কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নিউইয়র্কে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন জে. মইন

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫, ০১:১৯ এ. এম.

বিডিনিউজ ॥ দীর্ঘদিন নিভৃতে থাকার পর প্রকাশ্যে এলেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ, আট বছর আগে জরুরী অবস্থা জারির পর যিনি কার্যত বাংলাদেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মইন আহমেদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল ফ্লোরিডায় চতুর্থ উত্তর আমেরিকা রবীন্দ্র সম্মেলনে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত মইন আহমেদকে সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি অতিথিদের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় এবং অনেকের সঙ্গে ছবিও তুলতে দেখা গেছে।

২০০৭ সালে জরুরী অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও দৃশ্যত সেনাবাহিনীর প্রধান মইন ছিলেন সরকার পরিচালনায়।

ওই সময় বন্দী করা হয় দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে। হয়রানির জন্য ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা।

নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কিছুদিন পর অবসরে যান জেনারেল মইন আহমেদ। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন, তখনকার প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনও রয়েছেন একই দেশে।

আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় দমন-পীড়নের তদন্তে তাদের দুজনকে নবম সংসদের সংসদীয় একটি কমিটি তলব করলেও তারা দেশে আসেননি।

২০০৯ সালের ১৪ জুন সস্ত্রীক ফ্লোরিডায় আসেন মইন। সেখানে ছোট ভাই ও ছেলের কাছে থাকার সময় তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি নিউ ইয়র্কে থাকছেন।

কয়েক বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (গ্রিনকার্ড) পান। এরপর থেকেই নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রবীন্দ্র সম্মেলনে তাকে দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছিল না। গত পাঁচ বছরে তাকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেলেও এই প্রথম তিনি কোন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন।

পামবিচ সিটির ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে মইন আহমেদকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়।

বক্তব্যে মইন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, সারাবিশ্বের কবি তিনি। তার কাব্য-সাহিত্যে ধ্বনিত হয়েছে মানবতার মুক্তির আহ্বান, সমাজ-সংস্কারের কথা।”

কলকাতায় রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত শান্তি নিকেতন এবং কবির বাড়ি দেখার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই কবির বিশ্বজনীনতা অটুট রাখার স্বার্থে তার লেখা নতুন প্রজন্মেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি যে বাংলা ও বাঙালীর অহংকার ছিলেন তা ধারণ করতে হবে সকলকে।”

দুই দিনের রবীন্দ্র সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া-আমেরিকা ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক উপদেষ্টা নীনা আহমেদ।

আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও কাদেরী কিবরিয়া।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডা আয়োজিত এ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব নওশাদ চৌধুরী, ফোবানা চেয়ারম্যান ডিউক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক ডিন মতলুব আলী, রবীন্দ্র গবেষক পার্থ ব্যানার্জি, সাংবাদিক লাবলু আনসার, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা যুবকমান্ডের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী অংশ নেন।

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫, ০১:১৯ এ. এম.

০৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: