রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কারাগারে যাচ্ছে কামারুজ্জামানের পরিবার

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫, ০৪:৩৭ পি. এম.

স্টাফ ‍রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে ডেকেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ফাঁসির আসামি এই জামায়াত নেতার ছেলে হাসান ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের চিঠি দিয়ে বলেছে, আমরা চাইলে সোমবার বিকাল ৫টায় কারাগারে সাক্ষাৎ করতে পারি। আমরা ওই সময়ের মধ্যেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাব।

তবে, দণ্ড কার্যকরের আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান। এ জন্য আলোচনা করতে তার আইনজীবীরা বিকাল ৪টায় সাক্ষাৎ করতে চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাননি। তার অন্যতম আইনজীবী শিশির মনির জানান, আমরা অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে তা নাকচ করে দিয়েছে। তবে বিকাল ৩টার দিকে চিঠি পাঠিয়ে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে বলেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী বলেন, এ ধরনের রায়ে সবসময়ই পরিবারকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী পরিবারকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ পর্যায়ে আলোচনার জন্য আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ নেই। এ কারণে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই কামারুজ্জামানকে কারাগারে রাখা হয়েছে। ওই রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

এর বিরুদ্ধে কামারুজ্জামান রিভিউ আবেদন করলে সোমবার তাও খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ।

রায়ের পর এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকরের আগে তার প্রাণভিক্ষার আবেদন ও পরিবারের সাক্ষাতের বিষয়টিই কেবল বাকি আছে।

নিয়ম অনুযায়ী কামারুজ্জামান অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলে রাষ্ট্রপতি তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে অথবা কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের আগেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে সে সময় কাদের মোল্লা প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি বলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন।

এদিকে সকালে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরপরই পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। র্যাবের টহল দলকেও নিয়মিত ওই এলাকায় টহল দিতে দেখা যায়।

চকবাজার থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, যেহেতু রিভিউ খারিজ হয়ে গেছে, সেজন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতেই কারাগার এলাকার নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে।

দুপুরের পর দীর্ঘ দুটি বাঁশ ও ত্রিপল কারাগারের ফটক দিয়ে ভেতরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সঙ্গে নেওয়া হয় দুই বস্তা বালি।

কারাগারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফাঁসির মঞ্চের ওপরে আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহারের জন্য বাঁশ ও ত্রিপল নেওয়া হয়েছে।

এর আগে কাদের মোল্লার ফাঁসির সময়ও এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল যাতে আশেপাশের কোনো উঁচু ভবন থেকে দেখা না যায়।

আর ফাঁসির দড়ি ওজন নিতে পারে কি-না তা পরীক্ষার জন্য বালির বস্তা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কারা তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী। তিনি বলেছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী কাজ করতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫, ০৪:৩৭ পি. এম.

০৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: