কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বর্ষবরণের আনন্দে ভাসছে দেশ, কেনাকাটার ধুম

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
বর্ষবরণের আনন্দে ভাসছে দেশ, কেনাকাটার ধুম
  • ব্যবসায়ীদের হালখাতার প্রস্তুতি

এম শাহজাহান ॥ আধার কেটে গেছে। পূবের আকাশে উঁকি দিচ্ছে নতুন সূর্য্য। যেন একটি নতুন সকালের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষারও অবসান হচ্ছে আর মাত্র দুই দিন পর ১৪২২ বঙ্গাব্দ। বাঙালীর সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ। হায়ানার পেট্রোলবোমায় বাতাস যখন ভারি ছিল পোড়া মানুষের গন্ধে, চারদিকে ছিল অস্বস্তি, ছিল অজানা আতঙ্ক। তবে হঠাৎ-ই যেন দানবের পতন! এবার এগিয়ে যাওয়ার নতুন শপথ। সব ব্যর্থতা, বেদনা, গ্লানি ও হতাশাকে পেছনে ফেলে বাংলা নতুন বছর বরণ করে নিতে ব্যস্ত বাঙালী।

সবার দৃষ্টি এখন বৈশাখী উৎসবকে ঘিরে। তাই সারাদেশের ন্যায় উৎসবের আমেজে ভাসছে রাজধানী ঢাকা। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সেই আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় চলছে। দেয়া হচ্ছে উপহার সামগ্রী। বেড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকা-। দেশের সব ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকা- এখন বৈশাখ উৎসবকে ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, বৈশাখ উৎসব সামনে রেখে সারাদেশে এখন বইছে আনন্দের হাওয়া। বাংলা নতুন বছর বরণ করে নিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্যবসায়ীরা হালখাতার চিঠি পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের গ্রাহকদের কাছে। ইলিশ মাছ কিনতে গৃহকর্তা ছুটে যাচ্ছেন কাঁচাবাজারে। আর শাড়ি ও ফতুয়া কিনতে গৃহিনীরা ভিড় করছেন মার্কেট, শপিংমল এবং মেগাশপে। পাড়া মহল্লায় চলছে বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি।

এ কারণে নগরীর মার্কেটগুলোতে এখন প্রচ- ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া বিপণী বিতানগুলোর পসরায় শোভা পাচ্ছে বৈশাখ উপলক্ষে রং-বেরঙয়ের পোশাক। ধুম বেচাকেনা চলছে। দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এসএ কাদের কিরণ জনকণ্ঠকে বলেন, পহেলা বৈশাখের তিন থেকে চার দিন আগে থেকে বেচা-বিক্রি বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এখন বৈশাখ উৎসবের বেচা-বিক্রি চলছে। দোকানগুলো নতুন কাপড়-চোপড়ে ভরিয়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসের হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার কারণে আমরা এ বছর বেচা-বিক্রির আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে মার্কেটগুলো জমে উঠেছে। আশা করা হচ্ছে, বৈশাখ উৎসবের বেচা-বিক্রিতে ব্যবসায়ীরা বিগত দিনের ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। সহিংসতা বন্ধ হওয়ায় ক্রেতারা মার্কেটে আসছেন। তিনি বলেন, আমরাও সম্মানিত ক্রেতাদের বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

এদিকে, রাজধানীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের চাহিদায় প্রাধান্য পাচ্ছে দেশী ফ্যাশনের পোশাক। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক অনন্য উৎসব পহেলা বৈশাখ। এ উৎসবকে ঘিরে তরুণ-তরুণীরা যেন একদিনের জন্য হলেও বাঙালী হতে চায়। তাই শুধু ঐতিহ্যের লালন নয়, দেশী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখছে পহেলা বৈশাখ। তরুণদের ফতুয়া-পাঞ্জাবি আর তরুণীদের দেশী ফ্যাশনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, মাটির অলঙ্কার, ফুল আর শুভেচ্ছা কার্ডই যেন দখল করে নেয় বৈশাখ উৎসবের বাজার। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোয়ও থাকে পান্তা-ইলিশসহ বাঙালী খাবারের সমাহার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনটিকে ঘিরে প্রতিবছর তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে। সরেজমিনে রাজধানীর গাউসিয়া, ধানম-ি হকার্স, গুলশান, উত্তরা, মৌচাক, র্যাঙ্কিন স্ট্রীট, মোহাম্মদপুর, বেইলি রোড, পল্টন, নিউ মার্কেট ও শাহবাগ ঘুরে দেখা গেছে পহেলা বৈশাখ ঘিরে বেশিরভাগ দোকানে রয়েছে বাড়তি আয়োজন। বেচাকেনাও সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ সময়ে দেশীয় ফ্যাশনের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে দেশীয় পোশাকের ব্র্যান্ড অঞ্জন’স, নিপুণ, রঙ, বাংলার মেলা, আড়ং, নবরূপা, নন্দন কুঠির, কিত্তন খোলা, নিত্যউপহার, প্রবর্তনা, চরকা, কে-ক্র্যাফট, গ্রামীণ সম্ভার, অন্যমেলা, চিলেকোঠা, সাদাকালো ও নীলাঞ্জনাসহ আরও কিছু দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পোশাক ব্যাপকভাবে কিনছেন ক্রেতারা। পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে শোরুমগুলোয় ভিড় লেগে আছে সব সময়।ছেলেদের ফতুয়া-পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে বেশি। এছাড়া মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, বাচ্চাদের ফ্রক ও সালোয়ার-কামিজের চাহিদা বেশি।

জানা গেছে, বৈশাখ ঘিরে দেশের বুটিক ও ফ্যাশন হাউসগুলো নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে হাজির হচ্ছে। দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণী তাদের বৈশাখী পোশাকের জন্য এ সব বুটিক ও ফ্যাশন হাউসে এসে ভিড় করছেন। রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার বুটিক ও ফ্যাশন হাউস রয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট, জিঞ্জিরা এবং নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে বৈশাখ পোশাক। এ সব পোশাক এখন শোভা পাচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে।

এ প্রসঙ্গে বারিধারার অপ্সরী বুটিক হাউসের স্বত্বাধিকারী পলি আক্তার জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছরবৈশাখী জামা-কাপড়ের চাহিদা বেড়ে চলেছে। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জায়গার উদ্যোক্তারা এ সব পোশাক সরবরাহ করে থাকেন। তিনি বলেন, বুটিক ও ফ্যাশন হাউসগুলো পাইকারি দরে পোশাক কিনে এনে বিক্রি করছেন। এবারের পহেলা বৈশাখের উৎসবে শতাধিক ভিন্ন ডিজাইন ও ভিন্ন নামের বৈশাখী পোশাক বাজারে আনা হয়েছে। গাউছিয়া মার্কেটের জ্যোতি শাড়ি হাউসের ম্যানেজার এমএ সালাম বলেন, এবার বৈশাখী শাড়ির চাহিদা বেড়েছে। আশা করছি, ভাল ব্যবসা হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫টি ডিজাইনের নতুন শাড়ি আনা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা হালখাতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ॥ বাংলা নববর্ষ সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা হালখাতা করার প্রস্তুতিতে রয়েছেন। এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য গ্রাহকদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বাড়ানো। এছাড়া এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সারাবছরের বকেয়াও আদায় করার সুযোগ পান। এজন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের প্রায় সব ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা হালখাতা করে থাকেন। রাজধানীঢাকায় স্বর্ণ, ফার্নিচার ও আবাসন ব্যবসায়ীরা নববর্ষের শুভেচ্ছা হালখাতার দাওয়াত সম্বলিত চিঠি ইতোমধ্যে তাদের গ্রাহকদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। হালখাতার দিন গ্রাহকদের দেশীয় খাবার, ফলমূল ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। এছাড়া হালখাতা নতুন বাংলা বছরের হিসাব টুকে রাখার জন্য নতুন খাতা খোলায় এক আনুষ্ঠানিক উৎসব। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাপ্তান বাজারের জামশেদ স্টোরের ম্যানেজার আব্দুল গনি বলেন, আমরা আমাদের সকল গ্রাহককে হালখাতার চিঠি পাঠিয়েছি। পহেলা বৈশাখে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়িত করা হবে।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: