কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে আচরণবিধি নিয়ে সতর্ক করা হলো প্রার্থীদের

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ প্রার্থী যত ক্ষমতাধরই হোন না কেন আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কোন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাঙালীর উৎসব পহেলা বৈশাখ পালনে কোন বাধা নেই। তবে কোন প্রার্থী এ উৎসবকে কেন্দ্র করে শোডাউন করতে পারবেন না। ভোটাররা যেন নির্বিঘেœ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ প্রদানের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল বাতেন। প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেয়া আমাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব যদি পরিপূর্ণভাবে পালন করতে না পারি তবে প্রয়োজনে চলে যাব। কিন্তু কোন অপশক্তির কাছে মাথানত করব না।

নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের আচরণবিধির বিভিন্ন দিক স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ঘুষ প্রদান, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভোটকেন্দ্রে আসার পথে বাধা প্রদান ইত্যাদি অপরাধের জন্য বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব অপরাধের সাজা সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল। এমন অপরাধে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের এক প্রার্থীর তিন বছরের জেল হয়েছিল বলে তিনি জানান। রিটার্নিং অফিসার বলেন, কারা ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করেন তা আমরা বুঝি। আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে আর যিনি আইন মানবেন তাঁর জন্য আমাদের দরজা সব সময় খোলা থাকবে।

প্রার্থীদের উদ্দেশে রিটার্নিং অফিসার আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালীর উৎসব। এ উৎসব পালনে কোন বাধা নেই। কিন্তু একে কেন্দ্র করে কোন প্রার্থী শোডাউন করতে পারবেন না। প্রার্থী নির্বাচনের লোগো ও প্রতীকসংবলিত টি-শার্ট, গেঞ্জি বা কোন উপহার বিলি-বণ্টন করতে পারবেন না। তিনি জানান, গুরুতর অপরাধের জন্য আমরা মামলা করতে বাধ্য হব। অপরাধ প্রমাণ হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজা প্রদান করবেন।

ছাপাখানায় ব্যস্ততা ॥ সীমিত আকারে প্রচারণা গত ৭ এপ্রিল থেকে চলে আসলেও তা এতদিন ছিল গণসংযোগ ও কুশল বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রতীক না থাকায় সে প্রচারণা জমে উঠছিল না। কিন্তু ১০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পর অন্যরকম ব্যস্ততা শুরু হয়েছে ছাপাখানাগুলোতে। মেয়র, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলরসহ মোট ২৮৫ প্রার্থীর পোস্টার ছাপানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে শুক্রবার। আগে থেকে অনেকেই সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। শুধু অপেক্ষা ছিল প্রতীকের। প্রতীক পাওয়ার পর পরই প্রার্থীদের লোকজন ছাপাখানামুখী। ফলে ছাপাখানার কর্মচারীদেরও যেন এখন দম ফেলার সুযোগ নেই। নগরীর আন্দরকিল্লা, আগ্রাবাদ, কালুরঘাটসহ ছাপাখানাপাড়ায় এই ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা বন্ধ ॥ সিটি নির্বাচনের পরিবেশ বিঘিœত হতে পারে বা নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের সংবর্ধনা বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার নগরীতে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু এ নিয়ে অভিযোগ ছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। কেননা, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন একজন ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি। চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা এলে বড় ধরনের শোডাউন হতে পারে, যা আ জ ম নাছিরের পক্ষে যাবে- এমন অভিযোগ ছিল বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশক্রমে এ আয়োজন বন্ধ করে দেয় আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়।

এদিকে, কমিশনের এ সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়- এমনই অভিমত মেয়রপ্রার্থী আ জ ম নাছিরের ঘনিষ্ঠজনদের। তাদের বক্তব্য, ক্রিকেটাররা জাতির জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। এজন্য তাঁরা সংবর্ধনা পাওয়ার যোগ্য। ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা প্রদান করলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া এটি আচরণবিধির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক নয়। তবে কমিশনের এ সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিয়েছেন।

বিপ্লবী বিনোদ বিহারীর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ॥ ১০ এপ্রিল শুক্রবার ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন সকালে নগরীর মমিন রোডের বিপ্লব কুটিরে গিয়ে প্রয়াত এ বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিপ্লবীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল কলকাতার একটি হাসপাতালে পরলোকগমন করেন বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী।

শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পরই শুরু হয় মূলত আসল নির্বাচনী কর্মকা-। একযোগে নেমে পড়েছেন সকল প্রার্থী। গণসংযোগ ছাড়াও চলছে পাড়া বৈঠক ও কর্মকৌশল ঠিক করার নানা আয়োজন। এদিন বিকেলেই স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে যে, ভোট এসে গেছে।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: