কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভাসানটেকে বারান্দা থেকে পড়ে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ভাসানটেকের নিজ বাড়ির তৃতীয় তলার ঝুলবারান্দা থেকে পড়ে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এদিকে খিলগাঁওয়ে ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মৃত্যু হয়েছে। একই থানা এলাকায় নাতনীকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে লালবাগে ছিনতাইকারীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছে। সোমবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ভাসানটেক দেওয়ানপাড়া এলাকায় একটি ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে নিচে পড়ে আনোয়ার হোসেন দেওয়ান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, জমি-জমার বিরোধের জের ধরে দুই চাচা ভবনের ছাদ থেকে ভাতিজা আনোয়ার হোসেনকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। নিহত আনোয়ারের বাবার নাম আরব আলী। নিহতের স্ত্রী নীলা আক্তার দেওয়ান জানান, দেওয়ানপাড়া এলাকায় তাদের পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তারা থাকেন। এ বাড়ি নিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে চাচা ইব্রাহিম দেওয়ান ও মোস্তফা দেওয়ানের বিরোধ চলে আসছিল। তার অভিযোগ, সোমবার সকালে এর জের ধরে ইব্রাহিম ও মোস্তফা দেওয়ানসহ কয়েকজন মিলে সকালে তার স্বামী আনোয়ার দেওয়ানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা ওই ভবনের তৃতীয় তলা থেকে তার স্বামী আনোয়ারকে নিচে ফেলে দেন। তিনি জানান, পরে স্বামী আনোয়ারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ভাসানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সোমবার সকালে আনোয়ারের সঙ্গে তার চাচা ইব্রাহিম দেওয়ানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার দেওয়ান তার চাচাকে চড়-থাপ্পড় মেরে বাসায় চলে আসেন। ওসি জানান, পরে তার চাচা লোকজন নিয়ে তার বাসার সামনে গিয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় আনোয়ার দেওয়ান ভয়ে তার ভবনের তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে আনোয়ারকে ঢামেক হাসপাতাল আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মৃত্যু ॥ সোমবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে নিজ বাড়িতে ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে বাড়িওয়ালা আনোয়ার হোসেন (৫০) ও তার বাড়ি ভাড়াটিয়ার আব্দুর রাজ্জাকের (২০) মৃত্যু হয়েছে। নিহত ভাড়িওয়ালা আনোয়ার হোসেনের চাচাত ভাই আশরাফুল জানান, খিলগাঁওয়ের তিলবাপাড়া তারাবাগে সিটি কর্পোরেশনের জোন অফিসের পাশে টিনশেড নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন আনোয়ার হোসেন। তার বাড়িতে একটি রুমে ভাড়া থাকতেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, রবিবার মধ্যরাতে ঝড়-বৃষ্টিতে তার বাড়ির সামনে পানি জমে যায়। ঝড়ের কারণে বাড়ির বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পানিতে এসে পড়ে। আশরাফুল জানান, সোমবার সকালে সাড়ে ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুর রাজ্জাক জমে থাকা ওই পানিতে নামলে তিনি বিদ্যুতায়িত হন। এটি দেখে ভাড়িওয়ালা আনোয়ার তাকে উদ্ধার করতে যান। এ সময় তিনিও বিদ্যুতায়িত হন।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক ॥ সোমবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের খিদমা হাসপাতালের সামনের রাস্তায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আবুল বাসার (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত আবুল বাসার খিলগাঁও থানাধীন সি-ব্লকের ২২৬ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকতেন। খিলগাঁও থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন জানান, সোমবার সকালে নাতনীকে সাউথ পয়েন্ট স্কুলে দিয়ে যান আবুল বাসার। পরে সকাল ৯টার দিকে নাতনীকে স্কুল দিয়ে ফেরার পথে খিদমাহ হাসপাতালের সামনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে খিদমাহ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

ছিনতাই ॥ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোররাতে লালবাগ থানার অদূরে শহীদনগর সংলগ্ন বেড়িবাঁধের ওপর ট্রাকস্ট্যান্ডে সামনের ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ফারুক আহমেদ (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতের সহকর্মী মাহমুদ হাসান জানান, ফারুক চকবাজারের সোনার মদিনা ট্রান্সপোর্টে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের খালাত ভাই। তিনি জানান, সোমবার ভোররাতে কর্মক্ষত্র থেকে রিক্সাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। লালবাগ ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় এলে ৪-৫ জন ছিনতাইকারী ফারুকের বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তিনি চিৎকারে দিলে পথচারীরা এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তবে তার টাকা বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়নি বলে মাহমুদ হাসান জানান।

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

০৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: