কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রয়োজন আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫
প্রয়োজন আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ
  • ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রও বাড়াতে হবে

শিরোপা জিততে না পারলেও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে মন জয় করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। কিন্তু এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে যুবারা প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। যদিও শক্তিমাত্রার দিক থেকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের তুলনায় এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিতে অনেক এগিয়ে। সিরিয়া ও উজবেকিস্তান দু’দলের সঙ্গেই ৪-০ গোলের পরাজয়ে সেই পার্থক্য স্পষ্টতই ফুটে ওঠেছে। ভারতের বিপক্ষেও কাক্সিক্ষত জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি হেমন্ত-সোহেল রানারা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া এই দুই টুর্নামেন্টে পারফর্মেন্স বিবেচনা করে বাংলাদেশ ফুটবলের নানা দিক নিয়ে জনকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার, বর্ষীয়ান কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু। সাক্ষাতকার- তোফায়েল আহমেদ

জনকণ্ঠ : এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশী যুবাদের পারফর্মেন্স কেমন দেখলেন?

গোলাম সারোয়ার টিপু : অতীত রেকর্ড কিন্তু বলে বয়সভিত্তিক খেলাগুলোতে আমরা সাধারণত এতটা খারাপ করি না। জাতীয় দলের পারফর্মেন্স যাই হোক না কেন আমাদের বয়সভিত্তিক দল সবসময়ই ভাল করে থাকে। কিন্তু এবার কেন জানি ব্যর্থ হলো। তাছাড়া এই টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ হিসেবে সিরিয়া এবং উজবেকিস্তান আমাদের থেকে অনেক এগিয়েও ছিল। ব্যক্তিগতভাবে ধারণা করেছিলাম ভারতের সঙ্গে ম্যাচটা ড্র হবে এবং সেটিই হয়েছে। সব মিলিয়ে বলব বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এই টুর্নামেন্ট খুব একটা সুখকর ছিল না।

জনকণ্ঠ : প্রতিপক্ষের তুলনায় আমাদের পার্থক্যটা কোথায় বেশি পরিলক্ষিত হলো?

টিপু : শারীরিক দিক তো আছেই সঙ্গে টেকনিক, গতি, বল কন্ট্রোল সবদিক থেকেই অনেক পিছিয়ে আমরা। সত্যি বলতে অনেক দিক থেকেই ওদের সঙ্গে আমাদের মিলানো যায় না।

জনকণ্ঠ : জাতীয় দল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ভাল করায় এই টুর্নামেন্ট নিয়েও অনেক আশা জেগেছিল দর্শকদের মনে...।

টিপু : বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে যে দলগুলো আসছিল তাদের সঙ্গে আমাদর পার্থক্য থাকলেও সেটি খুব বড় ধরনের ছিল না। এই টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। এ জন্যই দুই টুর্নামেন্টের ফল দু’রকম হয়েছে।

জনকণ্ঠ : একটু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফিরে যাই। এই টুর্নামেন্টে শেষ মুহূর্তের গোলে শিরোপা বিসর্জন দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তারপরও যেখানে ফাইনাল খেলা কারও স্বপ্নে ছিল না, সেখানে টুর্নামেন্টে দলের সার্বিক পারফর্মেন্স সম্পর্কে আপনার মূল্যায়নটা জানতে চাই?

টিপু : আমাদের প্রত্যাশা কিন্তু সব সময় অনেক বেশি থাকে, এবং সেটা নানা করণেই। প্লেয়ারদের আমরা লজেস্টিক সাপোর্ট যাই দেই না কেন কিন্তু সে তুলনায় আমাদের চাওয়া সব সময়ই বেশি থাকে। সেই বিবেচনায় প্রথম ম্যাচটা বাদ দিলে বাকি তিনটা ম্যাচে প্লেয়াররা তাদের সামর্থ্যরে পুরোটাই কাজে লাগাতে পেরেছে। এবং আশাও জাগিয়েছে মানুষের মনে। তবে এনিয়ে উচ্ছ্বাস ঠিক আছে, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সেই উচ্ছ্বাসে আমাদের ভেসে গেলে চলবে না। কারণ যে কোন সাফল্যই আমাদের উজ্জীবিত করে এবং অনুপ্রাণিত করে এটা যেমন সত্য, তেমনি আমরা কাদের বিপক্ষে খেললাম সেটাও আমাদের দেখতে হবে। পুরো টুর্নমেন্টে শুধু একটি জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলেছি আমরা, বাকি সবাই কিন্তু বয়সভিত্তিক দল ছিল। তাদের চেয়ে আমাদের প্লেয়ারদের বয়স যে বেশি তা বলা যাবে না। তবে মর্যাদাগত দিক দিয়েও বয়সভিত্তিক দল এবং জাতীয় দলের পার্থক্য আসলে অনেক। তারপরও এটাকে আমি নেগেটিভ অর্থে বলছি না, দক্ষিণ এশিয়া বা সাফ কন্টিনেন্টের দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমাদের উন্নতি করার জায়গা এখনও প্রচুর রয়েছে।

জনকণ্ঠ : বাংলাদেশ ফাইনালে খেলবে বা শিরোপার এতটা কাছাকাছি যেতে পারবে এমনটা ভেবেছিলেন?

টিপু : আসলে প্রতিপক্ষ দলগুলোর স্ট্যান্ডার্টটা জানা থাকলেও তাদের সম্পর্কে আমার বিস্তর ধারণা ছিল না। তবে যেহেতু শুনেছিলাম শ্রীলঙ্কা ছাড়া বাকিদের সব বয়সভিত্তিক দল তাই তারা কেমন করে সেটা নিয়ে মনে নানা ভাবনাই ঘুরপাক করছিল। সেখানে আমাদের খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টা খেলেছে সেমিফাইনালকে টার্গেট করে। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের দলের ভাল পারফর্মেন্স আমি আশা করেছি, তবে ফাইনাল খেলবে এটা আমি আশা করিনি সত্যি। সেই জায়গায় অবশ্যই বলতে হয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দল আমাদের আশান্নিত করেছে।

জনকণ্ঠ : বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এবং এর আগে গত বছর বেশ ক’টি প্রিতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলার উন্নতি কেমন চোখে পড়ল?

টিপু : বঙ্গবন্ধু কাপে প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পরেও যে খেলোয়াড়রা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এবং ফাইনালও খেলেছিল এটার পেছনে কিন্তু বড় ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক প্রিতি ম্যাচগুলো। সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ আমাদের খুব একটা হয় না। এই টুর্নামেন্টের আগে বেশ ক’টি প্রিতি ম্যাচ আমরা খেলেছিলাম। যে প্রিতি ম্যাচগুলো আমরা খেলেছি সাফল্যের পথে মূলত সেগুলোই আমাদের সাহায্য করেছে। তাই আমাদের ঘরোয়া ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রিতি ম্যাচ খেলার সংখ্যা বাড়াতে হবে। এবং সেটা হোম এ্যান্ড এ্যাওয়ে উভয় পদ্ধতিতে। যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা যায় তত বেশি আমাদের ফুটবলের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

জনকণ্ঠ : বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলায় কোন দিকটায় বেশি দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়েছে?

টিপু : এএফসি যুব ফুটবরের কথা শুরুতেই বলেছি। এখন বঙ্গবন্ধু কাপের কথায় আসি। ফাইনালে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে খেলায় সমতা ফিরানো, সেই জায়গা থেকে বলব বাংলাদেশ মানসিক দিক থেকে অনেক উন্নতি করেছে। তবে ফরোয়ার্ড লাইনে বড় দুর্বলতা চোখে পড়েছে। এই জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে অনেক। আসলে বড় দুর্বলতা হলো আমাদের ভাল মানের প্লেয়ার কমে যাওয়া। যে কারণে কি-না আমরা সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারি না।

জনকণ্ঠ : তাহলে এখান থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কি?

টিপু : ফুটবলটা সারা দেশব্যাপী চালাতে হবে। শুধু ঢাকার মধ্যে এটা সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। জেলা পর্যায়ের খেলাগুলো যেন চলে সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। এর বাইরে আমাদের ঘরোয়া কিছু টুর্নামেন্ট যেমনÑ শেরে-বাংলা কাপ, সোহরাওয়ার্দী কাপ এসব খেলার দিকেও নজর দিতে হবে এবং আমার মনে হয় এখন তার সঠিক সময়।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: