মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যশোরে ফাদার মারিওর জন্য বিশেষ প্রার্থনা

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫
  • মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করায় তাঁকে হত্যা করা হয়

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল যশোরে ফাতেমা হাসপাতালের পাশে যশোর ক্যাথলিক চার্চের ভেতর ঢুকে পাকবাহিনী হত্যা করে ফাদার মারিও ভেরোনেসিসহ ৬ জনকে। ফাদারের অপরাধ (?) ছিল মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে ভাল করে তুলতেন। ৪৪ বছর ধরে যশোরের চার্চে তার জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। ফাদার মারিও ভেরোনেসির সঙ্গে অন্য যাঁরা হত্যার শিকার হয়েছিলেন তাঁরা হলেন স্বপন বিশ্বাস, অনিল সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, পবিত্র বিশ্বাস, ফুলকুমারী তরফদার ও ম্যাগদালেনা তরফদার।

জানা যায়, ২৬ মার্চের আগে থেকেই যশোর উত্তাল হয়ে ওঠে। পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে যশোরে প্রথম শহীদ হন চারুবালা কর ৩ মার্চ। এরপর প্রতিদিন মিছিল-মিটিং হতে থাকে। ২৫ মার্চের পর যশোরবাসী বুঝে যায় আর পাকিস্তানের সঙ্গে এক সঙ্গে থাকা নয়, যুদ্ধ অনিবার্য। এরপর মার্চের শেষ দিকে প্রতিদিনই শহরের কোন না কোন এলাকার মানুষ পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হতে থাকে। আর তারা চিকিৎসার জন্য যেতেন যশোর সদর হাসপাতাল নয়, ফাতিমা হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের তখন ছিল ব্যাপক নাম ডাক। এমনকি অনেক মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। আর এই সব চিকিৎসার দেখভাল করতেন ইতালির অধিবাসী ফাদার মারিও ভেরোনেসি। বিষয়টি জেলে যায় যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তানী কর্মকর্তারা। তারা চার্চ এবং হাসপাতাল আক্রমণের পরিকল্পনা করে। ৪ এপ্রিল বিকেলে হানাদার বাহিনী ঢুকে পড়ে চার্চের মধ্যে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত অনিল সরদারের পুত্র পরেশ সরদার বলেন, তাদের আসা দেখে আমার পিতা আমাকে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। কয়েক পাক সেনা এসে কি যেন বলে। এরপর দেখি ফাদার মারিও দুই হাত উঁচু করে সামনে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। এমন সময় তারা গুলি করে ফাদারকে। তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর স্বপন বিশ্বাসও হাত উঁচু করে। কিন্তু তাকেও গুলি করা হয়। পরে আমরা ঘর থেকে বের হয়ে আশ্রয় নিই পুকুর পাড়ের কলাবাগানে। এরপর তারা পর্যায় ক্রমে হত্যা করে অন্যদের।

৫ এপ্রিল ফাতিমা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফাদার মারিওকে এবং বাকি ছয়জনকে চার্চ চত্বরে গর্ত করে কবর দেয়া হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন লরেন্স পা-ে। তিনি বললেন, ঘটনার সময় ফাতিমা হাসপাতালের ওপর রেডক্রসের পতাকা উড়ছিল। কর্মচারীরা রেডক্রসের ব্যাজ ধারণ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও হানাদাররা গির্জায় হামলা চালায়। হত্যাকা-ে পর যশোর সেনানিবাসের কর্মকর্তা তোফায়েল, যশোরের ডিসিসহ চার্চে এসে হত্যাকা- ইপিআররা ঘটিয়েছে বলে প্রতিবেদন দিতে বলে। কিন্তু দায়িত্বরত ডাক্তার ফাদার আন্তন ও ফাদার ফ্রান্সিস আর্মি অফিসারকে জানান, পাকিস্তানী হানাদাররাই এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। পরে আর্মি হেডকোয়ার্টার্সে প্রতিবেদন পাঠানো হয় এ হত্যাকা- পাকিস্তানী সেনারাই ঘটিয়েছে বলে। ওই ৬ শহীদের কবর ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করছে। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর ২০১২ সালে ফাদার মারিওরকে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ সম্মাননা দেয়। যশোর চার্চের বর্তমান ফাদার বলেন, শনিবার সকালে চার্চে ফাদার মারিওর জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: