মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ॥ সাত কোটি টাকা

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় প্রায় সাত কোটি টাকা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা এখন ২৪ জন। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। একজন আয় করেন ওয়াজ মাহফিল থেকে। শ্রমজীবী সংগঠনের অর্থে নির্বাচন করছেন বাহারানে সুলতান বাহার। তাদের মধ্যে ৪৫ লাখ টাকারও বেশি সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী মশিউর রহমান নামের একজন মেয়র প্রার্থী। দুই লাখ টাকার মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয় করবেন দুই প্রার্থী। নয়জন প্রার্থীর সম্ভাব্য ব্যয় ৩০ লাখ টাকার বেশি। দশ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করবেন নয়জন প্রার্থী। প্রার্থী হিসেবে টেলিভিশন প্রচারে যাচ্ছেন অনেকেই। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্ভাব্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস ও ব্যয় বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাঈদ খোকন ॥ আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই প্রার্থী নিজের ব্যবসার আয় থেকে নির্বাচনের জন্য ব্যয় করবেন পাঁচ লাখ টাকা। মা ও মামার কাছ থেকে নেবেন ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা। অন্যদের থেকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা। প্রচারের জন্য চার লাখ পোস্টার, নয় লাখ লিফলেট, ২০টি নির্বাচনী ক্যাম্প, হ্যান্ডবিল ও স্টিকার ৭ লাখ, ১৭১টি ব্যানার, ডিজিটাল ব্যানার ১৭১টি করা হবে। পথসভা করবেন ১০০টি।

মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ॥ সাবেক মেয়র ছিলেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। দল থেকেও সমর্থন পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাঠে নেই ২০ দলের এই হেভিওয়েট প্রার্থী। এবারের মেয়র নির্বাচনে তিনি নিজ ব্যবসার আয় থেকে ৩০ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করেছেন। নিকটাত্মীয় কিংবা কারও কাছ থেকে ধার বা অনুদান কিছুই নেবেন না তিনি। প্রচারের জন্য ৫০ হাজার পোস্টার, ১৩টি নির্বাচনী ক্যাম্প, এক লাখ লিফলেট ও এক লাখ হ্যান্ডবিল, চার লাখ স্টিকারসহ সম্ভাব্য ১০টি পথসভা করবেন।

মোঃ আব্দুস সালাম ॥ নিজ আয় থেকে নির্বাচনের জন্য দেড় লাখ টাকা খরচ করবেন বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক এই সদস্য সচিব। ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের কাছ থেকে নেবেন ১৫ লাখ টাকা। প্রচারের জন্য করবেন ৬০ হাজার পোস্টার। ক্যাম্প অফিস করবেন ২৪টি। ৫৬টি পথসভা করবেন তিনি।

৩০ লাখ টাকা খরচ করতে চান রনি ॥ আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ও সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি মেয়র প্রার্থী হিসেবে এবারের নির্বাচনে নিজ ব্যবসার আয় থেকে খরচ করবেন ১০ লাখ টাকা। আবদুস সোবাহান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নেবেন ২০ লাখ টাকা। দুই লাখ পোস্টার, ৫৭টি নির্বাচনী ক্যাম্প ও ৭৫টি পথসভা ও ৫৭টি নির্বাচনী অফিস করবেন তিনি।

বাহারানে সুলতান বাহার ॥ তাঁর ব্যক্তিগত কোন আয় নেই। গার্মেন্টস শ্রমিক ও ভাড়াটিয়া পরিষদের পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্বাচনে ব্যয় করার কথা উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনে শ্রমজীবী নেতৃবৃন্দ দেবে দুই লাখ টাকা, তাঁর প্রবাসী শ্যালক দেবে এক লাখ টাকা। এছাড়াও স্ত্রীর কাছ থেকে নেবেন ৫২ হাজার টাকা, আরও তিনজনের কাছ থেকে নেবেন ৪৮ হাজার টাকা। বিজিএমইএ ও বিকেএমইর পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করবেন তিনি। নির্বাচনের জন্য ৩০ হাজার পোস্টার ও দুটি ক্যাম্প স্থাপন করার কথা সম্ভাব্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস ও ব্যয় বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাইফুদ্দিন মিলন ॥ জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন মিলন নিজের ব্যবসা থেকে আয়ের ৩০ লাখ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন।

পাশাপাশি প্রচারের জন্য চার লাখ পোস্টার ছাপাতে ব্যয় করবেন সাত লাখ ৭০ হাজার টাকা। ৫৭টি নির্বাচনী ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা।

শাহীন খান ॥ নিজের ব্যবসার আয় থেকে এক লাখ টাকা নির্বাচনের জন্য ব্যয় করবেন তিনি। এছাড়াও মামার কাছ থেকে পাঁচ লাখ, স্বজনদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা নেবেন। ৫০ হাজার পোস্টার, দুটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনসহ দুই লাখ লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপানোর কথা রয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী ॥ ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও ব্যবসা থেকে দেড় লাখ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন এই প্রার্থী। ভাই-বোনদের কাছ থেকে নেবেন ১০ লাখ টাকা। মা ও স্ত্রীর কাছ থেকে নেবেন পাঁচ লাখ। আত্মীয়স্বজনসহ বিবিধ উৎস থেকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা নেবেন তিনি।

শফি উল্লাহ চৌধুরী ॥ নিজ ব্যবসার আয় থেকে নির্বাচনের জন্য খরচ করবেন ৩০ লাখ টাকা। ২০ হাজার পোস্টার করবেন। ১০টি নির্বাচনী ক্যাম্পসহ দেড় লাখ লিফলেট ছাপাবেন। ১০০টি ব্যানার ও ৫০টি পথসভা করার কথা নির্বাচন কমিশনে সম্ভাব্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস ও ব্যয় বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন।

মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ॥ নির্বাচনের জন্য নিজ পেশার আয় থেকে খরচ করবেন দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা। ১০ হাজার পোস্টার, পাঁচটি নির্বাচনী ক্যাম্প, ৫০ হাজার লিফলেট, ৫ হাজার স্টিাকার, ৫০টি ব্যানারসহ পাঁচটি পথসভা করবেন তিনি।

মোঃ শহিদুল ইসলাম ॥ মেয়র নির্বাচনের জন্য নিজ ব্যবসার আয় থেকে খরচ করবেন এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ ব্যয় করার কথা আছে তাঁর। পোস্টার ছাপাবেন এক লাখ। কর্মী সমর্থকদের জন্য আটটি নির্বাচনী অফিস করবেন। টেলিভিশন প্রচারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা।

মোঃ ইমতিয়াজ আলম ॥ নিজ ব্যবসার আয় থেকে নির্বাচনের জন্য ব্যয় করবেন এক লাখ টাকা। তিনজনের কাছ থেকে ধার নেবেন তিন লাখ। দুই আত্মীয়র কাছ থেকে নেবেন চার লাখ টাকা। রশিদ ও হারুণের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেয়ার কথা নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও স্বেচ্ছায় দান গ্রহণ করবেন পাঁচ লাখ টাকা। ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল দেবেন ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা। এক লাখ পোস্টার, ২৪টি নির্বাচনী ক্যাম্প, ১১০টি পথসভাসহ মিডিয়া ব্যয় নির্ধারণ করেছেন ২০ হাজার টাকা।

জাহিদুর রহমান ॥ মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজ ব্যবসার আয় থেকে খরচ করবেন দুই লাখ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। ১৫ হাজার পোস্টার, দুটি নির্বাচনী অফিস ও ১০টি পথসভা করবেন তিনি।

আবু নাছের মোহাম্মদ মাসুদ হোসাইন ॥ মসজিদের খতিব ও ওয়াজ মাহফিলের আয় থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেড় লাখ টাকা খরচ করবেন তিনি। চারজনের কাছ থেকে দান হিসেবে পাবেন আট লাখ ২৫ হাজার টাকা। সম্ভাব্য পোস্টার করবেন দুই লাখ, ২৫টি নির্বাচনী ক্যাম্প, ১০ হাজার লিফলেট, ২০ হাজার হ্যান্ডবিল করবেন তিনি।

এ এস এম আকরাম ॥ বাড়ি ভাড়ার আয় থেকে নির্বাচনের জন্য ব্যয় করবেন পাঁচ লাখ টাকা। ধার নেবেন এক লাখ টাকা। দান হিসেবে নেবেন ৫০ হাজার। নির্বাচনী প্রচারের জন্য ২০ হাজার পোস্টার, ২৫টি নির্বাচনী ক্যাম্প, ১০ হাজার লিফলেট, ২০০ ব্যানার করার কথা রয়েছে।

এস এম আসাদুজ্জামান রিপন ॥ বিএনপি সমর্থিত এই প্রার্থী নিজ পরিবার ও অনুদান থেকে সম্ভাব্য অর্থ ব্যয় করতে চান ২৮ লাখ টাকা। বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাচনের জন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন তিনি। দেড় লাখ পোস্টার, ৫৭টি নির্বাচনী ক্যাম্প, ১০ লাখ হ্যান্ডবিল ও লিফলেট, চার লাখ স্টিকার, ২০০ ব্যানারসহ ৩০০ পথসভা করবেন এই প্রার্থী।

বজুলর রশীদ ফিরোজ ॥ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ-এর এই মেয়র প্রার্থী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কৃষি জমি থেকে আয় হওয়া এক লাখ টাকা ব্যয় করবেন। অন্য দুইজনের কাছ থেকে নেবেন পাঁচ লাখ টাকা, আরও চারজন দান হিসেবে দেবেন ২ লাখ টাকা। দল থেকে আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ দুই লাখ। ৩০ হাজার পোস্টার, ১০টি নির্বাচনী ক্যাম্প, তিন লাখ লিফলেট করবেন তিনি।

মশিউর রহমান ॥ সিটি ব্যাংক থেকে চাকরি শেষে প্রাপ্ত ও দোকান ভাড়া থেকে আয় হওয়া ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যক্তিগত খাত থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যয় করতে চান তিনি। এছাড়াও দান হিসেবে নেবেন ছয় লাখ টাকা।

মোঃ আকতারুজ্জামান ॥ লেখক সম্মানী থেকে ব্যয় করবেন এক লাখ টাকা। ধার নেবেন চার লাখ। দান বা অনুদান হিসেবে নিচ্ছেন আরও চার লাখ। অন্যান্য উৎস থেকে নেবেন দুই লাখ টাকা। প্রাপ্য সম্ভাব্য অর্থ দেখানো হয়েছেন পাঁচ লাখ। চাকরি ও ব্যবসা থেকে ব্যয় করবেন পাঁচ লাখ।

আব্দুল খালেক ॥ নিজের ব্যবসার আয় থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করবেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নেবেন আরও দুই লাখ টাকা। সিরাজ মিয়ার কাছ থেকে পাঁচ লাখ ও স্বেচ্ছাদান নেবেন তিন লাখ টাকা।

আব্দুর রহমান ॥ নিজ ব্যবসার আয় থেকে সম্ভাব্য খরচ করবেন ১৪ লাখ টাকা। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান নেবেন চার লাখ টাকা। ধার নেবেন ১০ লাখ ও অন্য ব্যক্তির দান নেবেন দুই লাখ টাকা।

দিলীপ ভদ্র ॥ ছেলে মেয়েসহ ব্যক্তিগত আয় থেকে ব্যয় করবেন পাঁচ লাখ টাকা। দান হিসেবে নেবেন দুই লাখ। আত্মীয়দের কাছ থেকে আট লাখ। স্বেচ্ছাদান নেবেন এক লাখ টাকা। এছাড়াও ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে খরচ করবেন পাঁচ লাখ টাকা। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ২৫ হাজার পোস্টার, ৫০ হাজার লিফলেট, ৫০ হাজার হ্যান্ডবিল, ৩০ হাজার স্টিকার বিতরণ করবেন।

কাজী আবুল বাশার ॥ এই মেয়র প্রার্থী ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচ করবেন ৩০ লাখ টাকা। দুই লাখ টাকা ব্যয় করে ৫০ হাজার পোস্টার, ৫৭টি নির্বাচনী ক্যাম্পের জন্য খবর ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। দেড় হাজার অফিস করবেন তিনি। দুই লাখ লিফলেট, তিন লাখ হ্যান্ডবিল, এক লাখ স্টিকার, ৫৭টি পথসভার প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: