কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫
  • সিটি নির্বাচন ওয়ার্ড পরিক্রমা

আরাফাত মুন্না ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রধান সমস্যা ভাঙ্গা রাস্তা, আবর্জনা ও মশার উপদ্রব। আর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসব সমস্যার চেয়েও বড় সমস্যা বিহারী ক্যাম্প। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মিরপুরের কয়েকটি এলাকা নিয়ে এসব ওয়ার্ড গঠিত। এসব সমস্যার সমাধান যে করে দেবে তাকেই ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে, প্রার্থীরাও ভোটারদের মন পেতে দিচ্ছেন না প্রতিশ্রুতি। এই তিন ওয়ার্ডেই রয়েছে আওয়ামী লীগের ৪ থেকে ৫ জন করে প্রার্থী। পক্ষান্তরে বিএনপি-জামায়াতের রয়েছে একক প্রার্থী। একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে এসব ওয়ার্ডে। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে ভোটার ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঐতিহ্যবাহী মিরপুরের সেকশন ১৩, ১৪, পশ্চিম বাইশটেকি, পূর্ব বাইশটেকি, ১৩নং টিনশেড কলোনি, ১৪-এর বিওডি টিনশেড কলোনি এবং ১৪নং স্টাফ কোয়ার্টার নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডটি। এ ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ৫০ হাজার ৫৫৬ জন। তাদের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যাই বেশি।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে এখন পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত রয়েছেন ৪ জন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রয়েছেন ২ জন। জাতীয় পার্টি সমর্থিত ১ জন, বিকল্পধারা সমর্থিত ১ জন ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী রয়েছেন ১ জন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা হলেনÑ মোঃ মতিউর রহমান (মাইকেল), মোঃ জামাল মোস্তফা, মোঃ সামসুদ্দিন শেখ ও মোফাজ্জল হোসেন। বিএনপি সমর্থিত দুইজন হলেন, আব্দুল মালেক হাওলাদার ও সার্বির দেওয়ান। এছাড়া জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন, নুর মোহাম্মদ দেওয়ান, বিকল্পধারার প্রার্থী হয়েছেন, নুর মোহাম্মদ এবং লসকর মোঃ তসলিম প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ এখনও একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে না পারায় নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম হতাশা। তারা আশা করছেন আগামী ৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ এক প্রার্থী ঠিক করতে পারবে। অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও তাদের বাসায় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অধিকাংশই রয়েছে গা-ঢাকা দিয়ে।

নাগরিক সমস্যা ॥ এই ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা ভাঙ্গা রাস্তা। সেই সঙ্গে আবর্জনা ও মশার উপদ্রব বড় সমস্যা। এছাড়া এই ওয়ার্ডে নেই কোন সরকারী কমিউনিটি সেন্টার ও শিশুপার্ক। সরেজমিনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলি-গলির পিচঢালাই রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় এলাকার বাসিন্দারা ময়লা ফেলেন যত্রতত্রভাবে। তাই এই ওয়ার্ডে একদিকে যেমন রয়েছে দুর্গন্ধ ও অন্যদিকে বেড়েছে মশার উপদ্রব।

এলাকার বাসিন্দা মোঃ আশরাফুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, এ এলাকায় ভাঙ্গা রাস্তার সমস্যা ও মশার উপদ্রব অনেক বেশি। নির্বাচন উপলক্ষে কাউন্সিলরা অনেকেই আসছেন ভোট চাইতে। তাঁরা নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সামধানও করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে যে নির্বাচিত হলে আমাদের জন্য কাজ করবে বলে মনে হবে তাকেই আমরা ভোট দেবো বলেন, আশরাফুল। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান (মাইকেল) জনকণ্ঠকে বলেন, এই ওয়ার্ডে অনেক সমস্যাই আছে। অনেক সমস্যা স্থানীয় এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের সহযোগিতায় সম্পন্ন করেছি। তিনি বলেন, জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে আমি তাদের সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করে যাব। ৪নং ওয়ার্ডকে আধুনিক ও পরিকল্পিত ওয়ার্ডই গড়ে তোলার চেষ্টা করব।

৫ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঐতিহ্যবাহী মিরপুরের কালশী রোড, লালামাটিয়া বেড়িবাঁধ, এ্যাভিনিউ ৫-এর আংশিক ও সেকশন ১১ সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে বসবাসকারী ১ লাখেরও বেশি নাগরিকের মধ্যে ভোটার হচ্ছেন ৭০ হাজার ৫৯০ জন। বসবাসকারী অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৬ জন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ১ জন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা হলেনÑ আব্দুর রউফ নান্নু, এএসএম সরোয়ার আলম এবং মোঃ দুলাল হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এ্যাডভোকেট মোঃ হারুন অর রশিদ এবং মোঃ নূর ইসলাম খান খোকন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত একমাত্র প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন।

এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৬ প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। একক প্রার্থী ঠিক করতে না পারলে নিজেদের ভরাডুবিই দেখছেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক কর্মী জনকণ্ঠকে বলেন, মিরপুর এলাকার এ ওয়ার্ডটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। এখানে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ঠিক করতে না পারলে জয় লাভ করা সম্ভব নয়।

নাগরিক সমস্যা ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা বিহারী ক্যাম্প। স্থানীয় বাঙালীদের ভাষ্যানুযায়ী এ বিহারী ক্যাম্পগুলোতে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক ও অস্ত্র। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার যুবসমাজ যাচ্ছে ধ্বংসের মুখোমুখি। এছাড়া ভাঙ্গা রাস্তা ও মশার উপদ্রব তো রয়েছেই।

কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রউফ নান্নু জনকণ্ঠকে বলেন, আমি এর আগেরবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছি। এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধ করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, আমাকে আবারও নির্বাচিত করা হলে এলাকার উন্নয়নে সব ধরনের কাজই করব।

৬ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঐতিহ্যবাহী মিরপুরের সেকশন ৬-এর ব্লক সি, ডি, ই, ট, সেকশন ৭, পল্লবী, দুয়ারীপাড়া, রূপনগর, আরামবাগ ও আলকদী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে দেড় লাখেরও বেশি নাগরিক বসবাস করলেও ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৫১১। বসবাসকারী অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ১৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রার্থী অন্তত ৬ জন। বিএনপি সমর্থিত ১ জন। এছাড়া বাকি ৯ প্রার্থীর দলীয় পরিচয় জানা যায়নি।

আওয়ামী লীগ সমর্থক ৬ জন হলেনÑ আবুবকর সিদ্দিক, আতিকুল ইসলাম, কাজী নাসির উদ্দিন, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, মোঃ আমির হোসেন মোল্লা এবং সালাউদ্দিন রবিন। বিএনপি সমর্থক প্রার্থী হলেনÑ মোঃ মোশারফ হোসেন। অন্য ৯ প্রার্থী হলেনÑ মাহফুজ হোসাইন খান, মেফসুজার রহমান খান, মোঃ আব্দুল ওহাব, মোঃ গোলাম রসুল খান, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম রাজা, মোঃ শাহ জাহান, মোঃ শাহাদুল্লাহ এবং শেখ হাবিবুর রহমান। ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মতো এই ওয়ার্ডেও দলের একাধিক প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা চায় আগামী ৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই দলের এক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগ।

নাগরিক সমস্যা ॥ এই এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রধান সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার অলি-গলির রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া মশার উপদ্রব ও ভাঙ্গা রাস্তা তো রয়েছেই। এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিক জনকণ্ঠকে বলেন, আমাকে যদি জনগণ নির্বাচিত করে আমি এলাকার রাস্তাঘাট সমস্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। এছাড়া এলাকার সমস্যা সমাধানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করব।

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫

০৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: