আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিংহাসনের পথে স্মিথ

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব ও আভিজাত্যের অপর নাম অস্ট্রেলিয়া। বার বারই সেটি দেখেছে বিশ্ব, দেখল আরও একবার। ইনজুরির জন্য যে মাইকেল ক্লার্কের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে ছিল সংশয় সেই তার হাতে শোভা পেল পঞ্চম শিরোপা! টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া জর্জ বেইলির জায়গা হলো না আর একটি ম্যাচেও। আপাতদৃষ্টে এগুলোকে অশুভ মনে হতে পারে, সত্যটা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ানরা চরম পেশাদার। যে কোন পরিস্থিতিতে জয়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর সব দল যেখানে অধিনায়ক, অধিনায়ক করে মরে, সেখানে ‘কলা গাছের’ হাতে নেতৃত্ব দিলেও এবার শিরোপা উঠত অসিদেরই হাতে! যেখানে দলটাই আসল, অধিনায়ক নয়। তবে সেনাপতি বেছে নিতে ভুলও খুব কম করেছে অস্ট্রেলিয়া।

শিরোপা উৎসবের আমেজেই ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ক্লার্ক। তার সঙ্গী হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্র্যাড হ্যাডিনও। তাহলে প্রশ্ন কে হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পরবর্তী সিংহাসনের মালিক? খুব সম্ভব স্টিভেন স্মিথই হাচ্ছেন সেই পথে। প্রেক্ষাপট তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তরুণ এই ব্যাটসম্যানের, ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়ানডেতে। দু’ক্ষেত্রেই নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতি সুযোগ করে দেয় তাঁকে। তবে অসি ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাস বলে, ভেবে চিন্তে আগে থেকে পরিকল্পনা সাজান দেশটির ক্রিকেট কর্তারা। সুতরাং নিউ সাউথওয়েলসে জন্ম নেয়া ২৫ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রিকেটারই হতে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের কা-ারি। ‘ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছি। আমি দারুণ কৃতজ্ঞ ও ধন্য। এটি আমার ২৪৫তম ওয়ানডে, এটা অনেক বড় সম্মানের। এ সময়ে দুটি ফাইনাল ও একটি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। এবার শিরোপা উপহার দিতে পারলে, তা হবে অনন্য অর্জন।’ শেষ পর্যন্ত চাওয়াটাই বাস্তবে রূপ নেয় দেশকে বিশ্বকাপ ফিরিয়ে দিয়ে ওয়ানডেকে বিদায় জানান ক্লার্ক। অবশ্য সাদা পোশাকের টেস্টে খেলবেন যতদিন সম্ভব। ২০০৩ থেকে ২৪৫ ওয়ানডে খেলে ৭ হাজার ৯৮১ রান করেছেন ৪৪.৫৮ গড়ে। ৮ সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে ৫৮ হাফসেঞ্চুরি। দলকে ৭৪ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে ২১ হারের বিপরীতে জিতিয়েছেন ৫০ বার, যার শেষটি আসে দেশকে পঞ্চম শিরোপা তুলে দেয়ার গ্র্যান্ড ফাইনালে!

অন্যদিকে জর্জ বেইলি যেন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ‘অনসাং’ হিরো। তাঁকে দেখে অনেকের স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের কথা মনে পড়বে। বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর স্পিনার হয়েও যিনি শেন ওয়ার্নের ছায়ায় ঢাকা পড়ে ছিলেন। ইনজুরি, বিশ্রাম বা ওয়ার্নের অন্য সব অনুপস্থিতিতে ৪৪ টেস্টে ২০৮ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন লেগস্পিনার ম্যাকগিল। অনেকের মতে, ওয়ার্নের সময়ে জন্ম না হলে সেসময় বিশ্বের ‘নাম্বার ওয়ান’ হতেন তিনিই। হ্যাডিনের তারকা-ইমেজের চাপে অনেকটা বয়স করে জাতীয় দলে সুযোগ পান বেইলি। টি২০ দিয়ে শুরু। এরপর ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে জায়গা করে নেন ওয়ানডেতে। গত দুই বছরে বেশিরভাগ সময় ইনজুরিতে বাইরে ছিলেন ক্লার্ক। এ সময়ে ওয়ানডেতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন বেইলি। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টি২০তে অভিষেক ম্যাচেই বেইলিকে অধিনায়ক করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্যে ওয়ানডের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছিলেন। ইনজুরিপ্রবণ ক্লার্কের পরিবর্তে নেতৃত্ব দিয়েও ছিলে দারুণ সফল। ২৯ ম্যাচের ১৬টিতে জয়। সুতরাং স্বাভাবিক নিয়মে বেইলিরই নেতৃত্ব দেয়ার কথা। কিন্তু দুরন্ত পারফর্মেন্সের পাশাপাশি বয়সে তরুণ হওয়ায় সুযোগটা পেয়ে যেতে পারেন ২৫ বছরের স্মিথ। ফাইনালে অপরাজিত ৫৬ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে বিশ্বজয়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন নিউসাউথওয়েলস প্রতিভা। এক সময় শেন ওয়াটসনকেই ভাবা হতো অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রজন্মের নেতা, বেশ কিছুদিন ক্লার্কের ডেপুটিও ছিলেন তিনি। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি আচরণে সমস্যা থাকায় এখন আর নেতৃত্বের রেসে নেই ওয়াটসন! পরিস্থিতি যা, তাতে ওয়ানডেতে ক্লার্কের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন স্মিথই।

দুরন্ত পারফর্মেন্সের পাশাপাশি বয়সে তরুণ হওয়ায় সুযোগটা পেতে যাচ্ছেন স্মিথই। বিশ্বকাপের ফাইনালে অপরাজিত ৫৬ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে বিশ্বজয়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন নিউসাউথওয়েলস প্রতিভা। এক সময় শেন ওয়াটসনকেই ভাবা হতো অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রজন্মের নেতা, বেশ কিছুদিন ক্লার্কের ডেপুটিও ছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি আচরণে সমস্যা থাকায় এখন আর নেতৃত্বের রেসে নেই ওয়াটসন। স্মিথকে সমর্থন দিয়ে সাবেক বিশ্বজয়ী সেনাপতি রিকি পন্টিং যেমন বলেন,‘স্টিভেন স্মিথ এখন ক্যারিয়ারের দুরন্ত সময় পার করছে, বয়সটাও অনুকূলে। সে অসাধারণ, মনে হচ্ছে টেস্টেও তিন নাম্বারে ব্যাট করে সফল হতে পারবে। সুতরাং ভবিষ্যতের কথা ভেবে, টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডের দায়িত্বও স্মিথকে দেয়া উচিত।’ তনি আরও যোগ করেন, ‘ক্লার্ক ইতোমধ্যে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছে। তাই ধরেই নেয়া যায়, টেস্টেও তার আর অল্পসময় বাকি। স্মিথের নেতৃত্বে আসার এটাই সেরা সময়, যাতে ক্লার্ক পুরোপুরি বিদায়ের আগে ও সব ফরমেটে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারে।’

এক সেঞ্চুরি ও চার হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৪০২ রান স্মিথের। এর আগে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকেই গড়েছিলেন নতুন ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়াকে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জেতানোর পাশাপাশি অভিষেকে সেঞ্চুরিসহ সিরিজে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি! বেইলির অনুপস্থিতিতে ওয়ানডেতে অধিানয়াক হিসেবে অভিষেকেও (ভারপ্রাপ্ত) সেঞ্চুরি হাকিয়েছিলেন স্মিথ। অধিনায়ক হিসেবে দুই ভার্সনে নিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির অন্যান্য নজির স্থাপন কর বুঝিয়ে দিয়েছেন চাইলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তার ওপর ভরসা করতেই পারে।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: