ঢাকা। যেখানে নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে সবকিছুর উপরে। মানুষের অধিকার থাকবে সুরক্ষিত। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আলোকিত ও মানবিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরের প্রতি মালিকানাবোধ শহরকে পরিবার বা বাড়ির মতো করে দেখতে পারাটা আমার কাছে খুবই জরুরি। আমি এভাবেই ভাবি। আর ভাবি বলেই ঢাকা আমার কাছে আলাদা বিষয় নয়। আমি-আপনি-আমরাই ঢাকা। ঢাকাকে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সঠিক নেতৃত্ব।

তিনি বলেন, আইনে ২৮ ধরনের কাজ নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও মেয়রের আইনী কর্তৃত্বের অভাব আছে। অন্যদিকে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে মেয়রকে সরকারের ৫৬টি সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। সিটি কর্পোরেশন এবং এসব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করলেই কেবল সর্বোচ্চ নাগরিকসেবা দেয়া সম্ভব। দক্ষ সমন্বয়কের অভাব আছে এসব সংস্থাগুলোর মধ্যে- এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ‘নগর ভবন দলীয় কার্যালয় হবে না’ এ অঙ্গীকার করে আনিসুল হক বলেন, সকল মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এটি পরিচালিত হবে। আমি নগরের পিতা নই, নাগরিকদের বন্ধু হতে চাই। তিনি বলেন, ৫ বছরের মধ্যে ঢাকা উত্তর নির্দিষ্ট একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে নাগরিকদের সামনে দৃশ্যমান হবে- এটা আমার প্রতিশ্রুতি।

বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ইশতেহার পড়তে শুরু করেন টেবিল ঘড়ি প্রতীক পাওয়া এই মেয়র প্রার্থী। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যবসায়ী নেতা সালমান এফ রহমান, সংরক্ষিত আসনের এমপি তারানা হালিম, রুবানা হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার প্রমুখ। তিনি বলেন, ঢাকার নাগরিকরা আমাকে নির্বাচিত করলে সংস্থাগুলোর মধ্যে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

স্মার্ট ও ডিজিটাল ঢাকা গড়তে যা করবেন : নগরীর ভেতরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বাসস্টপেজ, নারীদের জন্য বিশেষ বাসে বিনামূল্যে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে। একটি ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হবে। নাগরিক সমস্যা জানানো, সেবা-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ মোবাইল এ্যাপস চালু করা হবে। সকল সেবাকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করা হবে এবং ই-সেবা চালু করা হবে।

স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়তে যা করবেন : ফরমালিনমুক্ত বাজার গড়ে তোলা হবে তার প্রথম কাজ। স্বাস্থ্যহানিকর খাবার ও ভেজালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারে উৎপাদিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নগরীর ৫টি জোনে নারীসহ সকলের জন্য আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে। নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অনলাইনভিত্তিক করা হবে। মাদক ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা উত্তরের সড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে।

পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়তে আনিসুল হক যা করবেন : রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি নির্মাণ এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজায়নকে প্রাধান্য দেয়া হবে। সবুজ ঢাকা গড়ে তুলতে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পিত বনায়ন করা হবে। নগর পরিকল্পনায় পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। নগরায়ন হবে পরিবেশবান্ধব। জল, জমি, বায়ু, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া হবে। শহরের ভেতরে পার্ক, মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান চিহ্নিত করা হবে। বেদখল পার্ক ও মাঠ উদ্ধার করে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা উপযোগী করা হবে। এলাকাভিত্তিক জলাবদ্ধতা দূরীকরণে স্থানীয় এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সাপেক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়মিত এবং বিশেষভাবে বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হবে। ড্রেন পরিষ্কারে পরিচ্ছন্নকর্মীদের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির বাহন আনা হবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুর্গন্ধমুক্ত নগরী করতে পর্যায়ক্রমে ময়লার ভাগাড়গুলো (ডাস্টবিন) সরিয়ে নেয়া হবে। শহরের ভেতরের লেকগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।

সচল ঢাকা করতে করণীয় : যানজট কমাতে শহরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে কয়েকটি সংযোগ সড়ক করা হবে। শহরের ভেতরে চলাচলকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে একটি মানদ- ঠিক করা হবে। রাস্তা সচল রাখতে কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ করা হবে। গণপরিবহনের ওপর চাপ কমাতে এবং নিকটতম যোগাযোগের জন্য বাইসাইকেল উৎসাহিত করা হবে। নগরবাসীকে হাঁটায় উৎসাহিত করা হবে। ফুটপাথকে ব্যবসায়ীবান্ধব (হকার) কিন্তু পথচারীচর্চাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি পারস্পরিক নির্ভরশীল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে।

মানবিক উন্নয়নের ঢাকা গড়তে যা করবেন : ঢাকা উত্তর হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান উপযোগী নগরী। কর্মজীবী মায়েদের জন্য পর্যায়ক্রমে ৩৬টি ওয়ার্ডে একটি করে ডে কেয়ার সেন্টার করা হবে। রাজধানীতে ঠাঁই নেয়া তরুণ-তরুণীদের জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নিরাপদ ও আধুনিক কর্মজীবী হোস্টেল করা হবে। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চায় একটি নাগরিক কেন্দ্র (সিভিক সেন্টার) করা হবে। সিটি কর্পোরেশনে একটি অনুদান তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য তাদের ডাটাবেজ করা হবে।

অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসিত ঢাকা গড়তে যা করবেন

সিটি কর্পোরেশন হবে দুর্নীতিমুক্ত। দুর্নীতি বন্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। নাগরিকসেবা, অভিযোগ ও সমাধানে ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করা হবে। একটি নগর তথ্যকেন্দ্র খোলা হবে। নগর উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল বা পরামর্শক কমিটি করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নাগরিকদের মতামত নেয়া হবে।

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫

১২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: