মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কম্পিউটার মানেই রোমান হরফ

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫
  • মোস্তাফা জব্বার

॥ এক ॥

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বয়স ৫০ বছর পার হলেও এর সঙ্গে এদেশের সাধারণ মানুষের বা তার ভাষা বাংলার সম্পর্কের সময়টা এত বড় নয়। রোমান হরফ পর্দায় নিয়ে জন্ম হয়েছে কম্পিউটারের। বাংলাদেশেও রোমান হরফের প্রদর্শন করেছে কম্পিউটার। একেবারে হিসাব করে বলা যায় ১৯৮৭ সালে ডেস্কটপ প্রকাশনার সময় থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কম্পিউটারের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধন্যবাদ এ্যাপল কম্পিউটার ও তার নির্মাতা স্টিভ জবসকে। তাদের আগে কেউ কম্পিউটারের পর্দায় সাধারণ মানুষের ভাষা দেখাবে বলে আশাই করেনি। কম্পিউটারের ভাষা রোমান এবং তার পর্দায় রোমান হরফ থাকবে সেটাই সকলের ধারণা ছিল। যদিও কম্পিউটারের ভাষা ইংরেজী নয়, তবুও কম্পিউটার জানার বোঝার, চালনার ভাষা রোমান হরফেই লেখা হতো। ভাবটা এমন ছিল যে, প্রোগ্রামিং ভাষা যা মোটেই ইংরেজী নয়, রোমান হরফে লেখা এক ধরনের সিনট্যাক্স, তাকেও ইংরেজী বলেই চালানো হতো। তখন থেকে এখন পর্যন্ত একটি আপ্তবাক্যই সবাই বলেন, ইংরেজী ছাড়া কম্পিউটারের কথা ভাবা যায় না। রোমান হরফের অঞ্চলে জন্ম নেয়া কম্পিউটারের কাছ থেকে এর চাইতে ভাল কিছু আমরা প্রত্যাশা করিনি। মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ও এ্যাপল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস হলেন এই ধারণার বিপরীত স্রোতের মানুষ। আর ইতিহাস বলে, বাংলাভাষী অনেকেই রোমান হরফের আধিপত্যের কম্পিউটারের পর্দায় বাংলা হরফ দেখানোর চেষ্টা করেছেন। হেমায়েত হোসেন বা সাইফুদ্দাহার শহীদরা তো বসে থাকেননি। এমনকি প্রো ডস বা ডস অপারেটিং সিস্টেমেও বাংলা চর্চার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিপ্লবটা ঘটায় আনন্দপত্র-১৯৮৭ সালের ১৬ মে। প্রকাশিত হয় কম্পিউটার দিয়ে কম্পোজ করা প্রথম বাংলা পত্রিকা। আর সেই পত্রিকার কাজ যারা করে তারা না প্রোগ্রামার, না ইংরেজী জানা মহামানব বরং একদম হাবাগোবা বাঙাল। তখনই প্রয়োজন পড়ে সাধারণ মানুষের ভাষায় কম্পিউটার চালানোর। বস্তুত তখন থেকেই কম্পিউটারের উপাত্তগুলো সাধারণ মানুষের ভাষায় পরিবেশন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কোন মতে বাংলায় লেখাপড়া করে যারা কম্পিউটারের বোতাম ছুঁয়েছিল তারা কম্পিউটারের সিনটেক্সতো বুঝতো না, এমনকি বুঝতো না সংলাপ ঘরটি। মূল কম্পিউটারের শব্দগুলো বাংলায় লিখে এর চালনা পদ্ধতিতে বাংলায় লিখে দেয়া হতো। তখনই একটি অসাধারণ কাজ করেছিলেন প্রকৌশলী সাইফুদ্দাহার শহীদ। তিনি পুরো কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম ও লেখার এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বাংলায় করে ফেলেন। যদিও শহীদলিপি নিয়ে তিনি বেশি দূর যেতে পারেননি তবুও তিনি প্রমাণ করেন যে কম্পিউটারের ভাষা ইংরেজী একথা সত্য নয়। কম্পিউটারে দুনিয়ার যে কোন ভাষাই ব্যবহার করা যায়, সেটি তাতে প্রমাণিত হয়। সেই সময়ে আমি যখন বাংলায় কম্পিউটার শেখাতাম, বাংলায় কম্পিউটারের বিষয় নিয়ে লিখতাম তখন অনেকেই হাসি ঠাট্টা করেছেন। প্রয়াত বন্ধু কম্পিউটার জগতের আবদুল কাদের সাহেব যখন বাংলায় কম্পিউটার বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেন তখনও বিদ্রƒপের হাসি হেসেছেন অনেকে। তারও আগে যখন বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখি বাংলায় করার জন্য আব্দুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দিন ও আবদুল কাদের সাহেবরা যুদ্ধ করেছেন তখনও ঠাট্টা মশকরা করা হতো। প্রথম দিকে কাদের সাহেবকে তার পত্রিকার একটি বড় অংশ রোমান হরফের জন্য ছেড়ে দিতে হতো। কাদের ভাই বলতেন, বাংলায় তেমন লেখা পাই না। যারা এসব বিভাগে লেখেন তারা বাংলায় লিখতে পারতেন না বলেও কাদের ভাইয়ের আক্ষেপ ছিল। বস্তুত তাঁকে কম্পিউটার বিষয়ের বাংলা লেখকগোষ্ঠী ও বাংলাভাষী সাংবাদিক গড়ে তুলতে হয়েছে। তাদের জন্যই আজ আমরা বাংলা ভাষায় কম্পিউটার চর্চা করি। তিনি যদি পরাস্ত হতেন তবে আমাদের পক্ষে বাংলা ভাষায় কম্পিউটার চর্চা হয়ত করাই হতো না। আমার মনে আছে ১৯৯২ সালেও যখন নবম দশম শ্রেণীতে কম্পিউটার বিষয়টি পাঠ্য করা হয় তখন বাংলা ভাষায় পাঠ্যবই লেখার কথা ভাবতে কষ্ট হয়েছে। কেউ সহজে বাংলা ভাষায় কম্পিউটার বিষয়ক বই লিখতে সাহস করেননি। তবে প্রায় তিন দশকে বাংলা ভাষায় কম্পিউটার চর্চা কেবল যে মূল স্রোত হয়েছে তাই নয় এখন আমরা বাংলা ভাষায় লেখা বই ভারতসহ সারা দুনিয়াতে রফতানি করি। মাহবুবুর রহমান, শাওন সুহৃদসহ আরও অনেকে বাংলায় কম্পিউটার বিষয়ক বই লিখে বাংলা ভাষার সার্বজনীনতাকে অনেক সমৃদ্ধ করেছেন। গণিত, রসায়ন, পদার্থ বিদ্যা ও অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয়েও অনেকে বাংলা চর্চা করেছেন এবং সেজন্য তারা বাংলাভাষীদের কৃতজ্ঞতাভাজনও।

কিন্তু ২৮ বছর পর আজ অনুভব করছি, বাংলা ভাষায় কম্পিউটার চর্চার পথটা মোটেই মসৃণ নয়। বরং দিনে দিনে সেই পথটা এবড়ো থেবড়ো ও বিপদশঙ্কুল হচ্ছে। আজ যখন কম্পিউটারে বাংলা চর্চার কোন সীমাবদ্ধতাই নেই, তখন কম্পিউটার ব্যবহারের নামে বাংলা ভাষাকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হচ্ছে। আমাকে যদি দৃষ্টান্ত দিতে বলা হয় তবে আমি হাজার হাজার দৃষ্টান্ত দিতে পারব যেখানে কম্পিউটারের দোহাই দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিদায় করা হয়েছে। দেশের সংবিধানে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা বাংলা থাকলেও, বঙ্গবন্ধুর স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও, বাংলা ভাষা বিষয়ক আইন থাকার পরও অবস্থার দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে। আমি আজকের আলোচনায় সেইসব প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত বলব না। তবে কম্পিউটার শেখাকে যে রোমান হরফের দাসে পরিণত করা হয়েছে সেটি তো বলতেই হবে। বিশেষ করে ইংরেজী না জানলে কম্পিউটার শেখা যাবে না তেমন একটি কিম্ভুতকিমাকার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারী একটি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি বাংলাভাষী জনগণের বিরুদ্ধে একটি বিশাল ষড়যন্ত্র। ইংরেজী না জানাকে একটি অপরাধের বিষয় হিসেবে গণ্য করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ডিজিটাল বাংলাদেশ অনুষ্ঠানের দুটি পর্ব ধারণ করার জন্য আমি শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে গিয়েছিলাম। আলোচ্য বিষয় ছিল বিশ্বব্যাংকের ৭০ মিলিয়ন ডলারের এলআইসিটি প্রকল্প। নাম থেকেই বোঝা যায় যে, রোমান হরফে নামকরণ না করলে বিশ্বব্যাংকের টাকা নাও পাওয়া যেতে পারে, এটি আমাদের নীতি নির্ধারকগণের মাথায় বহাল ছিল। আমি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রকল্পের নাম চমৎকার স্থানীয় ভাষায় দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারের টাকায় হোক বা বিদেশীদের টাকায় হোক আমরা সব কিছু ইংরেজীতে করতেই পছন্দ করি।

যা হোক, এলআইসটির প্রকল্প পরিচালকসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলার পর জানা গেল যে, এই প্রকল্পের আওতায় সরকার ৩৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে কম্পিউটার শেখাবে। এরই মাঝে এফটিএফএল নামে দুটি ব্যাচে ২৭৩ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এদের সফলতা উল্লেখযোগ্য। এই সংখ্যা ৪ হাজারে উন্নীত করা হবে। এর বাইরে ১ হাজার জনকে মধ্য পর্যায়ের কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর বাইরে ১০ হাজার ¯œাতককে উচ্চতর ও ২০ হাজার জনকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। আমি জানতে পেরেছি যে যাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তারা রোমান হরফেই পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের ভাষা ছিল ইংরেজী এবং তাদেরকে লেবাসে, আচারে আচরণে ইংরেজ বানানোর সকল আয়োজনই করা হয়েছে। কুমিল্লার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে কেবল বাংলার আবহাওয়া ছাড়া বাকি সকল প্রচেষ্টাই ছিল বাঙালকে ইংরেজ বানানোর।

প্রকল্পটি সম্পর্কে আমি অনেক আগে থেকেই জানি। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি থাকাকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বার বার এই বিষয়ে কথা বলেছি। পদ্মা সেতু থেকে যখন বিশ্বব্যাংক চলে যায় এবং আবুল হোসেন যখন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তখন এই প্রকল্প সম্পর্কে নতুন আশাবাদ না করাই যথাযথ ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে গেলেও সেই প্রকল্পটি নিয়ে সামনে চলে এবং এটি এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এরই মাঝে এই প্রকল্পের নানাজনের সঙ্গে আরও বহুবার আলোচনা হয়েছে। আমি বিশ্বব্যাংককে আগেই বলেছিলাম প্রচলিত গাল ভরা বুলির প্রতি নজর না দিয়ে তারা যেন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পখাতের প্রয়োজনে টাকাগুলো ব্যয় করেন। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই এই শিল্পখাতকে সহায়তা করা। প্রকল্পের সঙ্গে যারা যুক্ত তারাও আন্তরিকতার সঙ্গেই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে। বিশেষ করে এই খাতের মানুষজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার বিষয়টিকে আমি অবশ্যই ভালভাবে দেখি।

সেদিনই বিসিসি ভবনেই জানলাম যে, প্রকল্পটির একটি বড় স্তর শুরু হতে যাচ্ছে। ২০ হাজার মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রথম পদক্ষেপটি হচ্ছে ঢাকার ইডেন কলেজের হাজারখানেক মেয়েকে একটি পরীক্ষায় বসানো হবে এবং সেখান থেকে ২০০ মেয়েকে বাছাই করে তাদেরকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেখান থেকে ১০০ মেয়েকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তথ্যটি জানার পর আমার নিজের মনে হলো বিটিভির অনুষ্ঠানটিকে আকর্ষণীয় করার জন্য আমি ইডেন কলেজে যাব। গেলামও। সেখানে মেয়েদের সঙ্গে কথা বললাম। পরীক্ষা পদ্ধতি দেখলাম।

কিন্তু চমকে গেলাম তাদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে। প্রশ্নপত্রটির পুরোটাই বস্তুত ইংরেজী পরীক্ষার। বাক্য গঠন থেকে শুরু করে ইংরেজী জানার সকল বিষয় নিয়ে প্রশ্ন। আমি নিজের কাছেই প্রশ্ন করলাম, ইডেনের সাধারণ ছাত্রীরা যাদেরকে কম্পিউটার কেমন করে চালাতে হয়, কেমন করে ইন্টারনেট চালাতে হয়, গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে করতে হয় বা এ্যানিমেশন কেমন করে করতে হয় সেইসব শেখানোর জন্য বাছাই করতে গিয়ে পুরো পরীক্ষাটাই ইংরেজীতে নিতে হবে কেন? ওদের ইংরেজী জ্ঞানটাই কি প্রধান বিবেচ্য বিষয়? বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শতকরা ৯৭ ভাগ ছাত্রছাত্রী বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে। তারা ইংরেজী জানে কিন্তু ইংরেজী মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীদের মতো জানে না। ওরা নিজের দেশে কাজ করার জন্য ইংরেজীতে যতটা দক্ষতা থাকা দরকার ততটাই জানে। বিদেশেও তারা কাজ করে। মদ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়াতে তারা ইংরেজীতে দক্ষ না হয়েই কাজ করছে। শুধুমাত্র সিলেটী জেনে তারা লন্ডন দখল করেছে। চাটগাইয়া ভাষায় তারা দুবাই দখল করেছিল। আবার যদি ডেনমার্কের কাজ করতে হয় তবে সে ডেনিস ভাষাও শিখে নেয়। যারা জাপানে যায় তারা প্রয়োজনে জাপানী ভাষা শিখে। জার্মানি-ফ্রান্স-ইতালিসহ ইউরোপের সকল দেশে সেই দেশের ভাষা জানতে হয় এবং তারা সেইসব আয়ত্তও করে। আমরাও আমাদের ¯œাতক পরীক্ষা বাংলায় দিয়েছি। এতে আমাদের কারও মেধা আটকে আছে বলে তো মনে হয় না। কম্পিউটার জানার জন্য ইংরেজী জানতেই হবে এমনও কোন ঘটনা তো আমার জানা নেই। বরং ওদের সাধারণ জ্ঞান কেমন, বুদ্ধিমত্তা কেমন, দুনিয়ার খবরাখবর ওরা কি রাখে, দেশ সম্পর্কে কতটা জানে, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে কি খবর রাখে, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে কিনা এসব দক্ষতা যাচাই করা যেত। যাচাই করে দেখা যেত তারা শিক্ষা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে কিনা। (চলবে)

ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০১৫

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥

ই-মেইল : mustafajabbar@gmail.com, ওয়েবপেজ: www.bijoyekushe.net, www.bijoydigital.com

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০১৫

১২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: