মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাদ্রাসা শিক্ষা

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

সমাজে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু স্বাধীনতা অর্জনের বহু আগে থেকেই। এক সময় গ্রামীণ হাজারো পরিবারের অবস্থা ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। সেকালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যেত অসচ্ছল ধর্মভীরু পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠাতেন ব্যয়স্বল্পতার কথা বিবেচনা করেই। অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের ছেলেমেয়েরা যেত সাধারণ বিদ্যালয়ে। ফলে আমরা চাই আর না চাই ধীরে ধীরে দু’ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতর একটি দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সরকারী উদ্যোগে কিছু কিছু পরিবর্তন অবশ্য আসতে থাকে। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সরকারী সংস্থার প্রণীত শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে অনুমোদিত মাদ্রাসা সরকারী অনুদান পেয়ে থাকে। সরকারী অনুদানপুষ্ট অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই এখন সীমিতভাবে হলেও বাংলা, ইংরেজী এবং বিজ্ঞান শিক্ষা প্রচলিত আছে। মাদ্রাসা শিক্ষা শেষে অনুমোদিত ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত স্নাতকদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তির সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০২ সালে বাংলাদেশে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ছিল ১৪,৯৮৭টি, দাখিল ৬,৪০২টি, আলিম ১,৩৭৬টি, ফাজিল ১,০৫০টি এবং কামিল ১৭২টি। এছাড়া সে সময় কওমি মাদ্রাসা ছিল প্রায় ৩,০০০টি। অস্বীকারের উপায় নেই যে, শেষোক্ত মাদ্রাসা নিয়ে কিছু কিছু বিতর্ক তৈরি হয়ে গেছে। বিগত এক দশকে রেজিস্টার্ড কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পনেরো হাজারেরও ওপরে। কিছুটা অস্বাভাবিক এ বৃদ্ধি। গত মঙ্গলবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য প্রাক বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা মারাত্মক বিপজ্জনক। এরা সরকারের কাছ থেকে কোন বরাদ্দ নেয় না। এ বিষয়ে ভেবে দেখতে হবে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে নিজ নিজ কারিকুলামে সারাদেশে ১৯টি বোর্ডের অধীনে কওমি মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এসব মাদ্রাসা থেকে প্রদত্ত সনদের সরকারী স্বীকৃতি নেই। ফলে কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা প্রচলিত শিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মতো চাকরিতে আবেদনের সুযোগ পান না। পিছিয়ে পড়া এসব শিক্ষার্থীকে মূলধারায় নিয়ে এসে সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকার একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেয় ২০১৩ সালে। আলেমদের একটি অংশ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়, আরেক অংশ আবার এটি প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। এই স্পষ্ট বিভক্তির ফলে কালোপযোগী উদ্যোগটি স্থগিত হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন আলেম ও ইসলামী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। কওমি মাদ্রাসার জন্য গঠিত কমিশন নীতিমালা তৈরি করেছে। আমি চাই যারা মাদ্রাসা থেকে বের হচ্ছে তারা যেন সার্টিফিকেট পায়। আমাদের লক্ষ্য তারা যেন চাকরি পায়।’

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কিছুটা সমস্যা ও বিভ্রান্তি সমাজে সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা মানেই যেমন জঙ্গীদের আস্তানা নয়, তেমনি বিভিন্ন সময় আটককৃত জঙ্গীবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকাংশই মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত- এটাও অনস্বীকার্য। তবু দুয়ে দুয়ে চার মেলানো অযৌক্তিক। আমরা মনে করি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার সময় এসেছে। মাদ্রাসা ছাত্রদের সমাজের মূল স্রোতধারায় সংযুক্ত ও সমন্বিত করে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে এই শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করার কথা উচ্চারিত হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকেই। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্তে আসার পথ খুঁজে বের করতে হবে।

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০১৫

১০/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: