কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হরতালে দূরপাল্লার যান চলাচলসহ দেশ ছিল স্বাভাবিক

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও খুলনায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা টানা দুইদিনের হরতালের প্রথম দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও খুলনায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দেশের কোথাও অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। রাজধানী ছিল কর্মমুখর। সারাদেশে দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। নাশকতা এড়াতে সারাদেশে কর্ডন পদ্ধতিতে চলমান বিশেষ অভিযানে ঢাকা থেকে বোমাসহ জাসাস নেতা ও বোমা তৈরির কারিগর দুই যুবলীগ কর্মীসহ তিনজন ছাড়াও সারাদেশ থেকে শতাধিক গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে শক্তিশালী বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ সোমবার রাত একটার দিকে জেলার ভোলাহাট উপজেলার তিলোকি গ্রামের একটি আম বাগানে ইসলামী জলসা থেকে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় দুই উপপরিদর্শকসহ সাত পুলিশ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ককটেলসহ এক শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

খুলনা ॥ সোমবার রাতে আসামি ধরতে গিয়ে জেলার পাইকগাছার রাড়লী এলাকায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ সদস্যরা। বোমায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে।

বিশেষ অভিযান ॥ নাশকতার আশঙ্কায় সারাদেশে কর্ডন পদ্ধতিতে বিশেষ অভিযান চলছে। গত সোমবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ডিবি পুলিশ রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন বনরূপা আবাসিক প্রকল্প এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৯টি শক্তিশালী বোমাসহ বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংঘের খিলক্ষেত থানার সভাপতি মোঃ সেলিম চৌধুরী (৪৭), বোমা তৈরির মূল কারিগর যুবদল কর্মী মোঃ আব্দুল হাসিম (২৭) ও মেহেদী হাসান ওরফে সুমন ফকির (৩৪)। তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির বিস্ফোরকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। অভিযানকালে পালিয়ে যায় বিএনপির খিলক্ষেত থানার সভাপতি শাহিনুর আলম মারাফত ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুল হকসহ ১০ থেকে ১২ জন।

ডিবি সূত্র জানা গেছে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে জাসাস সভাপতি মোঃ সেলিম চৌধুরী ও যুবদল কর্মী মোঃ মেহেদী হাসান ফকিরের অর্থায়নে যুবদল কর্মী আব্দুল হাসিম বোমা তৈরি করে আসছিল। গত ৫ জানুয়ারি থেকে বোমা তৈরি, মজুদ ও সরবরাহের কাজ করছিল। তৈরিকৃত বোমা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেয়াসহ টার্গেটকৃত জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হতো। তারা ৫শ’ বোমা বোমা তৈরি করেছে। এর মধ্যে ২৫০টি নিজ দলীয় বোমাবাজদের কাছে সরবরাহ করেছে। বোমাগুলো যানবাহনে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার মতো নাশকতার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ডিবির পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, বোমাবাজ ও বোমা তৈরির কারখানার সন্ধানে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাদের নির্দেশে নাশকতামূলক কর্মকা- চালানো হয়েছে এবং চালানোর পরিকল্পনা চলছিল তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি।

এদিকে অভিযানে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬টি ককটেল উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২ এর একটি দল।

প্রসঙ্গত, ধারাবাহিক অভিযানে গত সোমবার লালবাগ থানাধীন ৩০৬/৩ শহীদনগরের ৫ নম্বর গলির আতিকুর রহমানের সাততলা বাড়িতে বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। কারখানা থেকে বেলাল হোসেন খান (২২) ও আল রিসালাত (২৪) নামে দুই বোমাবাজ গ্রেফতার হয়। তাদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি গান পাউডার ও বোমা তৈরির বিভিন্ন ধরনের তিন কেজি বিস্ফোরক এবং ২৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার হয়। এর আগে গত ১৯ মার্চ লালবাগ থানার ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও বিএনপি নেতা মীর আশরাফ আলী আজম ও বিএনপি নেতা মীর শরাফত আলী সপুর ভাই যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলীর লালবাগের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। তার আগে গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীতে ছাত্রশিবিরের বোমা তৈরির কারখানা থেকে ১৩০টি শক্তিশালী তাজা বোমা, পেট্রোলবোমা, গান পাউডার, জিহাদী বই ও চাঁদা প্রদানকারী জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের তালিকা উদ্ধার হয়। গ্রেফতার হয় ছাত্রশিবিরের বনানী থানা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানসহ পাঁচজন। পরদিন ২১ জানুয়ারি লালবাগ থানাধীন ঢাকেশ্বরীতে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পীর মৃত্যু হয়। আহত হয় তিনজন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজারীবাগের একটি বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে নিহত হয় হয় এক জসিম উদ্দিন নামে যুবদল নেতা। আহত হয় হাজারীবাগ থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু হোসেন ও তার ভাই জিসান।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ৯ জন, সুনামগঞ্জ থেকে ৬ জন, ঝিনাইদহ থেকে ৮ জন ও রংপুর থেকে ৫৮ জনসহ সারাদেশ থেকে শতাধিক গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী ও পেশাদার সন্ত্রাসী। তাদের গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মামলার আসামি ছাড়াও নাশকতায় নানাভাবে মদদ দেয়ার সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ৮ এপ্রিল ২০১৫

০৮/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: