রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বৈশাখ এলো বলে...

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫

দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। মধু মাস নামে খ্যাত বৈশাখের আবহাওয়াতে তেমন একটা মধু না ছড়ালেও বিভিন্ন ফলমূল এবং আনন্দ উৎসবে যে তা বাঁধভাঙ্গা মধু ছড়াবে, সেটা কিন্তু আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নানা আয়োজনের মাধ্যমে পুরনো বছর ১৪২১ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪২২ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দেশবাসী। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, পাড়া-মহল্লাসহ বিভিন্ন অফিস-প্রতিষ্ঠানে চলছে নববর্ষকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি। অতঃপর বৈশাখের প্রথম দিনে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’Ñ এর কলতানে বেরিয়ে পড়বে নববর্ষকে স্বাগত জানাতে। পুরনো বছরের সকল গ্লানি-ব্যর্থতা ভুলে এদিন মানুষ নতুনের টানে সামনে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে।

চারুকলা

বর্ণাঢ্য ও জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় বাঙালী। আর এসকল বর্ণাঢ্য আয়োজনের পেছনে থাকে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং যথাযথ প্রস্তুতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আয়োজন করা হয় বর্ণিল সব অনুষ্ঠানের। ঠিক তেমনই একটি আয়োজন হলো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। মঙ্গল শোভাযাত্রা হচ্ছে বাংলা নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ। প্রত্যেক বছর এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে বের করা হয়। পরবর্তীতে সমগ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি চারুকলায় এসে শেষ হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন চারুকলার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। তাঁরা সকলেই হাতে রঙ-তুলি তুলে নিয়ে শিল্পকর্ম তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। চারুকলার ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল কেউ মাটির শানকির মধ্যে বিভিন্ন নক্সা অথবা গ্রামবাংলার অপরূপ দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছেন, কেউ কাগজ-বাঁশ-বেত দিয়ে খেলনা-শোপিস তৈরি করছেন, আবার কেউবা তেল রঙের সাহায্যে বাংলাকে এঁকে যাচ্ছেন অপরূপ সৌন্দের্য। এসমস্ত শিল্পকর্ম বিক্রি করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ জন্য টাকা সংগ্রহ করা হবে। পাশেই চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন মুখোশ এবং বিশাল আকৃতির শিল্পকর্ম (হাতি, ঘোড়া, পাখি, পেঁচা, দানব প্রভৃতি) তৈরির কাজ। চারুকলার শিক্ষার্থীরা সুনিপুণভাবে তৈরি করে যাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের মুখোশ। বিশাল আকৃতির শিল্পকর্মের কাঠামো তৈরির কাজও প্রায় শেষ। এখন শুধু তাদের রূপদান করার কাজটাই বাকি।

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’টি প্রতিবছর দেশের অশুভ শক্তির দমন এবং দেশে পরিপূর্ণ শান্তি লাভের আশায় বের করা হয়।

মেলা

অন্য আট-দশটি মেলা থেকে ‘বৈশাখী মেলা’ বাঙালীর জীবনে অন্যরকম গুরুত্ব বহন করে। এদিন নানা বয়সী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বৈশাখের সেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক লালপাড়ে সাদা শাড়ি এবং লাল অথবা সাদা পাঞ্জাবি পড়ে মেলায় আসে। ঢাকার মেলাগুলো প্রধানত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলভিত্তিক হয়ে থাকে। এছাড়াও দেশের নানাপ্রান্তে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। নাগরদোলায় দুলে, ছোট বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের রাইডে চড়ে, বাঁশি-ঢোল বাজিয়ে বাঙালী বরণ করে নেয় নতুন বছরকে। বৈশাখী মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ‘পুতুল নাচ’ এবং ‘ম্যাজিক শো’। যেহেতু নতুন বছর আসতে আর বেশি দেরি নেই, তাই সব জায়গায় চলছে মেলার জোর প্রস্তুতি।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিকগোষ্ঠীসহ ছায়ানট, বাফা, শিশু একাডেমি দিনটি উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ভোর ছয়টায় রমনা বটমূলে ‘এসো হে বৈশাখ’ সুরে নতুন বছরকে বরণ করে নেবে ‘ছায়ানট’।

বাফার ওয়াইজঘাট এবং ধানম-ি শাখায়, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিকগোষ্ঠী, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুুন বছরকে স্বাগত জানানোর সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির জন্য অপেক্ষার পালা।

হালখাতা

নববর্ষের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের নামটি হচ্ছে ‘হালখাতা’। বছরের শেষে ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রেতাদের পুরনো হালখাতা বন্ধ করে, নতুন হালখাতা চালু করেন। এই দিনে ক্রেতারা পুরনো বছরের সকল হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে ফেলেন এবং বিক্রেতারা তাদের মিষ্টিমুখ করান। এতে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়।

নববর্ষের আগমন মানে নতুন একটি আনন্দের উপলক্ষ বয়ে আনা। এদিন বাঙালী তার সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চালিকাশক্তি পায়। তাই বাঙালীর জীবনে নববর্ষের ভূমিকা অপরিসীম।

নাসিফ শুভ

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫

০৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: