আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নাছিরের বিজয় নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঐক্যের ওপর

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে বিবদমান শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের একমঞ্চে নিয়ে এলো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে পরস্পরের মুখোমুখি বড় নেতারা এখন নিয়মিতই বসছেন একসঙ্গে। আসন্ন সিটি নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঠিক করছেন কর্মকৌশল। নির্বাচনের পূর্বে নেতাদের এ ঐক্যকে তারা দেখছেন বড় পাওয়া হিসেবে। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এতে বেশ আনন্দিত।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছিল বহুধা বিভক্ত। দীর্ঘদিন ধরে হেভিওয়েট নেতাদের অনেকে ছিলেন মুখোমুখি। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকরাও ছিলেন নেতাদের নেতৃত্বে বিভক্ত। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও বিরল নয়। এই আওয়ামী লীগ এত সহজে একমঞ্চে আসবে তা ছিল অনেকের ধারণারও অতীত। তবে সময়ের বাস্তবতায় এখন সকল নেতাই এক হয়েছেন। কাজ করছেন দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে। যে কারণেই হোক, বিষয়টি যেন অনেকটা বাঘে-মোষে একঘাটে পানি খাওয়ার মতো। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে একদা স্পষ্ট বিভক্তি ছিল এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দিনের মধ্যে। এ দুই নেতার নেতৃত্বে ছিলেন কর্মী সমর্থকরা। বিশেষ করে ছাত্র সংগঠন অর্থাৎ ছাত্রলীগের মধ্যে এ বিভক্তি ছিল অনেকটা মারমুখী পর্যায়ে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ দুটি গ্রুপের মধ্যে অনেক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ দুই গ্রুপের দূরত্ব কমে আসে বছর দুয়েক আগে আ জ ম নাছির উদ্দিন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর। দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ থাকলেও তা থাকে ধামাচাপা অবস্থায়। অর্থাৎ ভেতরে ভেতরে পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি থাকলেও তা ছিল অপ্রকাশ্য। সিটি মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে গত এক বছর আগে থেকে ফের স্পষ্ট হতে শুরু করে। তবে এক্ষেত্রে আর মাত্র দুটি গ্রুপ নয়, বরং দুয়ের অধিক গ্রুপ সক্রিয় হয়। সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুস ছালামÑ এ চারজন মেয়র পদে দলীয় সমর্থন পেতে তৎপর হন। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিরোধ আবারও প্রকাশ্য রূপ লাভ করে। চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের মধ্যে তিনটি গ্রুপ ছিল বেশ স্পষ্ট ও জোরালো। তন্মধ্যে একটি অংশের নেতৃত্বে নগর সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের একটি বড় অংশ। আরেকটি অংশের নেতৃত্বে আ জ ম নাছির উদ্দিন। তরুণ ও ছাত্রদের মধ্যে তাঁরও রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এমপি এমএ লতিফ আ জ ম নাছিরের সমর্থনে ছিলেন বলে মনে করা হয়। অপর অংশটি সাবেক মন্ত্রী ডাঃ আফসারুল আমীনের অনুসারী। তার সঙ্গে ছিলেন নুরুল ইসলাম বিএসসি ও চউক চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম। সিটি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসে ততই গ্রুপ তিনটির নেতৃত্বে মেরুকরণ স্পষ্ট হয়। চলতে থাকে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী-সমর্থক বাড়াবার চেষ্টার পাশাপাশি হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা। চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগে নেতাদের মধ্যকার বিরোধ এত সহজে ঘুচে যাবে এমনকি আশা করেননি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরাও। কেননা, মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে নেতারা বেশ প্রতিযোগী হয়ে উঠেছিলেন। নগরীতে দেখা যায় নেতাদের ছবি সংবলিত অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড। চলতে থাকে তৃণমূলে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এমনকি শো ডাউনও। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল দলের মধ্যকার এ ফাটল এত তাড়াতাড়ি জোড়া লাগবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আ জ ম নাছির উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর দ্রুতই চিত্র পাল্টে যেতে থাকে।

সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে মনে করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে আ জ ম নাছিরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মেনে নেন। শুধু মেনে নেয়াই নয়, দল সমর্থিত প্রার্থীকে জিতিয়ে আ জ ম নাছিরের পাশে দাঁড়ান। নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির তিনি সদস্য সচিব। এর আগে চারবার মেয়র নির্বাচন করার অভিজ্ঞতায় তিনি এখন তৎপর নাছিরকে বিজয়ী করতে। বিভিন্ন মিডিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহিউদ্দিন চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরা যোগ্য প্রার্থী দিয়েছি। জনগণ ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। তিনি তার অনুসারীদেরও আ জ ম নাছিরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: