মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কামারুজ্জামানের রিভিউর শুনানি শেষ, আজ রায়

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- আপীলেও বহাল রায়ের রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ সোমবার রায় ঘোষণা করা হবে। রবিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এই বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। কামারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন তাঁর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন আর রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম। আবেদনের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন চারটি বিষয়ের ওপর শুনানি করেন। তিনি বেশ কিছু সাক্ষীর জবানবন্দী তুলে ধরার পাশাপাশি যুদ্ধ পরবর্তী অপরাধীর তালিকায় কামারুজ্জামানের নাম না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানিতে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করার বিষয়টি উল্লেখ করতে গেলে বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন, বঙ্গবন্ধু অপরাধীদের কখনই ক্ষমা করেননি।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, সাক্ষীদের বিষয়ে ডিফেন্স প্রশ্ন তুলেছেন। তারা সবাই অপরাধের শিকার। প্রথম যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় কামারুজ্জামানের নাম না থাকলেও পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের নানা দালিলিক প্রমাণে কামারুজ্জামানের উপস্থিতির ও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আদেশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা ও একাত্তরে আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামানের শাস্তির ব্যাপারে কোন রকম অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই, দিলে ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, একাত্তরে কামারুজ্জামান যে অপরাধ করেছেন তার জন্য তিনি কোন ধরনের অনুকম্পা পেতে পারেন না। ’৭১ সালে কামারুজ্জামান ছিলেন আলবদর কমান্ডার। তার উপস্থিতিতে হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে দেয়া ট্রাইব্যুনালের দ- আপীলেও বহাল রাখেন আদালত। তিনি বলেন, আইসিটির আসামি কামারুজ্জামানের রিভিউ পিটিশনের শুনানি হয়েছে। মামলার ৩নং চার্জে অর্থাৎ সোহাগপুর গ্রামে গণহত্যার সঙ্গে যে অভিযোগটি ছিল তার ওপর যুক্তি তুলে ধরেছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেছেন, কামারুজ্জামান ’৭১ সালে সোহাগপুরে উপস্থিত থাকলেও তিনি হত্যা বা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এ্যাটর্র্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তারা কামারুজ্জামানের মামলায় শুধু ৩নং চার্জের ওপর শুনানি করেছেন অন্য কোন চার্জের বিষয়ে কথা বলেননি। আপীল বিভাগে সোহাগপুরের ঘটনায় মৃত্যুদ- বহাল রাখলেও চার চার্জে মৃত্যুদ- থেকে যাবজ্জীবন দ- ঘোষণা করেন আপীলে। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কামারুজ্জামানকে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে আলবদর কমান্ডার হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই সময়ের আগে তিনি সুরেন সাহার বাড়ি দখল করে রাজাকার ক্যাম্প তৈরি করেছিলেন। সোহাগপুর থেকে মানুষকে হত্যা করে লাশ এই ক্যাম্পে নিয়ে আসা হতো পাকিস্তানীদের দেখানোর জন্য। লাশ দেখিয়ে বলত যে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। তাই কামারুজ্জামানের বিষয়ে কোন অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, এর আগে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনটি গত ১ এপ্রিল শুনানির জন্য কার্য তালিকায় ছিল। ওইদিন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা খন্দকার মাহবুব হোসেনের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় প্রার্থনা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ৫ এপ্রিল দিন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। সে হিসেবে রবিবার শুনানি হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ-ের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ওই বছরের ৬ জুন কামারুজ্জামান ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেন। ওই আপীলের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ৩ নবেম্বর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বিভাগের বেঞ্চ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-াদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন।

গত ৫ মার্চ মৃত্যুদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন দায়ের করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। রিভিউ আবেদন দায়ের করার পর আইনানুযায়ী মৃত্যুদ- কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ চারজন বিচারপতির স্বাক্ষর শেষে সর্বমোট ৫৭৯ পৃষ্ঠার রায়ের কপি প্রকাশ করা হয়। ওইদিন রাতে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিসহ লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যান ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ।

মৃত্যু পরোয়ানা জারির চতুর্দশ দিনে গত ৫ মার্চ আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিভিউ আবেদন জমা দেন কামারুজ্জামানের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন তুহিন। ৪৫ পৃষ্ঠার এই আবেদনে ৪৪টি যুক্তি দেখিয়ে কামারুজ্জামানের খালাস চাওয়া হয়। গত ৮ মার্চ আপীল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রিভিউ আবেদনটি শুনানির দিন ধার্য করার জন্য আপীল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক করে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। একই বছর ২ আগস্ট তাকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত বছরের ৩ নবেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপীল বিভাগের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল ২০১৫

০৬/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: