কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হত্যাসহ অর্ধ ডজন মামলার আসামি নিয়োগ পেল স্কুলে!

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
  • শিবির ক্যাডারের চাকরির নেপথ্যে আওয়ামী লীগ নেতার বাণিজ্য

মীর শাহ আলম, কুমিল্লা ॥ নাঙ্গলকোটের বেলঘর গোসাইবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরিতে নিয়োগ পেলেন হত্যা, গাড়ি ভাংচুর, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, বাসে আগুন, রেললাইন উপড়ে ফেলা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, পুলিশ আহত করা, নাশকতাসহ কমপক্ষে অর্ধডজন মামলার আসামি দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার মোঃ জাকির হোসেন। এ নিয়োগের নেপথ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যোগসাজশে ৫ লাখ টাকা নিয়োগবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিবির ক্যাডার জাকির হোসেন জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার মেরকোট গ্রামের আলী আকবরের পুত্র। এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত চলছে।

প্রাপ্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেলঘর গোসাইবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের জন্য প্রথম পর্যায়ে একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে শিবির ক্যাডার জাকির হোসেন ওই নিয়োগ পরীক্ষায় আল-এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সার্টিফিকেট জমা দিলে ওই সার্টিফিকেটটি জাল বলে প্রমাণিত হয়। এতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান ওই নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল করেন। দু’মাস পর পুনরায় অপর একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে ওই শিবির ক্যাডার জাকির হোসেন রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট জমা দিয়ে আবারও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রথমবারে আল-এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ও দ্বিতীয়বারে রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সার্টিফিকেট নিয়ে শিবির ক্যাডারকে নিয়োগের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানায়, নিয়োগপ্রাপ্ত জাকির হোসেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ও পরে বিভিন্ন সময়ে হরতাল-অবরোধে গাড়ি ভাংচুর, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, বাসে আাগুন, রেললাইন উপড়ে ফেলা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্যসহ নাশকতার বিভিন্ন অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ৩টি মামলায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় বিভিন্ন অপরাধে ৩-৪টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে মেরকট গ্রামের সুমন মিয়া লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করলে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুল ইসলাম জানান, নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাকির হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রথম সাক্ষাতকার বোর্ডে আল-এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট জমা দেন ও পরবর্তী সাক্ষাতকার বোর্ডে রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সার্টিফিকেট জমা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে সার্টিফিকেট জাল প্রমাণিত হলে এ নিয়োগ বাতিল করা হবে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সভাপতি জানেন। উপজেলার সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান জানান, ওই সাক্ষাতকার বোর্ডে ডিজির প্রতিনিধি আসতে পারেননি। তবে বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তা ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপার। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জীবন কৃষ্ণ গোস্বামী জানান, সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক জাকির হোসেন শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগে সদ্য যোগদান করেছেন। নিয়ম মেনে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল আরিফ জানান, এ বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোনাজের রশিদ জানান, অভিযোগের তদন্ত চলছে। এখন এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: