আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লক্ষ্যটা এখনই ঠিক করতে হবে

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫
  • খালেদ মাসুদ পাইলট

জনকণ্ঠ : এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে এবং দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে। আপনার দৃষ্টিতে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রাপ্তিগুলো কি কি?

পাইলট : অনেক অনেক প্রাপ্তি রয়েছে এই বিশ্বকাপে। প্রথমত বলব, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। সেই লক্ষ্যটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। শুধু লক্ষ্য পূরণ নয়, আমার সবচেয়ে যেটি ভাল লেগেছে সেটি হলো প্রতিটি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের মানসিকতা দেখতে পেয়েছি। ভারতের বিপক্ষে আম্পায়ারিংয়ের যে নোংরামি সেটির কারণেই মূলত ম্যাচটা আমরা জিততে পারিনি। তাছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে অন্য চেহারায় দেখা গেছে। কোন প্রতিপক্ষই আমাদের ছোট করে দেখেনি। এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ভারতও কিন্তু বাংলাদেশকে খুব সমীহ করছিল। বাংলাদেশ কিছু করে দিতে পারে এই ভয় যে তাদের মধ্যে ছিল সেটি খুব ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছিল। দল হিসেবে টাইগাররা প্রত্যেকটা ম্যাচেই খুব ভাল পারফরর্ম করেছে। বিশেষ করে বলব প্লেয়ারদের কথা। এক সঙ্গে অনেক প্লেয়ার পারফর্ম করেছে এবার। যেটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে খুব কম দেখা যায়। যেমন, আমরা সবাই জানতাম মুশফিক ভাল খেলবে। মুশফিক তো ভাল খেলেছেই পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকাররাও ভাল করেছে। বোলিংয়ে রুবেল সবার নজর কেড়েছে এবং বিশ্বের অনেক বড় ধারাভাষ্যকারদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই জিনিসগুলো বাংলাদেশ টিমের জন্য খুবই পজিটিভ এবং অনেক বড় প্রাপ্তি।

জনকণ্ঠ : অনেক সময় নানা প্রাপ্তির মাঝেও কিছু কিছু অপ্রাপ্তি থেকে যায়। এবারের বিশ্বকাপে তেমন কিছু কি দেখছেন?

পাইলট : অপ্রাপ্তি তো কিছু আছেই। সাফল্যের কারণে হয়ত সেগুলো সেভাবে সামনে আসছে না। সবাই তো আসলে ভাল খেলার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু প্লেয়ার পারফর্ম করতে পারে বা আবার কেউ পারে না। এটা সাধারণত হয়েই থাকে। তারপরও ইমরুল কায়েসের কাছে ভাল কিছু আশা করেছিলাম আমরা। স্পিনাররা হয়ত ভালো করতে পারত। কিন্তু সেই জায়গাটায় তারা ভাল করেনি। ফিল্ডিংটাও আরেকটু উন্নতি করা যেত।

জনকণ্ঠ : এবারের সাফল্যকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য বলছেন অনেকে। আপনার ব্যক্তিগত অভিমত কি?

পাইলট : কোন বিশ্বকাপই কোনটার চেয়ে কম না। নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপটা সাফল্যম-িত ছিল এবং সব বারের চেয়ে অনেক ভালো ফল হয়েছে। কিন্তু আমি কোন বারেরটাকেই ছোট করে দেখব না। ’৯৯ বিশ্বকাপে আমরা কিন্তু এখনকার স্কটল্যান্ডের মতো টিম ছিলাম। সেই সময় পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐ জয়টাও কিন্তু অনেক বড় অর্জন ছিল। আসলে কোন অর্জনকেই ছোট করে দেখার কিছু নেই। প্রত্যেকটা বিশ্বকাপই আলাদা আলাদা স্মৃতি ধারণ করে।

জনকণ্ঠ : এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যে অর্জন সেগুলোকে পুঁজি করে এই মুহূর্তে বিসিবিকে কিভাবে এগুনো উচিত?

পাইলট : এই বিশ্বকাপে আমরা ভাল পারফর্ম করলাম বলেই যে শুধু এটা নিয়েই আমরা পড়ে থাকব এমনটা ভাবনার কিন্তু সময় বা সুযোগ কোনটিই নেই। যেটা পাওয়ার সেটা পেয়েছি। এই অধ্যায়টাকে এখানেই শেষ করা উচিত। পরবর্তী চার বছরে আমরা কোন যায়গাটায় পৌঁছাতে চাই সেই লক্ষ্যটা এখনই সেট করতে হবে। হয়ত হঠাৎ হঠাৎ পারফরম্যান্স ওঠা নামা করবে কিন্তু এই সময়ে আমরা কতটুকু এগুতে পারলাম সেটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের কথা বলছি তা না। মাঠের পারফরম্যান্স অবশ্যই শতভাগ জরুরী। তবে এর বাইরেও কিছু দিক আছে সেগুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- কূটনৈতিক পারফরম্যান্স। এই বিশ্বকাপের কথাই যদি ধরি, প্রচুর কর্মকর্তা কিন্তু আমরা খেলা দেখতে গিয়েছি। খেলা দেখতে যাওয়া মানে কিন্তু এই না শুধুই খেলা দেখা। এটা বিশাল বড় একটা উভেন্ট। এখানে সব দেশের বোর্ডের কর্মকর্তারাই থাকেন। এখানে আমরা কূটনৈতিক সম্পর্ক কতটা উন্নতি করতে পারলাম সেটাও অনেক জরুরী। খেলোয়াড়দের ব্যাপারে যে বিষয়টা আলাদা করে বলব, বিশ্বকাপে এবার একজন ওপেনার ইরজুরিতে পড়ার পর তাড়াহুড়া করে ইমরুল কায়েসকে পাঠিয়ে দিলাম। তামিমের বিকল্পও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সেক্ষেত্রে মনে হয় আমাদের এই বিষয়গুলো চিন্তা করে, আমাদের ভবিষ্যতকে লক্ষ্য করে এখন থেকেই এগোতে হবে। যেহেতু ইংল্যান্ডে খেলা তাই সেই চিন্তা করেই এখন পরিকল্পনা করা উচিত। এখন যারা অনূর্ধ-১৯ দলে আছে তাদের অনেকে হয়ত তখন জাতীয় দলে ঢুকবে। তাই তাদেরকে দিয়ে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বা আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশনে কত বেশি ম্যাচ খেলানো যায় সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জনকণ্ঠ : ২০১৯ বিশ্বকাপটা যদি দশ দলেরই হয় তাহলে বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে আমাদের...

পাইলট : প্রথমেই আমি আইসিসির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে অন্তত ১৪টি দল নিয়েই বিশ্বকাপটা আয়োজন করা উচিত। লক্ষ্য করে দেখবেন এবারও আয়ারল্যান্ড কিন্তু চমক দেখিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের মতো টিম যদি পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলতে না পারে তাহলে সেটা খুবই দুঃজনক হবে। কারণ এই চার বছরে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ডের মতো টিমের উন্নতি করার অনেক যায়গা আছে। এই সময়ে ওদেরকে যদি ঠিকমতো পরিকল্পনা দেয়া যায় তাহলে ওরাও কোন বড় টিমের চেয়ে কম হবে না। নতুন দেশগুলোকে নিয়ে এসে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। শুধু একটি বা দুটি দেশ নিয়ে আইসিসির চিন্তা করা উচিত নয়। গ্লোবালাইজেশনটা আমার কাছে খুবই জরুরী। ক্রিকেটটাকে কতটা আমরা বিস্তৃতি ঘটাব বা কতগুলো দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারব মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত।

জনকণ্ঠ : কিন্তু নানা অজুহাতে আইসিসি তো দিনকে দিন বিশ্বায়নের পথ থেকে সরে যাচ্ছে।

পাইলট : দেখুন দশ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তার প্রধান কারণ কিন্তু আসলে ভারত খেলতে চাচ্ছে না বলে। দেড় মাস ধরে বিশ্বকাপ তারা খেলতে চায় না। কারণ এই টুর্নামেন্ট হলে তাদের কোন লাভ নেই। বিশ্বকাপ থেকে আয়কৃত টাকা পুরোটাই আইসিসির ফান্ডে যায়। এই টুর্নামেন্টটা ছোট করতে পারলে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্ট ওরা বেশি সময় নিয়ে করতে পারবে। বছরের নানা সময় নানা কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। ওরা আসলে নিজেরা বাণিজ্য করতে চায়। তাই ওরা চাইবেই বিশ্বকাপ থেকে খেলা কমানোর। আমি ভারতকে ছোট করে কথাগুলো বলছি না। তবে আমার মনে হয় শুধু একটা দেশের স্বার্থের জন্য খেলার পরিসর ছোট করা ঠিক না। নতুন আরও দেশকে কিভাবে যুক্ত করা যায় সেই দিকে আইসিসির নজর দেয়া উচিত। স্পোর্টস এমন একটা যায়গা যেখানে ধনী গরিব ব্যবধান থাকা উচিত না। এখানে অন্তত সবার সমান অধিকার থাকা উচিত।

জনকণ্ঠ : ওয়ানডেতে ভালো করলেও টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের দুর্বলতা রয়েই যাচ্ছে...

পাইলট : আমাদের ঘরকে এজন্য সুন্দর এবং মজবুত করে সাজাতে সাজতে হবে। খেলোয়াড়দের দিক থেকে যদি বলি এখন যারা খেলছে তাদের মানের দ্বিতীয় টিম বা ব্যাকআপ টিম কিন্তু আমাদের নেই। সব বড় দলেরই কিন্তু এই যায়গাটা অনেক সমৃদ্ধ। আমাদের নিজেদের মধ্যেই কম্পিটিশন বাড়িয়ে নিজেদেরকে আরও ভাল যায়গায় যেতে হবে।

জনকণ্ঠ : পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে বিসিএলটাকে কিভাবে দেখছেন?

পাইলট : অবশ্যই এটা অনেক সাহায্য করবে। কারণ নিঃসন্দেহে এটা খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এখানে চারটা দলে সব বাছাই করা সেরা খেলোয়াড়রাই খেলছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই অনেক বেশি। এখানে পারফরর্ম করতে হলে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই পারফরম্যান্সটা বাড়বে। আপনি যখন মাঝারি মানের খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলবেন তখন কিন্তু উন্নতি করার সুযোগ এতটা থাকে না।

জনকণ্ঠ : পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে টাইগারদের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?

পাইলট : আমি খুবই আশাবাদী এই সিরিজটি নিয়ে। বাংলাদেশ টিম ভাল করবে এটা আমার বিশ্বাস। বর্তমানে যে স্পিরিটটা দলের মধ্যে আছে এটা ধরে রাখতে পারলে এবং ঠিক পরিকল্পনা করতে পারলে আমি আশা করি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলোয়াড়রা ভাল করবে। ওদের দলে নিঃসন্দেহে ভাল কিছু বোলার আছে। আমরা যদি সেই বোলিং বিভাগটাকে খুব ভাল মতো মোকাবেলা করতে পারি তাহলে আমার মনে খুবই ভাল সম্ভাবনা আছে এবার। কারণ ওদের ব্যাটিং বিভাগটাকে আমার খুবই দুর্বল বলে মনে হয়। ওরা এই যায়গাটা এখনও গুছিয়ে উঠতে পারেনি।

জনকণ্ঠ : ’৯৯ বিশ্বকাপের পর আজও পাকিস্তানকে আমরা হারাতে পারিনি...

পাইলট : আমি আসলে অতীত নিয়ে খুব বেশি বিশ্বাসী না। বর্তমান এবং ভবিষ্যতে কি আছে সেটি নিয়েই আমি বেশি বিশ্বাসী। কেনিয়ার দিকে তাকালে দেখবেন ২০০৩ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল খেলেছিল। সেই কেনিয়া কিন্তু এখন বিশ্বকাপও খেলে না বা কোয়ালিফাই করতে পারে না। আসলে কে কিভাবে উন্নতি করছে এটা হলো সবচেয়ে বড় ব্যাপার।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: