মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকার দিনরাত

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

রবিবার ছিল ইস্টার সানডে; খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য এক শিক্ষিকা বন্ধুকে ফোন করলাম দুপুরের দিকে। জানা গেল তিনি তাঁর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলেই আছেন! বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম- কেন ছুটি পাননি? জানালেন অবরোধ-হরতালের কারণে তাঁর স্কুল মাস দুয়েক পুরো বন্ধ ছিল। পরে কেবল শুক্র শনিবার খোলা রাখা হতো। চলতি সপ্তাহ থেকে নিয়মিত ক্লাস হবে। তাই ইস্টার সানডের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অবশ্য খ্রীস্টান শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ছুটি ভোগ করতে পারবেন। ভদ্রমহিলা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, অন্যরা ক্লাস করবে এবং ক্লাস নেবেন। তাহলে তিনি এর বাইরে থাকলে সেটা কি বৈষম্য হবে না?

কী উত্তর দেব তার যুক্তিনিষ্ঠ কথার। আমার নীরবতায় কিছুক্ষণ তিনিও মৌন থেকে ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে যা শোনালেন তাতে একটু দমে গেল মনটা। তিনি হতাশা নিয়ে বললেন, প্রতিবছর ইস্টার সানডের প্রাতঃকালীন প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয় মানিক মিয়া এভিনিউতে। এবার সরকারের অনুমতি না মেলায় তার পরিবর্তে বটমলী স্কুলের মাঠে কর্মসূচী পালন করতে হয়েছে। যথাপোযুক্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রার্থনাটি কি সেখানে করা যেত না?

আর কত নীরব থাকা সমীচীন। মুখ খুলতেই তিনি থামিয়ে দিয়ে বললেন, থাক আপনাকে কিছু বলতে হবে না। বরং আমাদের ‘বোমারু’ নেত্রীর কাছেই প্রশ্ন করতে চাই- সেই তো আজ তিনি আদালতে গেলেন, স্বগৃহেও প্রত্যাবর্তন করলেন। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও যাচ্ছেন। মাঝখান থেকে পেট্রোলবোমায় এতগুলো মানুষের প্রাণহানি কেন ঘটালেন? আর ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায়ও বা কেন ঝামেলা বাধালেন!

রাজধানীতে কালবৈশাখী

বোশেখ আসার আগে কালবৈশাখী হবে- এ তো বাঁধাধরা নিয়ম; আর রাজধানীও খানিকটা বিপর্যস্ত হবে। কালবৈশাখী তো কেবল ঝড়-বাদলা নয়, নয় বড় বড় মুক্তোদানার মতো শিলার পতন, বরফ ভেবে যা খেয়ে ফেলে আলাভোলা কিশোরী। কালবৈশাখী মানে ঝমঝম বৃষ্টিও। এই বৃষ্টিতে বিপুল জলাবদ্ধতা হয় না বটে! যদিও রাজধানীর অলিগলির ছোট ছোট রাস্তা ছাড়াও বড় বড় সড়কের দু’পাশে জমে যায় পানি। একটা অপরিকল্পিত শহর কত আর ভার নেবে! সন্ধ্যাবেলা অফিস ফেরত হাজারও লোকের কী যে দুর্দশা! ফুটপাথ তো কবে থেকেই বেদখল হয়ে আছে। রাস্তার কিনার ধরে হাঁটার জায়গাটুকুও সঙ্কুচিত বর্ষার কারণে। কিভাবে পথ পেরুবেন পথিকরা? তাছাড়া যাত্রী-ছাউনি কোথায় পাবেন এ শহরে? ফলে বাধ্য হয়েই বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে কাকভেজা হন অনেকেই, সবাই তো আর হিসেবি নন যে ছাতা রাখবেন সঙ্গে। একেকটা বাস আসে যাত্রীবোঝাই হয়ে। তাতে নতুন যাত্রীর ঠাঁই মিলবে কিভাবে! সারাটা দিন অফিস করে কর্মক্লান্ত শরীরটাকে নিয়ে পরিবারের স্বজনদের কাছে ফেরাটা তাদের বিলম্বিত এবং বিড়ম্বিত হয়। এটাই তো রাজধানীর নিম্ন মধ্যবিত্ত চাকুরেদের চৈত্রের রীতিসিদ্ধ দিনযাপন। নির্বাচিত নতুন নগরপিতার অপেক্ষায় আছে ঢাকা। তিনি এসে কি এই মানুষগুলোর মুশকিল কিছুটা আসানের উদ্যোগ নেবেন?

ফেসবুকে ঢাকার কড়চার প্রসঙ্গ উঠলে অবধারিতভাবে এ সপ্তাহের রোজনামায় এসে যাবে চৈত্রের বৃষ্টি। এই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করা চলে না। সংবেদি মন অনেক অনুভূতিতে সিক্ত হয়। তার ছিটেফোঁটা শব্দাকারেও বের হয়ে আসে। চৈত্রবৃষ্টির শব্দসৃষ্টির এ দিকটি বিচিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়েই উপস্থিত ঢাকার জীবনপ্রবাহে। অথির শেরপা নামে এক তরুণ কবি কী লিখেছেন পড়া যাক- বৃষ্টিকে নিয়ে লিখবো না লিখবো করেও আবারও লেখা হয়ে যাচ্ছে। সে তো লক্ষ্মী মেয়েটি হয়ে বসে থাকার নয়! মনে হচ্ছে একটা এসপার-ওসপার করে ছাড়বে এবার। ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছি। সুন্দর মতোই বিশ্বরোডে এসে পৌঁছলাম; তারপরই দেখতে না দেখতে ঝুম বৃষ্টি যাকে বলে! বৃষ্টি মনে হয় মানুষকে কিছুটা বোকাও বানিয়ে দেয়। নইলে দুটো অটোরিক্সা আমাকে সাধাসাধি করার পরও কেন ভাঙ্গা দু’চালার নিচে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকব? সব দেখে মনে হলো চৈত্রের সঙ্গে বর্ষার এখনই একটি অলিখিত চুক্তি হয়ে গেছে। আদুরে কন্যার মতো সে কেবল ফুলে ফুলে কাঁদবে আর বর্ষা দূর থেকে সান্ত¡না দিয়ে বলে যাবে, তুমি এখন কাঁদলে মানুষের মনের দরজাগুলো একটা একটা করে খুলে যাবে; আমি এসে খুলব বাকিগুলো! ঢাকায় ফেরার পথেও বাদ সাধলো এই বৃষ্টি। মনে হলো এই বন্ধন অনেক মধুর! প্রিয়জনের বন্ধনের মতো!

বৃষ্টি কি কেবল রোমান্টিকতা জাগায়? নাকি সমাজলগ্ন হওয়ার প্রেরণাও থাকে তাতে। আরেক তরুণ লেখক, যাঁর পেশা টিভি-সাংবাদিকতা। তিনি কিভাবে দেখলেন চৈত্রবৃষ্টিকে অর্থাৎ কালবৈশাখীকে? করা যাক তার সুলুক সন্ধান। মাজুল হাসান লিখেছেন : না, বৃষ্টিবিলাসী হতে পারছি না। মানতে পারছি নাÑ হঠাৎ কিছু দমকা-বাতাস আর ১৮ জনের মৃত্যু! আসলে, বাদলা দিনে বড়গাছের নিচে আশ্রয় নেয়াটা বোকামি। যেমন বটবৃক্ষের মতো বড় কবির ছত্রছায়ায় যাওয়াটা শেষবিচারে ক্ষতিকর; তাতে ঠাটাপড়ার আশঙ্কা বাড়ে। কবিতা ও জীবনের ঝড়োবৃষ্টি হাওয়া সহ্য ক্ষমতা থাকা জরুরী। অনেক মনভোলানো বিলবোর্ড থাকবে ঠুনকো বাতাসে মাথায় ভেঙ্গে পড়ার জন্য...

ঢাকার অদূরে অন্য শহরেও তো আছড়ে পড়ছে চৈত্রবৃষ্টি। নুশাইবা নুশার অনুপম বিবরণ থেকে অল্প ক’লাইন উদ্ধৃত করছি : এই শহরের অলিগলিতে উড়ছে মেঘ। অথচ বুক-পাঁজরে আজও ফোটেনি ঠোঁট-রাঙা পলাশের থোকা থোকা জ্যোৎস্না! চিলেকোঠার বৃষ্টিস্নানে মুখ ডুবিডুবি গতরাতে পাওয়া চিরকুট, ভেজা নূপুরে ঘণ্টা বেজে বেজে সরে যায় দূর থেকে দূরে... যেন মৃত ক্যাথিড্রালে অপরূপ নতুন জন্মতিথির ঘোর।...

রাজপথে রুচির পরিচয়

হাওয়া বাবু তারেক ভাই

শিক্ষা দীক্ষার বালাই নাই

যেমন মায়ের তেমন ছেলে

জিয়া কবরে দুঃখে মরে

ঢাকার ভিআইপি রোডে ফার্মগেট থেকে শাহবাগ যেতে শ’-দেড় শ’ গজ পরপর বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত ভুল বানানে লেখা ডিজিটাল প্রিন্টের প্রচারণাটি চোখ এড়ায় না। সেই প্রিন্টের একদিকে ওপরের ওই লাইনগুলোর নিচে রচয়িতার নাম-পরিচয় মুদ্রিত। তাই জানা হলো এই ‘রুচিবান’, ছড়াকার ও বিজ্ঞাপনদাতা চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্য। এ প্রচারণা-প্রিন্টের উল্টো দিকে রঙিন ছবি সহযোগে সরকারের সাফল্যকথা তুলে ধরা হয়েছে। জিয়া পরিবারের তিনজনকে নিয়ে চার লাইনের লেখা প্রচারণাটি পড়ে কেউ হাসেন মজা পেয়ে, কেউ হাসেন বিদ্রƒপের হাসি। কবরেও যে দুঃখে মরা যায়- এ আশ্চর্য আবিষ্কার থেকেও পথচারীরা নিশ্চয়ই বিনোদনের খোরাক পান। রাজনৈতিক বিরোধিতায় থাকবে শালীনতা, বিশেষ করে যিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তাঁর কাছ থেকে দেশবাসী সুশিক্ষা ও সুরুচির পরিচয়ই প্রত্যাশা করবেন। সদর রাস্তায় এ ধরনের প্রচারণা থেকে কী ফায়দা হয় বুঝি না।

বাংলায় লিখুন বিলবোর্ড

চৈত্রের প্রথম দিনই রাজধানীতে কালবৈশাখী ছোবল হানার উদাহরণ আছে। এবার অবশ্য তৃতীয় সপ্তাহে আঘাত হানতে শুরু করে। ঝড়ে বিলবোর্ড পতন ফি বছরের রীতি। রবিবার জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় বিলবোর্ড ভেঙ্গে পড়ার ছবি ছাপা হয়েছে। ঢাকাতেই বিলবোর্ডের আঘাতে পথচারীর মৃত্যু হয়েছে এর আগে। ক’বছর আগে গুলশানে একটি বিলবোর্ড রাস্তায় চারটি গাড়ির ওপর বিকট শব্দে ভেঙ্গে পড়ে। এতে প্রাইভেট গাড়ির একজন চালক এবং ফাস্টফুড দোকানের একজন কর্মচারী মারা যান। মৃত্যু এত সহজ! ঝড়বৃষ্টি হলে বজ্রপাত ঘটে- এটা স্বাভাবিক। খোলা জায়গায়, বিশেষ করে নদীতে বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। এটা প্রাকৃতিক ঘটনা। কিন্তু মাথার ওপর বিলবোর্ড আঁছড়ে পড়ে মৃত্যু! না, সভ্যতার দংশন মেনে নেয়া যায় না। ফলে এটাই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, মজবুত করে অনেক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয় না। তার মানে রাজধানীর পথচারীদের জীবনের ওপর আরও একটি নতুন ঝুঁকি যোগ হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েও দুর্বল অবকাঠামোর ওপর গড়েওঠা বিলবোর্ডগুলো শনাক্ত ও অপসারণের কাজ করবে কে?

বিলবোর্ড বা বিজ্ঞাপনের বোর্ড গোটা রাজধানীতেই দাপটের সঙ্গে উপস্থিত। জানা যায়, রাজধানীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিলবোর্ড আছে। কবি বলেছিলেন, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। এখন কেবল মুখই নয়, গোটা বাড়ি এমনকি আকাশের অংশবিশেষও ঢেকে যাচ্ছে বিলবোর্ডের আগ্রাসনে। প্রধান সড়কের পাশে থাকা আবাসিক বা অনাবাসিক বহু বাড়ির মালিকই ভবনের সিংহভাগ ছেড়ে দিচ্ছেন বিজ্ঞাপনদাতাদের মোটা অর্থের বিনিময়ে। ফলে ঘরের জানালা বন্ধ হয়ে গেছে। আলো-বাতাস-শব্দের আসা যাওয়ার পথ রুদ্ধ। আকাশ দেখাও বাদ। শুদ্ধবাদীরা সৌন্দর্যহানির কথা বলবেন, বলবেন শালীনতার সীমা অতিক্রমের কথাও। একবার একটি বিলবোর্ডে দেখেছিলাম আধাশোয়া নারীর উর্ধাঙ্গের পোশাক কী পতনপ্রবণ। বেচারির একটি হাত রক্ষাকবচ হয়েছিল বাধ্য হয়ে। আমার মতো বাবা কলেজপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে এই পথ পেরুনোর সময় কী করবেন? চোখ বন্ধ রাখবেন, নাকি ঘাড় ঘুরিয়ে অন্য কিছু অবলোকনের ভান করবেন?

সবকিছুরই একটি অনুপাত ও মাত্রা থাকা সমীচীন। একটি নির্দিষ্ট সড়কে বিলবোর্ড বসানোর জন্য কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আনবেন বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পেস ভাড়া দেয়া প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। ঢাকায় ডিসিসি বা ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এ দায়িত্ব পালন করছে। জায়গার তুলনায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বেশি হয়ে গেলে নিশ্চয়ই তা অরুচিকর হয়ে উঠবে। মানুষের চোখ কতখানি নিতে পারে সেই বিজ্ঞানসম্মত বিবেচনা না হয় সরিয়েই রাখা গেল। খোলা প্রান্তরে ইয়া বড় দোতলা বাড়ির সমান বিলবোর্ড মানানসই হতে পারে, কিন্তু সড়ক ঘেঁষে থাকা ক্ষুদ্র পরিসরে অনেক চওড়া ও উঁচু বিলবোর্ড উৎকটই মনে হয়। সত্যি বলতে কি, রাজধানীতে চলার পথে আগ্রাসী বিলবোর্ড সংস্কৃতির কারণে আমরা নিত্য ছন্দহীনতা ও সৌন্দর্যহীনতার মুখোমুখি হই।

বিজ্ঞাপনের ভাষা নিয়েও কথা বলতে হবে। একটি সড়কে প্রতি দশটি বিলবোর্ডের ভেতর কয়টি বাংলায় লেখা হবে তারও একটা নিয়ম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অবশ্যই আমাদের ভাবতে হবে। এছাড়া আরও একটি বিষয় মনের দিক থেকে সুস্থ যে কোন মানুষকেই পীড়া দেয়। সেটি হলো- দু’পাশের দেয়ালে চড়া রঙে ভুল বাক্য ও বানানে নিম্নমানের বিজ্ঞাপন। এসব দেয়াললিখন ও দেয়ালছবিতে বাড়াবাড়ি রকমের অসুন্দর বিরাজ করছে। বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে মহাখালী গেলে যে কেউ আমার এ উচ্চারণের সত্যতা অনুধাবন করতে পারবেন। দেয়ালের শুভ্রতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছি আমরা টাকার হাতছানিতে। কিন্তু সেক্ষেত্রে অন্তত অশুদ্ধতা ও অরুচির মাত্রা যেন আমরা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারি, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।

যা হোক চলতি মাসে আরও ঝড় হবে। তাই পথচারীর মাথার ওপর, বলা ভাল জীবনের ওপর বিলবোর্ডের আঘাত হানার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ঢাকার সড়কগুলোকে যদি আমরা গ্রাম্যতা ও অরুচির কবল থেকে রক্ষা করতে চাই, তাহলে পথপার্শ্বের বিবিধ বিজ্ঞাপন ও বিলবোর্ড স্থাপন প্রসঙ্গে অবশ্যই আমাদের একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। বিলবোর্ড স্থাপনে স্পেস বণ্টনেও একটা স্বচ্ছতা আসা দরকার।

একজন সন্জীদা খাতুন

এই ঢাকা শহরে একজন সন্জীদা খাতুন আছেন বলেই শিক্ষিত সমাজের সংস্কৃতিচর্চায় নতুন প্রাণ ও প্রেরণার প্রাপ্তি ঘটেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এর ভূমিকা ঐতিহাসিক। দেশব্যাপী রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রসারের জন্য তিনি তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাণী বহুজনের কাছেই যথার্থভাবে বোধগম্য নয়। অনেক শিল্পীও না বুঝেই গান করেন। ড. সন্জীদার লেখা ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভাবসম্পদ’ গানের ভাব ও বক্তব্য বোঝার জন্য এক অসামান্য গ্রন্থ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রত্যাশিত অবদান রেখেছেন। ‘বায়ান্ন সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গিয়ে বিপদে পড়েছিলাম। আবেদনপত্রের পেছনে নানান শর্ত লেখা রয়েছে। তার একটি, মাথায় ঘোমটা দিয়ে চলা বাধ্যতামূলক। আরও ছিল ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে হলে প্রক্টরের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে বলতে হবে। কথা না হয় না-ই বললাম কিন্তু ঘোমটা? উঠতি বয়সের নবজাগ্রত সম্মান আর স্বাতন্ত্র্যবোধের দরুন মনের ভাব হয়েছিল যে, সেই পাকিস্তান আমলে কলেজের প্রথম ঘণ্টা পড়তেই লাইনে দাঁড়িয়ে হালিমা আপার সঙ্গে গলা মিলিয়ে সুরা পড়ার সময়েও ঘোমটা দিতাম না। তবে মাথানত করে শ্রদ্ধাভরে নীরব থাকতাম ঠিকই। অবাক বিষয়, শিক্ষকরা আমাকে এ নিয়ে কোন প্রশ্ন করেননি। ঘোমটা দেইনি কখনও।’ কথাগুলো লিখেছেন সন্জীদা খাতুন তাঁর ‘সহজ কঠিন দ্বন্দ্বে ছন্দে’ বইতে। সংস্কৃতি জগতে নববসন্ত এনে দেয়া এই প্রাজ্ঞজন জন্মগ্রহণ করেছিলেন বসন্তেই। শনিবার ৮৩ বছরে পা দিলেন তিনি। তাঁকে আমাদের শ্রদ্ধা।

৬ এপ্রিল ২০১৫

marufraihan71@gmail.com

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

০৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: