মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সেনা মোতায়েন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত ১৯ এপ্রিল-সিইসি

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। ভোটের বাক্স ছিনতাই সম্ভব হবে না। ভোটকেন্দ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। তবে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ব্যাপারে আগামী ১৯ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ শনিবার চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ‘হল টুয়েন্টি ফোর’ কমিউনিটি সেন্টারে সকালে অনুষ্ঠিত হয় এই মতবিনিময় সভা। সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন প্রার্থী এম মনজুর আলমসহ প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিইসি আসন্ন সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি আচরণবিধির ব্যাপারে প্রার্থীদের সতর্ক করে দেন। একইসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসন কাজ করে চলেছে। প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দাখিল করুন। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আপনাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশবাসীর ঋণ পরিশোধ করুন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য এমন পরিবেশ সৃষ্টি করুন, যাতে প্রতিদ্বন্দ¦ী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে সমান সুবিধা লাভ করে। প্রার্থীদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে সিইসি আরও বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আগামী ১৯ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ঐ বৈঠকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। ভোটবাক্স ছিনতাই করা এখন সম্ভব নয়। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। চট্টগ্রামে অতীতেও সুন্দর নির্বাচনের রেকর্ড রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অপরাধ যেন চট্টগ্রামে না ঘটে। বরং এমন একটি নির্বাচন করতে চাই যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি নির্দলীয় নির্বাচন। সেখানে কোন প্রার্থীকে কে সাপোর্ট দিল বা না দিল তা বিবেচ্য বিষয় নয়।

মতবিনিময় সভায় সিইসির বক্তব্যে উঠে আসে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ৬টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করেছি। প্রত্যেকটি নির্বাচনই সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হতে যাচ্ছে এটি খুশির বিষয়। তিনি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) জাবেদ আলী, নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল ম-ল, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল বাতেন।

চসিক নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে সিইসির কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ, ইসলামিক ফ্রন্ট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মজিবুল হক শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন, ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ওয়ায়েজ হোসেন ভুঁইয়া, নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রেহেনা আক্তার রানু, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোরশেদুল আলম প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫

১২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: