আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

খোলা আকাশের নিচে ক্লাস

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫
  • বাগেরহাট বাসাবাটি প্রাথমিক স্কুল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ বাগেরহাট বাসাবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা বিশিষ্ট ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার দীর্ঘ দেড় বছর পার হলেও শুরু করা হয়নি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ। সরকারী নিয়ম রক্ষার্থে অনেকটা বাধ্য হয়ে ভবনের পাশে জরাজীর্ণ টিনশেডে সাড়ে ৩শ’ ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপদাহ ও বর্ষার পানি মুুলিবাঁশের তৈরি বেড়া ভেদ করে শ্রেণী কক্ষে ঢুকে পড়ায় বাধ্য হয়েই বিদ্যালয়ের বাইরে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এ অবস্থায় অনেক অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে ছাত্রছাত্রীদের দুরবস্থা। খোদ বাগেরহাট পৌরসভার অভ্যন্তরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করুণ অবস্থা চলছে দিনের পর দিন।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বাসাবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণ হয়। পরে ২০০১ সালে এলাকাবাসীর আপত্তি সত্ত্বেও ওই দ্বিতল ভবনের ওপর নতুন করে তৃতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ নির্মাণ কাজে নানাবিধ ত্রুটির কারণে তখন থেকেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিন তলাবিশিষ্ট ওই বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের রেখে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ২০১৩ সালের ৫ জুন বিদ্যালয়টির ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর ওই বছরের ৬ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরীভাবে পরিত্যক্ত ভবনের কিছ দূরে মাঠের মধ্যে টিনশেডের কাঁচা ঘর তৈরি করা হয়। এ সময়ে ওই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীসহ ৫ম শ্রেণীতে মোট ৩শ’ ২২ ছাত্রছাত্রী ছিল। সাময়িক সময়ের জন্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য টিনশেডের তৈরি শ্রেণীকক্ষের এখন চরম দুবরস্থা। টিন নষ্ট হয়ে গেছে, বাঁশের তৈরি বেড়ারও খারাপ অবস্থা। বৃষ্টি কাদায় ছাত্রছাত্রীদের চরম দুরবস্থা। তার মধ্যে চলছে ক্লাস। দীর্ঘদিনেও শুরু হয়নি ওই বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা বুলবুল জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণীকক্ষের চরম দুর্দশার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হয়েই কর্দক্ত শ্রেণীকক্ষে বসিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন। অতিরিক্ত তাপদাহ ও বৃষ্টি হলেই শ্রেণীকক্ষে আর ক্লাস নেয়ার মতো পরিবেশ থাকে না তখন শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষের বাইরে খোলা মাঠে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেন। দেড় বছর হয়ে গেল সাময়িক সময়ের জন্য নির্মিত শ্রেণী কক্ষের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। স্কুলের এ দুরবস্থার কারণে বর্তমানে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামুল হক বলেন, অনেক আগে পরিত্যক্ত ওই স্কুল ভবনের পাশে উপজেলা প্রশাসন জরুরী ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেবার জন্য তিনটি কক্ষ তৈরি করে দেয়। এখনও সেখানে চলছে ক্লাস। ওই স্কুলের দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে যথাযত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে পুরাতন ভবনের স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য লিখিত আবেদন করা হলেও এখনও কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল ২০১৫

১১/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: