কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

উখিয়ায় জঙ্গী স্থাপনার রহস্য খুঁজতে গোয়েন্দারা মাঠে

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবান অঞ্চলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপ আরএসওসহ বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীর প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দাসহ প্রশাসনের একাধিক সংস্থা। নিরপেক্ষভাবে অধিকতর তদন্তে জঙ্গীগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িতদের নামধাম ও জঙ্গীদের পরিকল্পনার বিষয়বস্তুসহ অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা দিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা। অবৈধ দখল করে বন-পাহাড়ের মধ্যে সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে এতগুলো স্থাপনা নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য কী? দুর্গম পাহাড়ে স্থাপনা নির্মাণে টাকার উৎস কোথায়? রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই তা জানা দরকার বিধায় প্রশাসনের একাধিক সংস্থার লোকজন তদন্ত করতে মাঠে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযানে যাওয়া সরকারী কর্মকর্তাগণ এবং এমপি আবদুর রহমান বদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বনজসম্পদ দখলকারীরা স্থাপনা নির্মাণ কাজে টাকার উৎস সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার অঙ্গীকার করেছিল। শুক্রবার এমপি বদির সঙ্গে বসে এ তথ্য জানানোর কথা থাকলেও উখিয়ায় এ জাতীয় কোন বৈঠক হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে মৌলবাদী গ্রুপ নিজেদের স্বার্থ হাসিলে জঙ্গীদের অর্থায়নে এক শ্রেণীর অর্থলোভী রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকায় বহু স্থাপনা নির্মাণ করে জঙ্গীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে দাবি করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনদের অনেকে জানিয়েছেন, মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে দেয়া যায় না।

ইতোপূর্বে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক আরএসও জঙ্গীরা জামিনে মুক্ত হয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে কারা সহযোগিতা করেছেÑ এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা আরও বলেন, টাকার লোভে পড়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে একাত্মতা হয়ে জঙ্গীবাদে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দলীয়ভাবে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ফের জঙ্গীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দ্বিধা করছে না ওইসব চিহ্নিত ব্যক্তিরা। ইতোপূর্বেও আন্তর্জাতিক জঙ্গীগোষ্ঠী এবং আরএসও’র অর্থায়নে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা-আলীকদমে বহু স্থাপনা নির্মাণ কাজ বাধাহীন করার লক্ষ্যে জঙ্গীরা সরকারদলীয় কিছু স্থানীয় নেতাকে ব্যবহার করেছে। টাকার লোভে ওইসব আ’লীগ নেতা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বাস্তবায়ন করে দিয়েছে জঙ্গীদের প্রকল্পগুলো। ওইসব এলাকায় তৈরি করা হয়েছে মাদ্রাসা-মক্তবের নামে জঙ্গীদের পরিকল্পনা মতে অসংখ্য দালান। বিদেশী এনজিও সংস্থার প্রতিনিধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জঙ্গীগোষ্ঠীর অর্থায়নে কোটি কোটি টাকার সরকারী বনজসম্পদ দখল করে ইতোপূর্বে গড়ে তোলা হয়েছে বহু রোহিঙ্গা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কক্সবাজারে উখিয়া বনবিটের আওতাধীন মধুরছড়া এলাকায় প্রায় ১০ একর বনভূমি দখল করে আন্তর্জাতিক জঙ্গী গ্রুপের অর্থায়নে ৫০টি সেমি পাকা স্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞমহলকেও ভাবিয়ে তুলছে। তারা বলছেন বনজসম্পদ দখল করে এতগুলো স্থাপনা নির্মাণ ছাট্টিখানি কথা নয়। এক এক করে ৫০টি পাকাঘর তৈরি একদিনে বা রাতারাতি সম্ভব নয়। ওসব নির্মাণ করতে সময় লেগেছে মাসাধিককাল পর্যন্ত। ওই সময়ে প্রশাসন কোথায় ছিল? যৌথবাহিনীর অভিযান নিষ্ফল করতেই স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদির ‘সমঝোতামূলক হস্তক্ষেপের’ মাধ্যমে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কি মূলত একটি ‘আইওয়াশ’ নাকি ৭ দিনের মধ্যে ওইসব স্থাপনা সত্যি সরিয়ে নেয়া হবেÑ তা দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন ওয়াকিবহাল মহলসহ স্থানীয় লোকজন।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার ও পার্বত্য বান্দরবানের প্রত্যন্ত এলাকা একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল, অপরদিকে গহীন অরণ্য থাকায় মৌলবাদী চক্র ও জঙ্গীগোষ্ঠী জঙ্গীপনা এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ দিতে এ দুইটি জেলাকে টার্গেট করে থাকে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে সরকার ও স্থানীয়রা কক্সবাজার ও বান্দরবান এলাকায় বসবাসের সুযোগ দিয়ে আসছে এ পর্যন্ত। এটাকে পুঁজি করে মৌলবাদী চক্র ও জঙ্গীগোষ্ঠী বিদেশী বিভিন্ন এনজিও এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গী গ্রুপের কাছ থেকে নিয়ে আসে কোটি কোটি টাকা। ওই টাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য কি কি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা ভিডিও করে পাঠিয়ে বিদেশে থাকা জঙ্গীদের মন জয় করতে স্থানীয় কতিপয় ধান্ধাবাজ নেতার আশ্রয় নেয় দেশে ঘাপটি মেরে থাকা জঙ্গীরা। প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বলছেন, স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গেলে অনেক লোকজনের রক্ত ঝরতো বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তোহা বাহিনী ফিরে এসেছে। তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকারী জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা নিজেদের দায়িত্বে সরিয়ে নিতে হবেÑ এরকম সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই বৈঠকে। অন্যথায় এরপর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। সরকারী সম্পদ এভাবে বেহাত হতে দেয়া হবে না। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, পাহাড়ে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনার উৎস ভূমিহীনরা নয়-বিদেশী এনজিও বলেও বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে অভিমত দেয়া হয়। অবৈধ স্থাপনার কাজে কারা জড়িত, এমপি বদির সঙ্গে শুক্রবারের মধ্যে বৈঠকে বসে তা জানানোর কথা রয়েছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উখিয়ায় এ রকম কোন বৈঠক না হওয়ায় বক্তব্য নিতে এমপি বদির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: