মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীতে বিলবোর্ডে মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
রাজধানীতে বিলবোর্ডে মৃত্যুফাঁদ

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ মালিবাগ রেল গেটের সামনের ব্যস্ততম রাস্তার ওপর টাঙ্গানো হয়েছে বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড। ঝড় কিংবা অন্য কোন কারণে তা ভেঙ্গে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর কাকরাইল মোড়েও! কিন্তু কেন? এর আগে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিলবোর্ড টাঙ্গাতে চোখে পড়েনি। তবে এসব বিলবোর্ডের কোন অনুমোদন আছে কিনা তা চেনার উপায় নেই। এ চিত্র গোটা রাজধানীজুড়ে। কোথাও কোথাও সারি-সারি বিলবোর্ড। কোথাও বাসা বাড়িতে উঠেছে। এক কথায় বললে নিজের ইচ্ছেমতো বিলবোর্ড বাণিজ্য চলছে নগরজুড়ে। গত কয়েকদিনে বিলবোর্ড ভেঙ্গে অন্তত ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। নগরবাসীর কাছে এখন আতঙ্কের নাম বাণিজ্যিক বিলবোর্ড। প্রতিটি বিলবোর্ডই এখন মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিলবোর্ডের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। নগরীর ভোটাররাও প্রার্থীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানাচ্ছেন। প্রার্থীরা জনস্বার্থে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে এ নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। পাশাপাশি ভোটাররা চান দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সকল বিলবোর্ড অপসারণ করা হোক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনুমোদনহীন বিলবোর্ডে অনেকটাই ঢেকে গেছে ঢাকার ব্যস্ত সড়কের আশপাশ ও ভবন। দেখভালে কর্তৃপক্ষ থাকলেও নেই তাদের কর্তৃত্ব। সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদন ছাড়া বিলবোর্ড স্থাপন বেআইনী হলেও এ নিয়ে শাস্তির বিধান নেই। আর তাই পার পেয়ে যাচ্ছেন অবৈধ স্থাপনকারীরা। নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা সিটিতে সর্বোচ্চ ছয় শ’ বর্গফুট আয়তনের মধ্যে বিলবোর্ড নির্মাণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো যে বিলবোর্ড স্থাপন করছেন তার আয়তন এক হাজার থেকে ১২শ’ বর্গফুটের মধ্যেই থাকে বলে সিটি কর্পোরেশন বলছে। বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড নির্মাণের ফলে ঝুঁকিও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কোন কোন সময় ঝড়ো বাতাসে এসব ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। গত শনিবার এমনই একটি ঘটনায় বিজয় সরণিতে প্রাণ হারান দুই নির্মাণ শ্রমিক। শাহবাগে বিলবোর্ড ভেঙ্গে আহত হন একজন সংসদ সদস্য ও তার গাড়িতে থাকা কয়েক সঙ্গী। একই দিন ঝড়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক বিলবোর্ড ভেঙ্গে পড়ার ঘটনাও ঘটে। এসব বিষয়ে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপনের জন্য কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। তবে সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় অবৈধ বিলবোর্ডগুলো ভেঙ্গে বাজেয়াফত করা হয়। অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, যে কোন বিলবোর্ডের পেছনে সিটি কর্পোরেশন বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারী দফতরের অনুমোদন নম্বর লেখার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা অনুপস্থিত। সে কারণে কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আমরা যেগুলোর অনুমোদন দেই সেগুলো নিয়ম মেনে বসানো হয় না। অনুমোদন পেয়ে বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো নির্ধারিত আয়তনের বাইরে বিলবোর্ড স্থাপন করে।

ঢাকায় বিলবোর্ড কত ॥ সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় বৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা প্রায় এক হাজার ২শ’। অবৈধের সংখ্যা কয়েক হাজার। ডিসিসি দক্ষিণের বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে জানা যায়, গত দেড় বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৯৮ অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড কাটা হয়েছে। এ অঞ্চলে বিলবোর্ড-মেগাসাইন, মিনিপোল, ইলেক্ট্রিক সাইন মিলে ছোট-বড় সাত শতাধিক বিলবোর্ডের অনুমোদন রয়েছে। তবে বাস্তবে যে কতসংখ্যক বিলবোর্ড রয়েছে তার সঠিক হিসেব নেই। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিলবোর্ড ইজারার দায়িত্বে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, ডিএনসিসির অনুমোদন নিয়েও অনেকে বড় আকৃতির বিলবোর্ড নির্মাণ করে বসে। এক হাজার থেকে ১২শ’ বর্গফুট আয়তনের বিলবোর্ডও বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এসব বিষয় তদারকিতে কর্পোরেশনের দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

বিপন কুমার সাহা বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। অবৈধ বিলবোর্ড নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হয়। লোকবলের অভাবে এ ধরনের অভিযান সব সময় করা সম্ভব হয় না। এছাড়া বিলবোর্ড ভাঙার জন্য শক্তিশালী ক্রেনও সিটি কর্পোরেশনের নেই। অন্যায়ভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করলে ১৯৮৬ সালের রাজস্ব আইনের ৭০(২) ধারা অনুযায়ী মামলা করা যাবে। এর বাইরে আর কোন আইন নেই।

জানতে চাইলে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিকল্পনাবিদ স্থপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ভূমিতে অর্থাৎ রাস্তার পাশে বা খোলা জায়গায় কোন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয় তবে তার নিয়ন্ত্রণ সিটি কর্পোরেশন করে থাকে। কিন্তু কোন ব্যক্তি মালিকানা বা প্রতিষ্ঠানের ভবনে স্থাপন করা বিলবোর্ড কাঠামোগত বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন দেখে না।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: