আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বলিউড ॥ লীলারূপী সানি লিওন

প্রকাশিত : ৯ এপ্রিল ২০১৫
  • নিবিড় লতিফুল বারী

সানি লিওনের বলিউডে যাত্রা শুরু করার পর অনেকেই সন্দিহান ছিলেন তার কাজের সাফল্যের ব্যাপারে। কিন্তু তিনি সকলকেই ভুল প্রমাণ করেছেন তাঁর মুভি সিলেকশন দিয়ে, যার সর্বশেষ প্রমাণ আগামী ১০ এপ্রিল মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘এক পাহেলি লীলা’।

পর্নো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বলিউডে যাত্রা শুরু ‘জিসম-২’ দিয়ে। একে একে করে গেছেন ‘রাগিনী, এমএমএস-২’, ‘হেট স্টোরি-২’, ‘জ্যাকপট’ ইত্যাদি ছবিতে। আইটেম সং-এ নেচেছেন ‘শুট আউট ওয়াদালা’ ছবিতেও। ‘এক পাহেলি লীলা’-তে অভিনয় করতে যেয়ে নিজেকে পরিণত অভিনেত্রী মনে হচ্ছে তার। ‘দর্শকরা আমাকে একজন ড্যান্সার ও অভিনেত্রী হিসেবে আবিষ্কার করবেন নতুন করে, এমনকি এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি মাড়োয়ারি ভাষাও রপ্ত করেছি’, বলছিলেন সানি লিওন।

তবে এ ছবিতে অভিনয় নিয়ে মনের মাঝে যে ক্ষোভ নেই, তা নয়। বিশেষ করে সানির অতীত ইতিহাসের জন্য বলিউডের বেশ ক’জন সিনিয়র আর্টিস্ট এ ছবিতে অভিনয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, যা সানিকে হতাশ করেছে। তবে ৩টি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা সানির সঙ্গে এ ছবিতে অভিনয় করেছেন শেষ পর্যন্ত জয় ভানুশালি, মোহিত আলাওয়াত এবং রাজনিশ দুগগাল।

পরিচালক ববি খানের মুখেও একই হতাশা, অনেক অভিনেতার স্ক্রিপ্ট পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সানির উপস্থিতির জন্য রাজি না হওয়ার ঘটনা পীড়া দিয়েছে তাকেও। কারণ সানির বিপরীতে আর্টিস্ট কাস্ট করতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে তাকে। এমনকি সানির স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার পর্যন্ত বলছেন, এর পর কোন ছবিতে এমন সমস্যা হলে, তিনি নিজে গিয়ে নায়কদের অনুরোধ করবেন বলিউডের প্রতি সানির প্রফেশনালিজমের দিকে তাকিয়ে হলেও তার সঙ্গে অভিনয় করতে। আর হ্যাঁ, পরিচালক ববি জানাচ্ছেন, এ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে সানির একটা নতুন স্থায়ী ইমেজ দাঁড়াবে।

ইতোমধ্যেই মিউজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এই ছবির ট্রেলার সারা ফেলে দিয়েছে সমগ্র বলিউডে। ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেখা হয়েছে ১২ মিলিয়ন বার। নয়নাভিরাম কস্টিউম ও লোকেশনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বলিউডের সমালোচকরা। আর ‘লীলা’ চরিত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকা সানি তো আছেনই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ছবির জন্য ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমার ‘ঢোলি তারো’ গানটি রিমেক করা হয়েছে যেখানে নেচেছিলেন সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া। আর দর্শক সেটিকে কিভাবে নেয় তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সিনেমা মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত। যেহেতু পুনর্জন্মের কাহিনী, সময়কাল ৩০০ বছরের মধ্যে সুতরাং সানিকে পাওয়া যাবে তিনটি আলাদা আলাদা চরিত্রে। আর সেগুলো হলো রাজকন্যা, গ্রামের সাদামাটা মহিলা এবং একজন আধুনিকা মহিলা হিসেবে। আর এজন্যই দৃশ্যায়ন ও কস্টিউমে এত বৈচিত্র্য আনার সুযোগ পেয়েছেন পরিচালক। বিশেষ করে সানিকে দেখা যাবে কুর্তা, ঘাগরা, সেই সময়ের সেলাই বিহীন পোশাক এমনকি সুপার মডেলের গেটআপে। পুনর্জন্মের কাহিনীভিত্তিক এই ছবির মাধ্যমে বলিউডে পুনর্জন্ম ঘটছে মোহিত আলাওতেরও। ৪ বছরের বিরতি ভেঙ্গে নাচগানে ভরপুর এই ছবির মাধ্যমে পর্দায় ফিরছেন এই অভিনেতা। আর এই ছবিতে ফিরে আসার জন্য সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিচ্ছেন ছবির প্রযোজক ভূষণ কুমার ও আহমেদ খান এবং পরিচালক ববি খানকে। সবাই যখন ভাবছিল, সানি তাঁর পরবর্তী ছবিতে নিজেকে আগের চাইতে বেশি আবেদনময় করে মেলে ধরবেন, সেখানে নিজেকে ভারতীয় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করে চমকে দিলেন সবাইকে। এই ছবির ‘তেরে বিন’ তো রয়েছে টপচার্টে, অবশ্য এই গানের নান্দনিক ভিডিও একটা বড় কারণ। আর দেশী লুক, সাইয়ান সুপারস্টার এসব গানও ঘুরছে এখন মানুষের মুখে মুখে। সানির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ ছবিতে রয়েছে রাজস্থানের রাজকীয় উপস্থাপনায় চমকপ্রদ সব লোকেশনে শূটিং। আর এসবের মিশেলের সঙ্গে রয়েছে তাঁর অভিনীত চরিত্র, যা ছবির গল্পের সঙ্গে মানিয়ে যায় সহজেই। কাহিনীর প্রয়োজনে এ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে লক্ষ্মী নিবাস প্যালেস, যা প্রকৃতপক্ষে মহারাজা গঙ্গা সিংয়ের প্রাসাদ ছিল। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু দৃশ্যে সঠিক দৃশ্যায়নের স্বার্থে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে কৃত্রিম গ্রামের সেট বানানো হয়েছে। নাচেগানে ভরপুর এ ছবির গল্প পরিচালক ববি খানের, চিত্রনাট্য লিখেছেন জোজো খান আর তাতে সংলাপ বসিয়েছেন বান্টি রাঠোর। ছবি প্রযোজনা করেছে পেপার ডল নামে প্রতিষ্ঠানটি আর ছবি পরিবেশনার দায়িত্বে আছে টি সিরিজ। নিজের আগের প্রফেশনাল জগত থেকে বলিউডে প্রবেশ এবং সেখানেও আগের ছবি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার ছবিতে অভিনয়। ব্যাটে বলে মিলে ছক্কা হয় কিনা, তা জানা যাবে ছবি মুক্তি পেলেই।

প্রকাশিত : ৯ এপ্রিল ২০১৫

০৯/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: