মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষর, অপেক্ষা কার্যকরের

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫, ০৪:০৪ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেছেন রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি। বিচারপতিদের সইয়ের পর যুদ্ধাপরাধী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ খারিজের রায় বিচারিক আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে পৌঁছালেই দণ্ড কার্যকরের আগে শেষ আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ।

বুধবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে রায়ে স্বাক্ষর করেন আপিল বেঞ্চের চার সদস্য বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (২) মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার বেলা ৩টায় সাংবাদিকদেরকে বলেন, আপিল বিভাগের চার বিচারপতি রায়ে সই করেছেন। এখন তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই রায়ের কপি পাঠানো হচ্ছে বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। সেখান থেকে যাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে। কপি দেওয়া হবে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীকেও।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়ের খসড়া লিখে শেষ করেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। পরে সেটি প্রধান বিচারপতিসহ অন্য তিন বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। বিচারপতিরা খসড়া অনুমোদনের পর বুধবার সকাল থেকে কাজ করে সেটি চূড়ান্ত করা হয়।

৩৭ পৃষ্ঠার রায়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর তাতে স্বাক্ষর করেন চার বিচারপতি।

এবার রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায়ই দিলেন আপিল বিভাগ। এর আগে রিভিউ খারিজের পর বিচারপতিদের সংক্ষিপ্ত আদেশে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছিল অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার।

কামারুজ্জামানের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে সোমবার (৬ এপ্রিল) রায় দেন আপিল বিভাগ। ফলে বহাল থাকে দেশের শীর্ষ এই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, রায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর ২০(৩) ধারা অনুসারে সরকার কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে। সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, রায়ের কপি পাওয়ার পর ফাঁসির রায় কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবেন কারা কর্তৃপক্ষ। তারা কামারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইবেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করবেন কি-না।

যদি তিনি প্রাণভিক্ষা না করেন অথবা করলেও তা নামঞ্জুর হয়, তবে সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁসির দিনক্ষণ ঠিক করে দিলে জেল কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করবে বলেও জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেলও।

তবে প্রাণভিক্ষা করা হলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত না জানা অথবা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল মামলার চূড়ান্ত রায় সংক্ষিপ্ত আকারে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৫ মার্চ আপিল মামলার চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনটি দাখিল করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। আসামিপক্ষের আবেদনে দু’দফা পেছানোর পর রোববার (৫ এপ্রিল) রিভিউ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা কমান্ডার কামারুজ্জামানকে ২০১৩ সালের ৯ মে ফাঁসির আদেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহীনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫, ০৪:০৪ পি. এম.

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: