কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে এলাম বিরিশিরি

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

ভ্রমণ সব সময়ই তরুণদের মনে একটি অন্য রকম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তাই যখনই সময় পাই ঘুরে দেখার চেষ্টা করি আমাদের প্রিয় এই দেশের নানান দর্শনীয় স্থান। আমাদের এই দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাজারও হৃদয়স্পর্শী পর্যটন স্থান। আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশী পর্যটক আসে। কিন্তু আমাদের কাছে দেশটি পড়ে থাকে শুধুই মাতৃভূমি হিসেবে। তাই আমরা কয়েক বন্ধু সিদ্ধান্ত নেই যখনই সময় পাব তখনই যেভাবেই হোক ঘুরে দেখব আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। যেই চিন্তা সেই কাজ। তাই তো এবার ঘুরে এলাম নেত্রকোনা জেলার বিরিসিরি থেকে।

আমরা ছয় বন্ধু পড়ালেখা করি একসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। প্রতি সেমিস্টারে টানা ক্লাস আর পরীক্ষার মাঝে ওই শুক্র-শনি ছাড়া তেমন কোন বন্ধও পাওয়া যায় না। সেদিন ছিল শনিবার। হঠাৎ করে শুক্রবার রাতের সিদ্ধান্তে শনিবার বের হয়ে পড়লাম বিরিসিরির উদ্দেশে। এটি নেত্রকোনা ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার কোল ঘেঁষে অবস্থিত। আর নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অবস্থিত বিরিসিরি ইউনিয়ন। এখানে রয়েছে চিনামাটির পাহাড়, সাধুযোসেফের ধর্মপল্লী, রানীখং, বিজিবি ক্যাম্প, কমলা বাগানসহ ছোটখাট আরও অনেক কিছু।

সেদিন ভোর ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে সকল প্রস্তুতি সেরে নেই। যেহেতু আমরা এক একজন এক এক হলে থাকি তাই সকাল ৭টার মধ্যে আমরা সকলে বিজয় ’৭১-এর পাদদেশে একত্রিত হই। এরপর একসঙ্গে নাস্তা করে রওনা হই। আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে ময়মনসিংহ ব্রিজ মোড় থেকে বাসে বিরিসিরির উদ্দেশে রওনা হই। বাসে শুরু হয় নাচ, গান আর আড্ডা। সকলের মনেই ছিল অন্যরকম চাঞ্চল্য। কখন যে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার রাস্তা পার করে এলাম তা বুঝতেই পারলাম না। অবশেষে নামলাম বিরিসিরিতে। বিরিসিরিতে নেমে প্রথমেই হালকা নাস্তা করে নিলাম যাতে দুপুরটাও ঘুরতে কাজে লাগানো যায়। বিরিসিরি থেকে রওনা হলাম বিজয়পুরের চীনা মাটির পাহাড়ের উদ্দেশে। মাঝপথে পড়ল সোমেশ্বরী নদী। দশ মিনিটের এই নৌকা ভ্রমণ ছিল আরও মজার। নদীর পাড় দিয়ে চলছে বালি উত্তোলনের কাজ, গ্রামের মানুষের ব্যস্ততা আর নদীতে পালতোলা নৌকা। নদী পাড় হওয়ার পর আমরা ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেল ঠিক করে একবারে চলে এলাম চীনা মাটির পাহাড়ে। এখানে আসার পর মনে হলো, এতক্ষণ যত কষ্ট করেছি সবটুকুই যেন সার্থক। সকলে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠল, বাংলাদেশে এই রকম স্থান পড়ে আছে অথচ আমরা কেউই জানি না! সকলের মুখে অন্যরকম হাসি দেখতে পেলাম। এখানে পহাড়ের রং যেন রংধনুর মতো বিভিন্ন রং ধারণ করেছে। কোথাও পাহাড় সাদা, কোথাও গোলাপী আবার কোথাও কমলা। আর চীনা মাটিতো আছেই। এখান থেকে চীনা মাটি সংগ্রহের ফলে পাহাড়ের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট পুকুরের মতো গভীর জলাধার। জলাধারের পানির রংও সকলকে আশ্চর্য করার মতো। এক জায়গায় সবুজ তো অন্য জায়গায় নীল। গোসল করার কোন প্রস্তুতি নিয়ে যাইনি বলে সকলে আফসোস করলাম। সবাই বলল পরের বার যদি আসি তাহলে শুধু গোসল করার জন্যই আসব। এরপর উঠলাম ওই জায়গার সবচেয়ে বড় পাহাড়ে। অনেক কষ্টে পৌঁছাই পাহাড়ের চূড়ায়। চূড়ায় পৌঁছানোর পর মনে হলো যেন এভারেস্ট জয় করেছি, আর আনন্দটাও সেই রকম! এত সুন্দর জায়গায় এসে কিছু স্মৃতি ধরে রাখব না তা কি হয়! তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু ব্যক্তিগত, কিছু দলীয় ছবি তুলে রাখলাম। সারা দুপুর এখানেই কাটল। এরপর রওনা দিলাম বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পের উদ্দেশে। ক্যাম্পের ওপরে দাঁড়ালে চোখে পড়ে বাংলাদেশের বর্ডার, সোমেশ্বরী নদী আর ভারতের উঁচু উঁচু পাহাড়। এখানে বেশি সময় না নিয়ে চলে এলাম সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, রানীখং এ। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯১২ সালে। এখানে কর্তব্যরত সিস্টারদের কাছ থেকে জেনে নিলাম প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস। বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে এখানে রয়েছে যীশু- খ্রিস্টের মূর্তি, গারো অঞ্চলে রানীখং ধর্মপল্লীতে ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাস প্রচারের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভ, শিশুদের বিদ্যাপাঠের স্থান ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এখান থেকেই প্রায় বিকেল শেষ হয়ে এলো। এবার বাড়ি ফেরার পালা। ফেরার পথে নদীরপাড়ে বসে সূর্য ডোবার মুহূর্তটা উপভোগ করলাম সকলে। ঘোরা-ফেরার সকল পালা শেষ করার পরে আবার বিরিসিরি থেকে বাসে করে ফিরে এলাম ঘরে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম ভ্রমণটা দারুণ কাটল। একসময় ছেড়ে চলে যেতে হবে চিরচেনা এই ক্যাম্পাস থেকে। হয়ত বন্ধুরাও একসময় চলে যাবে নিজেদের ব্যস্ততায়। কিন্তু রয়ে যাবে আমাদের এই আনন্দ ভ্রমণের স্মৃতি। ফেরার পথে এনাম, সৌরভ, সজিব, আলমগীর ও সুজন সকলের মুখে শোনা গেল, আজকের দিনটা ছিল জীবনের ভাল দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।

নাজিব মুবিন

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: