আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীর বাইরে থেকে নেতাকর্মী জড়ো করছে বিএনপি

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

শরীফুল ইসলাম ॥ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জড়ো করছে বিএনপি। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে ইতোমধ্যেই তারা রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে।

জানা যায়, রাজধানীতে অবস্থানকারী বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে যাওয়ায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে পারছে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি হাইকমান্ড ঢাকার বাইরের জেলা থেকে কম পরিচিত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজধানীতে জড়ো করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদেরকে নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনের বাসায় অবস্থান করে যে যেই এলাকায় অবস্থান করবে তাকে সেই এলাকায়ই বিভিন্ন কৌশলে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আসছে সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরিচিতি সভা উপলক্ষে বড় ধরনের শোডাউনের চেষ্টা করছে বিএনপি। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও ঢাকার বাইরে থেকে অনেক লোক জড়ো করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, দলের অনেক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং আরও অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকায় এখনও রাজধানীর ২ সিটিতে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে পারেনি বিএনপি। তবে দু’এক দিনের মধ্যেই তা জোরদার করতে নানামুখী কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি। জানা যায়, বাহ্যিক দৃষ্টিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এতদিন বেকায়দায় থাকলেও দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভেতরে ভেতরে নানামুখী কৌশল নেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, সরকারকে চাপে রাখতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার কথা বললেও বিএনপি হাইকমান্ড ধরেই নিয়েছেন বর্তমান সরকার খুব একটা ছাড় দেবে না। তাই দলীয় মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভেতরে ভেতরে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা অনুসারে নিজ নিজ এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী ও সমর্থকরা কৌশলে প্রচারণা জোরদার করছেন। যে সব প্রার্থীরা এখনও আত্মগোপনে আছেন তারা আত্মীয়-স্বজন ও মহল্লাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাদের পক্ষে ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীরাও কাজ করছেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে দক্ষিণে হেভিওয়েট প্রার্থী দিতে পারলেও উত্তর নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় আছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ইতোমধ্যেই প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছেন। তবে ঢাকা উত্তর সিটিতে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই বিএনপি তার ছেলে তাবিথ আউয়ালকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে বয়সে নবীন ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি তাবিথ আউয়ালের পক্ষে খালেদা জিয়ার নির্দেশে ইতোমধ্যেই দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ শুরু করেছেন। হাইকমান্ডের নির্দেশে ২ সিটির ৯৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও সুনির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১ হাজার ১ সদস্যের নাগরিক কমিটি কাজ করলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে দলের বেশ ক’জন নেতা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আর ঢাকার বাইরে থেকে এসে যারা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করতে থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যখনই প্রয়োজন হয় খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেনে নেন। এরপর তিনি সময় সময় খালেদা জিয়ার পরামর্শ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সব কাজের সমন্বয় করেন। কোন কারণে দলের কোন নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ঠিকমতো কাজ না করলে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সরাসরি তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়।

রাজধানীতে প্রকাশ্যে হাকডাক দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে না পারলেও স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা গোপনে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করছেন। বিশেষ করে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এবং পারিবারিক গ-িতে ঘরোয়া বৈঠকের মধ্য দিয়ে কোন পদে দলীয় প্রার্থী কে এবং কোন পদে কাকে ভোট দিতে হবে সে বিষয়ে জোরালো প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারী দলের প্রার্থীদের পক্ষে এখনও এ ধরনের প্রচারণা শুরু না হওয়ায় এলাকাভিত্তিক প্রচারে বিএনপি-জামায়াত এ কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সব প্রচার কার্যক্রমে রাজধানীর বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত দীর্ঘদিনের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী বিফল হওয়ায় নানা মহলের পরামর্শে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরে গিয়ে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেন। দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে প্রতিদিনই তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন সমস্যা না থাকলে তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার কাজে অংশ নেয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর ২ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নানামুখী চেষ্টা চলছে। দলের অনেক নেতাকর্মী এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারা প্রচার কাজে অংশ নিতে পারছেন না। তবে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজস্ব কৌশলে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করছে। ঢাকার বাইরে থেকেও ত্যাগী নেতাকর্মীরা এসে দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। তাই সরকারী দল যত হাকডাকই দিক না কেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ব্যালটেই বিজয় ছিনিয়ে আনবে। এর আগে ৬ সিটিতে যেভাবে বিএনপির বিজয় হয়েছে এবারও তাই হবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: