কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কে হচ্ছেন চট্টগ্রামের নগর পিতা-নাছির না মনজুর

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫
  • চলছে নানামুখী আলোচনা

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ কে হচ্ছেন চট্টগ্রামের নগর পিতা। এ পদে যে ১২ জনের প্রার্থিতা ঘোষিত হয়েছে তাদের মধ্যে প্রতীয়মান হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল রেসে থাকবেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং বিএনপি সমর্থিত এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী এম মনজুর আলম। যিনি এ পদ থেকে সদ্য পদত্যাগকারী। আ জ ম নাছিরের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করেছে। পক্ষান্তরে, মনজুর আলমের পক্ষে ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো এখনও পরিপূর্ণভাবে মাঠে না নামলেও নামার প্রস্তুতিতে রয়েছে। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন জাপা মনোনীত প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ। তার পক্ষে জাতীয় পার্টির একটি অংশ কার্যক্রম শুরু করেছে। চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির শক্ত কোন অবস্থান যেহেতু নেই, সেক্ষেত্রে এ দলের মেয়র প্রার্থীর অবস্থানও বলা চলে নড়বড়ে। বরাবরের মতো মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থীর মধ্যে যে লড়াই হবে তা অনেকটা নিশ্চিত।

এদিকে, বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সিটি নির্বাচন নিয়ে ঐক্যের কাতারে এসেছে বলে দাবি করলেও মূলত ভেতরে ভেতরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কোন্দল, গ্রুপিং যে সম্পূর্ণভাবে অবসান হয়েছে তা তাদের পক্ষে দাবি করা হলেও তা সম্পূর্ণ সন্দেহাতীতভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান নয়। এ নির্বাচনী তৎপরতা নিয়ে অনুসন্ধানে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থিতা নিয়ে যথেষ্ট বিভেদ রয়েছে। মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ বিভেদ প্রকাশ্য নয়। তবে কাউন্সিলর পদ নিয়ে তা ওপেন। দুদল বা জোটের পক্ষে মেয়র পদে একক প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে পারলেও সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদগুলোতে প্রার্থীর ছড়াছড়ি রয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। জামায়াত তাদের একক কাউন্সিলর নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপিতে এ পদে বিভক্তি আওয়ামী লীগের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম।

শনিবার যোগাযোগ করা হলে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাউন্সিলর পদে বিভাজন দূরীকরণের জোর চেষ্টা চলছে। শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সফল হওয়া যাবে কিনা তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার মতে, যেহেতু নির্বাচনটি স্থানীয় সরকারের অধীনে সেক্ষেত্রে নির্বাচনে অবতীর্ণ হতে দলীয় কোন মনোনয়ন নেই। তবে সমর্থনের ব্যাপারটি নিহিত। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে মেয়র ছাড়াও কাউন্সিলর পদগুলোতেও দলীয় সমর্থনে একক প্রার্থিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত টেকানো যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। এরপর বিএনপি। সংরক্ষিত ১৪ মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসনে বিএনপি তাদের একক প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছে। যা আওয়ামী লীগ পারেনি। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী পদেও বিএনপি-জামায়াতের একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনিও জানান, তার দলের পক্ষ থেকেও কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে এখনও সম্পূর্ণ সফল হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সব সময় মূল আকর্ষণ থাকে মেয়র পদে কে আসছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা দেখা যায়, এ নগরীতে নগর পিতার আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। একবার মাত্র বিএনপির সমর্থনে মনজুর আলম নির্বাচিত হন। এর আগে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ পদে হ্যাট্টিক বিজয় অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০১০ সালের নির্বাচনে মেয়র পদটির সঙ্গে ৪১ ওয়ার্ডেও অধিকাংশ কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বিএনপি দলীয় সমর্থনের প্রার্থীরা।

আসন্ন এ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তৎপর যেমন হয়েছে, তেমনি বিএনপিও বসে থাকেনি। সরকার বিরোধী কঠিন এক রাজনৈতিক পরিক্রমায় দলের নেতাকর্মীরা যে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে তা থেকে উত্তরণে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে দলের একাধিক সূত্রে জানানো হয়েছে। যদিও বিএনপি বরাবরই দাবি করে আসছে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না। যে কারণে তারা গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ অংশ না নেয়ার কারণ হিসেবে তারা বিরোধী দলের আসনটিও হারিয়েছে। এ ঘটনায় দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যে কারণে নানা আলোচনা পর্যালোচনা শেষে বিএনপি আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাদের সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অংশ নিতে গ্রীন সিগন্যাল দিয়েছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে দল সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের জন্য এমপি পর্যন্ত নেতাদের মাঠে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এক্ষেত্রে বিএনপির কোন এমপি না থাকলেও স্থানীয় ও শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন এবং আগামীতে দলীয় চেয়ারপার্সনকেও এই দুই মহানগরীতে নির্বাচনী প্রচারণায় নামানোর চিন্তা ভাবনা করছেন। দলীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানানো হয়, আজ রবিবার বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় আদালতে যাচ্ছেন। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে দলীয় চেয়ারপার্সনের মনোভাব জানা যাবে এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় নামানোর জন্য তৎপরতা চালানো হবে। অতীতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে শেখ হাসিনা এবং বিএনপির পক্ষে বেগম খালেদা জিয়া ও তার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক জিয়া নির্বাচনী তৎপরতায় অংশ নেয়ার নজির রয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সবদিক থেকেই ঢাকার পরে চট্টগ্রামের অবস্থান রয়েছে। তবে জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এই চট্টগ্রাম। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও চট্টগ্রাম এগিয়ে।

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: