মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বর্দো জাদুঘরে হামলাকারীর পরিবারের মতো দুই ভাগে বিভক্ত তিউনিসিয়া

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫
  • এক ভাই দর্শনে পড়ে, অপর ভাই পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করে

গত মাসে যেদিন জাবেয়ুর খাচনাওয়ি তিউনিসিয়ার ন্যাশনাল বার্দো জাদুঘরে পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করে, সেদিনই তার এক ভাই শহরের অন্য প্রান্তে সন্ত্রাসবিরোধী এক র‌্যালিতে যোগ দেয়। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় এই দুই ভাই আরও তিন ভাইবোনের সঙ্গে বড় হয়েছে। তারা ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক বছর পরই তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর বিভক্ত দেখা যায়। অনেকটা তাদের নিজ দেশের মতোই।

জাবেয়ুরের বড় ভাই তিউনিসে দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। আর সবচেয়ে ছোট ভাই বাড়িতেই থেকে কঠোর ধর্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে। জাবেয়ুরের বড় ভাই তার এক বন্ধুর কাছে জানতে পারেন যে জাদুঘরে হামলার সঙ্গে জড়িতদের একজন জাবেয়ুর। গ্রামের বাড়িতে দেয়া সাক্ষাতকারে বড় ভাই বলেন, আমি এই খবর শুনে খুবই বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আমি কখনও চিন্তাও করিনি সে এই কাজ করতে পারে। সন্ত্রাসবাদ একটি শক্তিশালী সম্মোহক এবং চোখের পলকেই যে কেউ সম্মোহিত হয়ে যাবে। আমরা দায়ী না হওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনার জন্য সারা বিশ্বের কাছে আমরা ক্ষমা চাইছি। উগ্রপন্থী দুই বন্দুকধারী জাবেয়ুর খাচনাওয়ি (১৯) ও ইয়াসিন আবিদি (২৬) ওই হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হামলার ব্যাপকতায় শুধু উত্তর আফ্রিকায় উগ্র ইসলামপন্থী গ্রুপগুলোর দ্রুত বিস্তারে তিউনিসিয়ার ভঙ্গুর অবস্থার বিষয়টিই প্রকাশ হয়নি, জাবেয়ুরের পরিবারের মতোই তিউনিসীয় সমাজে গভীর বিভক্তির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তিউনিসিয়া সরকার জোর দিয়ে বলেছে, তারা নিয়মিতভাবে জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দিচ্ছে এবং তাদের গোপন সেলগুলোও নির্মূল করছে। তবে ওই বন্দুকধারীদের পরিবার অভিযোগ করে বলেছে, উগ্র প্রচারক ও অনলাইন উৎসগুলো কম বয়সীদের মগজ ধোলাই করছে। তারা আরও হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এখনও তরুণ তিউনিসীয়দের জঙ্গী দলে টানা হচ্ছে। তিউনিসিয়া সরকার বলেছে, জাদুঘরে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বেশিরভাগ নিহত অথবা আটক করা হয়েছে। তবে অন্য গ্রুপগুলো এর দায় স্বীকার করেছে এবং আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। গত দুই বছর ধরে তিউনিসিয়ায় জঙ্গী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে শতশত জঙ্গীকে আটক করার পরও জিহাদি নেটওয়ার্কগুলো এখনও সক্রিয়, কম বয়সীদের প্রলুব্ধ করছে এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০১৫

০৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: