আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৪৫ কোটি টাকা ॥ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটির নির্বাচনী ব্যয়

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। যার সিংহভাগ ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটিতে ব্যয় হবে ২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম সিটিতে ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২৪ সদস্য। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানা গেছে, তিনি সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যয় হবে। বাকি টাকা নির্বাচনী দ্রব্যাদি ক্রয়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সম্মানী, বুথ নির্মাণ, পরিবহন, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং কন্ট্রোল রুমে ব্যয় হবে। এদিকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সিটিতে ৫০ হাজার ৫৫৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচনের অর্থের জন্য ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন আয়োজনে ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েছে কমিশন। এর আগে চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটির জন্য আলাদাভাবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তিন সিটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ২ হাজার ৮৯২টি। আর ভোটকক্ষ ১৫ হাজার ৮৮৯টি। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতিটি কক্ষে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং দু’জন করে পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হবে। তিন সিটির ভোটকক্ষে থাকবে ৪৭ হাজার ৬৬৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার। প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে তিন সিটিতে ৫০ হাজার ৫৫৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে কমিশন। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের সম্মানী ধরা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দুই হাজার টাকা এবং পোলিং অফিসাররা পাবেন দেড় হাজার টাকা।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে এবার যে খরচ ধরা হয়েছে তা একটি নির্দিষ্ট ছকে দিতে যাচ্ছে কমিশন। কারণ হিসেবে কমিশন বলছে, অনেক সময় অভিযোগ পাওয়া যায়, পুলিশের তৃণমূলের লোকজন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মানী পান না। মৌখিকভাবে পুলিশের নিম্নস্তরের কর্মকর্তরাও এ সব অভিযোগ করে থাকেন। এজন্য এবার আগাম খরচের খাতওয়ারি বর্ণনা দিতে হবে। খরচগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে মূলত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও ক্ষেত্রবিশেষ সশস্ত্র বাহিনীর পেছনে ব্যয় হয়ে থাকে।

বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করে ছয় দফা দাবি দাওয়া উত্থাপন করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন। দাবির প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিষয়টি তারা বিবেচনায় নেবেন। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেও মতামত নেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েন করার বিষয়ে বিএনপিকে আশ্বাস দেয়া হলেও স্বস্তিতে নেই দলটির নেতারা। ইতোমধ্যে তারা নির্বাচনী ফলাফল সরকারের ঘরে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছেন।

২০০২ সালে সর্বশেষ অবিভক্ত ডিসিসির নির্বাচনে ইসির ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৩ কোটি টাকা। ১৩ বছরে ভোটার বেড়েছে। বেড়েছে নগরীর পরিধি। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে আনুষঙ্গিক সব কিছুই। সঙ্গত কারণেই এবারের নির্বাচনে ব্যয় বাড়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। সব মিলিয়ে এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যয় ধরা হয়েছে তিনগুণ। অন্যদিকে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। এবার সে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ইসির বাজেট শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনী উপকরণ বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য ব্যয় তিনগুণ ধরা হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সম্মানীও আগের চেয়ে ৩ গুণ বাড়ানো হয়েছে। তবে মোট নির্বাচনী বাজেটের বেশিরভাগ ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে।

১৯ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক ॥ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কঠোর নজরদারি শুরেু করেছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে নিয়মিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সেনাবাহিনী নামাতে পারে ইসি। তবে সেটি ১৯ এপ্রিল সর্বশেষ ইসির আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকার শীর্ষ ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চিরুনী অভিযান শুরুর বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে বৈঠকের আলোচ্যসূচী তৈরি করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে ওইদিন সকাল ১১টায় বৈঠক শুরু হবে। এতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির উর্ধতন কর্মকর্তারা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের নজরদারির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব সময় আলোচনা করা হয়। এবারও তাই হবে। এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। এদিকে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীতে অপরাধীর তালিকা তৈরি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তালিকা অনুযায়ী নগরীরে চালানো হবে গ্রেফতারি অভিযান। নির্বাচনের আগেই এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ভোটের সময় তিনি সিটি কর্পোরেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসারসহ মোট ২৪ জন করে রাখা হবে। প্রয়োজনে তা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ও ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্যদের নিয়োগ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে। সার্বিক বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল থাকবে। এতে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জরুরী প্রয়োজনে সেল বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য সকলের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তারা।

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

০৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: