মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বরূপে ‘সি আর সেভেন’

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫
স্বরূপে ‘সি আর সেভেন’
  • অতশী আলম

ফের স্বমহিমায় ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নতুন বছর ২০১৫ সালের শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিলেন তিনি। যেন চেনাই দায় ছিল! অবশেষে জড়তা ভেঙ্গে সেই চিরচেনা বিধ্বংসী মেজাজে ফিরেছেন সি আর সেভেন।

সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছিল না রোনাল্ডোর। এ সময়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি যেন ফাঁকা মাঠে গোল করে চলেছিলেন! অথচ মৌসুমের শুরুতে গোল, ফর্ম সবকিছুতেই এগিয়ে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ তারকা। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন পর্তুগীজ তারকার, আর স্বরূপে মেসি। তবে খুব বেশিদিন এই অবস্থা চলতে দিলেন না বর্তমান ফিফা সেরা ফুটবলার। গত ৫ এপ্রিল স্প্যানিশ লা লিগায় গ্রানাডার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকসহ একাই রেকর্ড পাঁচ গোল করে স্বমহিমায় ফিরেছেন রোনাল্ডো। টানা দু’বারের ফিফা সেরা তারকার উদ্ভাসিত নৈপুণ্যে গ্রানাডাকে ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিধ্বস্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোনাল্ডোর মতো তাই দুঃসময় কাটিয়েছে গ্যালাক্টিকোরাও।

চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে প্রতিদ্বন্দ্বী মেসিকে পেছনে ফেলেছেন রোনাল্ডো। লা লিগায় চলমান মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ফিরে পেয়েছেন ফের। এখন রোনাল্ডোর গোল ৩৬, মেসির ৩২। লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের তালিকাতেও আবার মেসির পাশে এসেছেন। বিধ্বংসী ছন্দে ফিরতে মৌসুমের সবচেয়ে বড় জয়ই তুলে নেয় রিয়াল। আর ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন রোনাল্ডো। মাত্র আট মিনিটের ঝড়ে হ্যাটট্রিক তুলে নেন তিনি। ৩০ মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে জেমস রড্রিগুয়েজের ছোট পাস পেয়ে ডান পায়ের শটে প্রথম গোল করেন সি আর সেভেন। ৩৬ মিনিটে গোলরক্ষকের ভুলে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিক পূরণ করার পাশাপাশি রিয়ালকে চার গোলে এগিয়ে নেন রোনাল্ডো। বিরতির পর ৫৪ ও ৮৯ মিনিটে আরও দুই গোল করেন রোনাল্ডো।

নিষ্প্রভতা কাটিয়ে দুর্দান্ত এই পারফর্মেন্সের কারণে প্রশংসায় ভাসছেন পর্তুগীজ তারকা। সি আর সেভেন নিজেও মহাখুশি। চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যের পর রোনাল্ডো তার অফিসিয়াল টুইটার এ্যাকাউন্টে বলেন, পাঁচ গোল করতে পেরে আমি খুশি। আমার খুব ভাল লাগছে। তবে এটা দারুণ দলীয় একতার ফসল। আমার ভক্ত-সমর্থকদের অসংখ্য ধন্যবাদ। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলোত্তি বলেন, আমি আর কি বলব! আসলে ক্রিশ্চিয়ানোর প্রশংসা করাটাই কঠিন। সে অসাধারণ ফুটবলার। এ কথা অনেকবার বলেছি। এবার প্রথমবারের মতো পাঁচ গোলের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার ও দলের জন্য এটা অসাধারণ ম্যাচ। আশা করছি পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

লা লিগায় হ্যাটট্রিকের রেকর্ড ভাঙা গড়াটা ভালই জমে উঠেছে রোনাল্ডো ও মেসির মধ্যে। গ্রানাডার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল করে লা লিগায় সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের দৌড়ে মেসির ২৪ হ্যাটট্রিক ছুঁয়েছেন সি আর সেভেন। এর আগে কিংবদন্তি টেলমো জারা ও আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকে ছাড়িয়ে ২৩ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছিলেন রোনাল্ডো। এরপর লেভান্তের বিরুদ্ধে তিন গোল করে রোনাল্ডোর পাশে নাম লেখানোর পর রায়ো ভায়েকানোর জালে তিন গোল করে ২৪ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েন মেসি। এবার বার্সা জাদুকরকে ছুঁয়েছেন রিয়াল প্রাণভোমরা।

সব মিলিয়ে রোনাল্ডোর ক্যারিয়ারে এটা ৩১ নাম্বার হ্যাটট্রিক। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব এর আগে একবারই আছে তার। ২০১৫ সালের শুরু থেকে ঠিক যেন ছন্দে ছিলেন না রোনাল্ডো। মাঝে কিছুদিন গোল খরাতেও ভুগেছিলেন। এই সুযোগে এ বছরের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলা মেসি লীগের গোলদাতাদের তালিকায় রোনাল্ডোকে ছাড়িয়ে যান। তবে গ্রানাডাকে গোল বন্যায় ভাসানোর ম্যাচে আবারও এই তালিকায় শীর্ষে ফিরেছেন তিনবারের ফিফা সেরা তারকা। আর একটি গোল করলেই ক্যারিয়ারের তিন শ’ লীগ গোলের রেকর্ড গড়বেন রোনাল্ডো। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় স্বদেশী ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে। এক বছর পরই ২০০৩ সালে পাড়ি জমান ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেখানে ছয় মৌসুম কাটানোর পর ২০০৯ সালে রিয়ালে যোগ দেন। পর্তুগীজ লীগে স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে তিনটি, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ম্যানইউর হয়ে ৮৪টি ও বর্তমান ক্লাব রিয়ালের হয়ে লা লিগায় এখন পর্যন্ত ২১৩ গোল করেছেন রোনাল্ডো। সব মিলিয়ে তার লীগ গোলের সংখ্যা ২৯৯টি। এখন তাই ৩০০ গোলের মাইফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় আছেন সুদর্শন এই সুপারস্টার। রিয়াল মাদ্রিদের জন্যও রোনাল্ডোর ফর্মে ফেরা স্বস্তির। লা লিগার শেষদিকে ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সি আর সেভেনের পারফর্মেন্স পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে ধারণা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের।

২০০৬ জার্মান বিশ্বকাপ থেকে মূলত রোনাল্ডোর উত্থান। ওই আসরে স্মরণীয় নৈপুণ্য দেখানোয় বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও নামী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ তাকে তাঁবুতে ভিড়িয়ে নেয়। সুদর্শন হওয়ায় ক্রেজটা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পারফর্মও ভালই করতে থাকেন। সুদর্শন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রমণীরা তার বাহুডোরে আসতে থাকে স্রোতধারার মতো। এ অবস্থা দেখে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেনÑএমন হলে হারিয়ে যেতে বাধ্য রোনাল্ডো। সেই শঙ্কা সত্যিও হয়েছিল একসময়। তবে সেটা দারুণভাবে কাটিয়েও ওঠেন পর্তুগাল অধিনায়ক। মাঠের বাইরের এসব বিষয় নিয়ে সে সময় (২০১০ বিশ্বকাপ) বেশ আলোচনা-সমালোচনা হতে থাকে। বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর তাই তাকে নিয়ে মিডিয়ার আলোচনায় ঘাটতি পড়েনি। তখন বাবা হওয়ার সংবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার আলোচনার টেবিলে নিজের নামটি তুলে আনেন ক্রেজি রোনাল্ডো। সে সময় রিয়াল মাদ্রিদ থেকে রাউল গঞ্জালেসের বিদায়ে তার হাত আছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পর্তুগীজ তারকা বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

তবে এসব বিতর্কিত বিষয় ছাপিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রোনাল্ডো। যে প্রমাণ রেখেছেন টানা দু’বার ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জেতে।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: