কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ॥ মূল যুদ্ধে নাছির-মনজুর

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
চট্টগ্রাম সিটি  নির্বাচন ॥ মূল যুদ্ধে নাছির-মনজুর
  • দলীয় ঐক্যে প্লাস পয়েন্টে নাসির ॥ জলাবদ্ধতাসহ নানা ব্যর্থতার দায় মনজুরের ওপর

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সিটি নির্বাচনে মূল আকর্ষণ মেয়র পদটি। ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারদফা নির্বাচনে হ্যাটট্রিক বিজয় অর্জন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। চতুর্থ দফার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলর এম মনজুর আলম বিজয়ী হয়ে রেকর্ড গড়েন। আগামী ২৮ এপ্রিল ৫ম দফায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এদের মধ্যে ১০ জনের নির্বাচন নামমাত্র বললে অত্যুক্তি হবে না। মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের মধ্যে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং তাদের জোট ১৪ ও ২০ দল স্ব স্ব জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে প্রচারে নেমেছে।

গত ৭ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে শুরু হওয়ার পর গত বুধবার আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং শুক্রবার এম মনজুর আলম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নেমেছেন। তাঁদের সঙ্গে স্ব স্ব দল ও জোটের নেতৃবৃন্দও অংশ নিচ্ছেন। আবার বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী ছাড়া নিজ নিজ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রচার তৎপরতায় রয়েছেন। এ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে লিফলেট বিতরণই প্রাধান্য পাচ্ছে। মিছিল, মিটিং, জনসভাসহ যে কোন ধরনের শোডাউনের ওপর নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার প্রার্থী ও সমর্থকরা জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় ধরনের তৎপরতা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে স্ব স্ব প্রার্থীদের পক্ষ ও বিরোধী শিবিরের প্রার্থী নিয়ে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ছড়াছড়ি। বিএনপির নেতৃবৃন্দ বরাবরই বলে আসছেন সরকার দল সমর্থিত প্রার্থীরা নানাভাবে যেসব সুবিধা পাচ্ছেন তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচনের জন্য এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ করে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ দু’নেতা মনজুর আলমের পক্ষে প্রতিদিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করে চলেছেন। বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের এখনও মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আ জ ম নাছিরের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আলাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা সকাল-সন্ধ্যা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে দলের এমপিরাও সংযুক্ত হয়েছেন। নির্বাচনে এমপিদের প্রচার কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ইসির কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জন্য সরকার দলীয় একমন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে ভোটার মহলে সমালোচিত হয়েছেন। এদিকে, এবারের নির্বাচনী পরিবেশ পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনজুর আলম গত এক টার্ম মেয়র পদে অধিষ্ঠিত থেকে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা কার্যক্রমে ব্যর্থ হওয়ায় ভোটারদের বড় একটি অংশের মনে মাইনাসে রয়েছেন। পক্ষান্তরে, আ জ ম নাছির উদ্দিন তারুণ্য উজ্জীবিত এবং প্রথমবারের মত এ পদে নির্বাচনে নেমে প্লাস পয়েন্টে রয়েছেন বলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের নেতা পর্যন্ত এবং কর্মী-সমর্থকরা মাঠে নেমে আ জ ম নাছিরের পক্ষে প্রচার কাজে নেমেছেন। সে তুলনায় মনজুর আলমের পক্ষে বহু নেতাকর্মী আন্দোলন করতে গিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে মামলার আসামি হয়ে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। এ বিষয়টিও মনজুর আলমের জন্য মাইনাস পয়েন্ট হয়ে আছে। তবে যেহেতু এ নির্বাচন স্থানীয় সরকারের, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝেও প্রার্থিতা নিয়ে বিভেদ, মতবিরোধ রয়েছে। অতীতেও এ ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছিল। দলীয় সমর্থনের প্রার্থী হলেই সমর্থকরা একাধারে ভোট দিয়ে যাবেন সে আশা যেমন করা যায় না, তেমনি ভিন্ন শিবিরের প্রার্থী হলেও তিনি পছন্দের হলে তাঁর পক্ষে ব্যালটে সীল মারার মনমানসিকতাও রয়েছে অসংখ্য রাজনৈতিক দল সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের।

চট্টগ্রামে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১৮ লক্ষাধিক। এরমধ্যে অধিকাংশ ভোটারের মুখে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছেন দ্ইু মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ও এম মনজুর আলম। মনজুর আলমকে নিয়ে সমালোচনা আছে তার কর্মকা- নিয়ে। আবার সু আলোচনা আছে একজন ভদ্রলোক হিসেবে। তবে তিনি বিএনপির সমর্থনের প্রার্থী হলেও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী ঘরানার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এ ঘরানার অনেকের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এ সুসম্পর্ক ভোটের কাজে লাগাতে পারলে তিনিও প্লাস পয়েন্টে থাকবেন বলে অনেকের ধারণা। আ জ ম নাছির উদ্দিন তারুণ্যে উজ্জীবিত, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও তাঁর ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় সংগঠনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাধারণ সম্পাদকও। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে কোন গ্রুপিং নেই। তবে ভেতরে ভেতরে ব্যতিক্রম যে নেই তাও নয়। অতীতের সকল মতভেদ ও গ্রুপিং ভুলে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একাধারে তার জন্য আন্তরিক হলে তা হবে আ জ ম নাছিরের জন্য বিশাল প্রাপ্তি অর্থাৎ প্লাস পয়েন্ট। আজ থেকে সতের দিন পর বহুল প্রত্যাহার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনে একটি বিষয় লক্ষণীয় এখনও পর্যন্ত নগরীর কোথাও নির্বাচন নিয়ে কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা ব্যাপকভাবে তৎপর। নির্বাচনের প্রাক্কালে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তার যে বলয় তৈরি করার প্রয়াস নেয়া হয়েছে তা কার্যকর হলে চট্টগ্রামে আসন্ন সিটি নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট অনেকের অভিমত।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: