মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অবশেষে ফেড কাপে খেলছেন শারাপোভা

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫
অবশেষে ফেড কাপে খেলছেন শারাপোভা
  • সেমিফাইনালে রাশিয়ার প্রতিপক্ষ জার্মানি, চেকপ্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি ফ্রান্স

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবশেষে ফেড কাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাশিয়ান টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা। তার খেলার বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার টেনিস ফেডারেশন। মূলত ব্যস্ত সূচীর কারণেই ফেড কাপ থেকে দূরে সরে দাঁড়ান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নাম্বার তারকা মারিয়া শারাপোভা। কিন্তু এবার তিনি খেলছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। আর রাশিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা তাকে অলিম্পিকের জন্যও সহায়তা করবে। ফেড কাপে এবার রুশদের প্রতিপক্ষ জার্মানি। আগামী ১৮ থেকে ১৯ এপ্রিল জার্মানদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে শারাপোভার দল। ফেড কাপে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাশিয়া। এবারও তাদের লক্ষ্য শিরোপা জেতা। সেই লক্ষ্যেই মারিয়া শারাপোভাকে দলে নিতে মরিয়া ছিল রুশ টেনিস ফেডারেশন। অবশেষে সফল হলো তারা। আর টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক শীর্ষ তারকা শারাপোভাকে পেয়ে যেন শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাসটা বহুগুণেই বেড়ে গেছে তাদের। কেননা শারাপোভাই তাদের দলের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বিশ্বটেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা ২০ এর মধ্যে আছেন। রুশদের অধিনায়ক হিসেবে খেলবেন এ্যানাস্তাসিয়া মিসকিনা। এছাড়া দলের অন্য খেলোয়াড়রা হলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের ২৫ নাম্বারে থাকা সভেতলানা কুজনেটসোভা, ৩৮ নাম্বার তারকা এ্যানাস্তাসিয়া পাভলিউচেঙ্কোভা। তাদের সঙ্গে আছেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭১ নাম্বারে থাকা এলিনা ভেসনিনা।

তবে রাশিয়ার মারিয়া শারাপোভাকে নিয়েই যত ভয় জার্মানির। এ বিষয়ে জার্মানির অধিনায়ক বারবারা রিটনার বলেন, ‘মারিয়া শারাপোভা ব্যতিক্রমধর্মী খেলোয়াড় এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার নেতৃত্বে রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে। এছাড়া ম্যাচটা হবে তাদের নিজেদের মাঠে। তবে আমাদেরও সুযোগ আছে।’

রাশিয়া এবং জার্মানি এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছিল। তার মধ্যে তিনবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাশিয়া। একবার শিরোপা জিতে জার্মানি। শেষবার তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল ২০০২ সালে। সেবার গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ডে রাশিয়ার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জার্মানি। এবার তারা সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই মরিয়া। রাশিয়া ফেড কাপে চারবার শিরোপা জিতলেও জার্মানদের এই সংখ্যাটা দ্বিতীয়। ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো ফেড কাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে জার্মানি। দ্বিতীয়টি ১৯৯২ সালে। এবারের জার্মান দলটি বেশ শক্তিশালী। র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা বিশের মধ্যে যেমন রাশিয়ানরা কেবল একজনকে পাচ্ছেন সেক্ষেত্রে জার্মানদের সংখ্যাটা বেশি। বর্তমান টেনিস বিশ্বে যে কজন তারকা খেলোয়াড় রয়েছেন তাদের মধ্যে জার্মানির আন্দ্রেয়া পেটকোভিচ, এ্যাঞ্জেলিক কারবার, সাবিনে লিসিকি এবং জুলিয়া জর্জেস। তারা প্রত্যেকেই এবার ফেড কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারে নামবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ফেড কাপের প্রথম পর্বে রাশিয়া পোল্যান্ডেকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের সেমিফাইনালে উঠেছিল। সেই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রাশিয়ান টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা। তাই এবার সেমিফাইনালের ম্যাচেও দেখা যাবে মাশার ঝলক। আগামী ১৮-১৯ তারিখে রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠিত হবে জার্মানর বিপক্ষে ম্যাচটি। ফেড কাপে রাশিয়ার অভিষেক ঘটেছিল ২০০৮ সালে। কিন্তু এরপর থেকে তিনি এই টুর্নামেন্টে খেলেছেন চারবার। গত মৌসুমে খেললেও রাশিয়ানরা ব্যর্থ হয় নিজেদের মেলে ধরতে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে গ্রুপ পর্বে হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল তারা। এবার সেই লজ্জা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় রুশরা। সেক্ষেত্রে ২৭ বছর বয়সী মারিয়া শারাপোভাকেই রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এছাড়া ফেড কাপের অন্য সেমিফাইনালে চেকপ্রজাতন্ত্র খেলবে ফ্রান্সের বিপক্ষে। আর সেই ম্যাচ হবে অস্ট্রাভায়।

গোল- রিয়ালের জার্সিতে রোনাল্ডোর ৩০০

স্প্যানিশ লা লিগা, মাইলফলক স্পর্শের ম্যাচে নিষিদ্ধ সি আর সেভেন, বার্সিলোনার বড় জয়ে জোড়া গোল সুয়ারেজের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রতিযোগিতমূলক ফুটবলে গৌরবময় ‘৩০০’ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বুধবার রাতে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে এক গোল করে অনন্য এই কীর্তি গড়েন বর্তমান ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। সি আর সেভেনের মাইলফলকের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক রায়ো ভায়োকানোকে। পর্তুগীজ সুপারস্টারের রেকর্ড গড়া রাতটি অবশ্য পরিপূর্ণ তৃপ্তির হয়নি। কেননা অপ্রত্যাশিত হলুদ কার্ড দেখায় এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের জয়ের রাতে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বার্সিলোনা। নিজেদের মাঠে বার্সা ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় অতিথি আলমেরিয়াকে। ন্যুক্যাম্পে কাতালানদের হয়ে জোড়া গোল করেন উরুগুইয়ান তারকা লুইস সুয়ারেজ। ইনজুরি কাটিয়ে প্রথম গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি। স্বাগতিকদের অপর গোলদাতা মার্ক বাট্টা। দুর্দান্ত জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখাসহ রিয়ালের চেয়ে চার পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থাকল লুইস এনরিকের দল। ৩০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৪ পয়েন্ট বার্সিলোনার। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট দুইয়ে থাকা রিয়ালের।

এ্যাওয়ে ম্যাচে শুরুতে বেশ ভুগতে হয় রিয়ালকে। প্রথমার্ধে তো স্বাগতিক ভায়োকানো সমানতালে লড়াই করতে থাকে। ম্যাচের ২৩ মিনিটে বল জালে ঢুকিয়ে ছিলেন গ্যারেথ বেল। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। বিরতির আগে উল্টো পিছিয়ে যেতে পারত রিয়াল। ভায়োকানোর রবার্তোর হেড দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস। বিরতির পর রোনাল্ডোকে ডি বক্সে ফাউল করলেও পেনাল্টি পায়নি কার্লো আনচেলত্তির দল। উল্টো রেফারি রোনাল্ডোকে হলুদ কার্ড দেখান ডাইভ দেয়ার অভিযোগে! সি আর সেভেন ছাড়াও ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন রিয়ালের জেমস রড্রিগুয়েজ, টনি ক্রুস, গ্যারেথ বেল ও ড্যানিয়েল কারভাজাল। এর মধ্যে তিনজন খেলতে পারবেন না পরবর্তী ম্যাচ। রোনাল্ডো, রড্রিগুয়েজ ও ক্রুস এ নিয়ে মৌসুমে পাঁচটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। লা লিগার নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ হলুদ কার্ড দেখা খেলোয়াড় লীগে পরের ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। লা লিগায় রিয়ালের পরের ম্যাচটি আগামী শনিবার সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে এইবারের বিরুদ্ধে।

এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পরই মাইলফলক স্পর্শের গোলটি করেন রোনাল্ডো। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে ডি বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ক্রস দেন কারভাজাল। অরক্ষিত দাঁড়িয়ে থাকা রোনাল্ডো ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান। চলমান মৌসুমে লা লিগায় এটি পর্তুগীজ তারকার ৩৭ নম্বর গোল। ৩৩ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বার্সিলোনার লিওনেল মেসি। ২৮৮ ম্যাচে ৩০০ গোলের অনন্য মাইলফলক ছুঁয়েছেন পর্তুগীজ মহাতারকা। রিয়ালের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এ কীর্তি গড়েছেন রোনাল্ডো। এর আগে তিনশ’ বা তার বেশি গোল করা দু’জন হলেন সাবেক স্প্যানিশ স্ট্রাইকার রাউল গঞ্জালেস (৩২৩) ও আর্জেন্টাইন তারকা আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (৩০৮)। ৭৩ মিনিটে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন রড্রিগুয়েজ। রোনাল্ডোর কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান ব্রাজিল বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতা কলম্বিয়ান তারকা।

ন্যুক্যাম্পে আলমেরিয়ার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাক বার্সা। ম্যাচে দলের অন্যতম বড় তারকা নেইমারকে মূল একাদশে রাখেননি কোচ এনরিকে। তবে মেসি-সুয়ারেজ ব্রাজিলিয়ান তারকার অভাব বুঝতে দেননি। ৩৩ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। লীগে এটি মেসির ৩৩ গোল। বিরতির পর ৫৫ মিনিটে দলের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম গোল করেন সুয়ারেজ। ৭৫ মিনিটে জাভির কর্ণার থেকে হেডে গোল করে বার্সার জয় নিশ্চিত করে বাট্টা। পাঁচ মিনিট পর ফের বল জালে জড়ান মেসি। কিন্তু ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে গোল বাতিল করেন রেফারি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে অফসাইডের কারণে আলমেরিয়ার একটি গোলও বাতিল হয়। তখনই পাল্টা আক্রমণে দলের চার নম্বর ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সুয়ারেজ। পেড্রোর ক্রস থেকে গোল করেন তিনি। এটি লীগে উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডের দশম গোল।

ম্যাচ শেষে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখেছেন সুয়ারেজ। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এ ম্যাচ জিতে আমরা পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছি। শিরোপা জিততে হলে এর কোন বিকল্প নেই। মানসিকভাবে দলের সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। হোঁচট খেলেই শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কা থাকবে। এখন লীগের শেষদিকের খেলা বাকি। এ প্রসঙ্গে সুয়ারেজ বলেন, সামনের প্রত্যেক ম্যাচই কঠিন হবে। আমাদের অবশ্যই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

১০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: