রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দেশ ছাড়ছেন এ্যাথলেট কিপসিরো!

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫
দেশ ছাড়ছেন এ্যাথলেট কিপসিরো!
  • জীবননাশের হুমকি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দূরপাল্লার দৌড় এবং এ্যাথলেটিক্সে সবসময়ই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে কেনিয়া ও ইথিওপিয়া। তবে সম্প্রতি এ দুটি দেশকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে উগান্ডা। যেসব তারকা দ্রুত উঠে আসছেন এর মধ্যে অন্যতম দূরপাল্লার দৌড়বিদ মোসেস কিপসিরো। গত কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদকও জিতেছেন তিনি। কিন্তু কিপসিরো জানিয়েছেন তার দেশ ছাড়ার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন তিনি। পেছনের কারণ তার সতীর্থ নারী এ্যাথলেট জাতীয় দলের কোচের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর সেটা নিয়ে কথা বলেছিলেন কিপসিরো। এরপরই তিনি হুমকি পান। ফলে এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনুশীলন বন্ধ করে রাজধানী কামপালায় ফিরতে হয়েছিল তাকে। সম্প্রতিই এসব দাবি করেছেন ২৮ বছর বয়সী কিপসিরো।

এক বছর আগেই উগান্ডার এ্যাথলেটিক্স দল যৌন কেলেঙ্কারির বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কের ঝড় তোলে। আর এসব যৌন হয়রানির ঘটনায় একেবারে কেন্দ্রে স্বয়ং জাতীয় দলের কোচ পিটার ওয়েমালি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তিনি মহিলা দৌড়বিদদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। ভাল নৈপুণ্য করতে চাইলে ‘আমার সঙ্গে যৌন অভিজ্ঞতা অর্জন কর’ এমন কথাই তিনি নাকি বলেছেন। এ বিষয়ে কিপসিরো বলেছিলেন, ‘তিনি অনবরতই দলের মেয়েদের বলতেন তোমাদের উচিত গর্ভধারণ করা এবং এরপর গর্ভপাত করা। আর সেটা করলে ভাল গতিতে দৌড়ানোর শক্তিটা বৃদ্ধি পাবে। তোমরাও কেনিয়া কিংবা ইথিওপিয়ার এ্যাথলেটদের মতো হতে পারবে।’ এসব জানার পর কিপসিরো সঙ্গে সঙ্গেই তা পুলিশকে এবং উগান্ডা এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনে (ইউএএফ) অবহিত করেছিলেন। কিন্তু ওয়েমালি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান কোন ধরনের বাজে কাজ করেননি প্রমাণিত হওয়ার পর। এমনকি ইউএএফ উগান্ডার কিছু মহিলা সাংসদকে বিষয়টি ধামাচাপ দেয়ার জন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে। এ বিষয়ে কিপসিরোর দাবি এ ঘটনার পর থেকেই তিনি ইউএএফের কাছে একজন ‘বিদ্রোহী’ ও ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। গত ২৫ মার্চ দলের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ক্রস কান্ট্রি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার চীনের উদ্দেশে পাড়ি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। সে সময় তার মোবাইলে একটি বার্তা আসে, ‘বিশ্বাস কর আমি তোমার সঙ্গে বোঝাপড়া করবই।’ এমন বার্তা পাওয়ার পর কিপসিরো সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেন।

কিপসিরোর দাবি হুমকিটা পাওয়ার পর বিষয়টি তিনি পুলিশকেও জানিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও তাকে বলা হয়েছে। এমনকি যথাযথ নিরাপত্তা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তাকে। এ বিষয়ে কিপসিরো বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কারণ আমি চীনে দারুণ কিছু করার মতো প্রস্তুত ছিলাম এবং মে মাসে ইউজিনে ১০ হাজার মিটারে ভাল একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে উপস্থিত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা মনে হয় আর সম্ভব হবে না।’ সবকিছুর দ্রুত সমাধান না হলে এমনকি পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন এ এ্যাথলেট। তিন সন্তানের জনক কিপসিরো বলেন, ‘আমি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চাই। কিন্তু এখন প্রতিটা সময় আমাকে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমি আমার ম্যানেজারকে বলেছি যদি এভাবেই সবকিছু চলতে থাকে সেক্ষেত্রে অন্য কোন দেশে চলে যাওয়ার জন্য তার সাহায্য প্রয়োজন হবে আমার। কারণ এভাবে চলতে থাকলে আমার ভিন্ন কোন সমাধান চিন্তা করতেই হবে। কারণ আমি দৌড়াতে চাই। আমি আমার দেশকে ভালবাসি কিন্তু এখন আর অনেকেই যা করেছি সেটাকে প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখছেন না।’

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: