আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দূষিত পানি ভেজাল খাদ্য

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

প্রতিনিয়ত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যে খাবার ও পানি খাচ্ছে তা কতটা নিরাপদ, সে নিয়ে ভাবনাটা অনেকেরই নেই। শুধু উদরপূর্তিতেই সন্তুষ্ট জনসংখ্যার আধিক্য বিশ্বজুড়ে। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত না হলে নিরাপদ জীবনও হয় না। আর তা হয় না বলেই বাড়ে রোগ-শোক, বাড়ে হাসপাতাল, ক্লিনিকে রোগীর সংখ্যা। সেইসঙ্গে বাড়ে মানুষের মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বে প্রতি বছর ভেজাল ও দূষিত খাদ্য ও পানির কারণে রোগে-শোকে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায় ২০ লাখ মানুষ। যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। খামার থেকে বাড়ি পর্যন্ত খাবার নিরাপদ রাখার কথা বলা হয়, কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ সবাই করে তা বলা যায় না। সাধারণ মানুষ সহজলভ্য যা পায় তাই খায়। খেয়ে ভোগে রোগে।

জীবন বাঁচাতে মানুষের প্রধান অবলম্বন খাদ্য। আর তৃষ্ণা মেটাতে পান করে পানি। কিন্তু এসব খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর, কতটা জীবন হরণকারী, তার প্রতি দৃষ্টিপাত তেমন করেন না অনেকেই। খাবারের মাধ্যমে যে বিষ গিলছে তা উপলব্ধি করার সুযোগও নেই। এই বিষ ধীরে ধীরে এগিয়ে দিচ্ছে মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের দিকে। ভেজাল ও দূষিত খাদ্য এবং পানিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইটস, ভাইরাস ও নানা রাসায়নিক পদার্থের কারণে ২ শতাধিক রোগ বিস্তার লাভ করে। লাখ লাখ মানুষ এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের কেউ কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বহু অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা করেও কেউ কেউ রোগ হতে পরিত্রাণ পায় না।

বলা হয়, ‘নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার’। কিন্তু এই নিরাপদ খাবার প্রাপ্তি দুরূহ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর আইন থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় তা নয়। চিকিৎসকরা বলে আসছেন, অনিরাপদ খাবার থেকে স্নায়ুবিক রোগ, এমনকি ক্যান্সারও হয়ে থাকে। খাবারের সমস্যা থেকে সাধারণত যেসব উপসর্গ বেশি দেখা যায় তার মধ্যে আছে পেট ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া। খাবারের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ধাতব কিংবা প্রাকৃতিকভাবে থাকা টক্সিনের কারণে এমন হয়ে থাকে। অপরদিকে ভেজাল দুধ একাধিক কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার হিসাবে ডায়রিয়াতে প্রতিবছর ১০ লাখ শিশু মারা যায়। আর খাবার ও পানি থেকেই এই রোগের উৎপত্তি। খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধ অনেকটাই সম্ভব সঠিকভাবে খাবার তৈরির ওপর। কিন্তু এই নিরাপদ খাবার অধিকাংশ মানুষই তৈরি করতে পারে না। মুক্তবাজারের যুগে বিশুদ্ধ খাবার ও পানি মহার্ঘ হয়ে পড়ছে। তাই দূষিত পানি ও ভেজাল খাদ্য রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা এখন পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে সরকার, শিল্পকারখানা ও উৎপাদক এবং ভোক্তা পর্যায়ে সর্বাধিক দায়িত্বশীল হওয়া জরুরী।

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

১০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: