কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিন শ’ নারীর সংসারে সমৃদ্ধি এনেছেন আখতার জাহান

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫
  • দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও বিপণন করেছেন নিজ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রী

দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও বিপণন করছেন নিজের প্রতিষ্ঠানের তৈরি নানা ধরনের বস্ত্র সামগ্রী। সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে নিয়ে গর্ব করেন জয়পুরহাটের খঞ্জনপুর এলাকার আখতার জাহান লিপি। নারীবান্ধব সমাজব্যবস্থা না থাকায় যুগ যুগ ধরে নারীরা লড়াই করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে সমাজকে আলোকিত করেছেন। সেই অতীত থেকে এই অবস্থা চলে আসছে। যেসব নারী সমাজের নানা প্রতিকূলতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সফল নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সমাজে আরও অনেক নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস যুগিয়েছেন তেমন নারীই তিনি। জন্মসূত্রেই আখতার জাহান লিপি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছেন। আর এই শিক্ষা থেকেই সফলতা কিভাবে আসে তা তিনি রপ্ত করেছেন এবং আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। আখতার জাহান লিপির পিতা জয়পুরহাট সরকারী ডিগ্রী কলেজের সাবেক শরীরচর্চাবিষয়ক শিক্ষক আশরাফ আলী ও জয়পুর-হাট পৌরসভার দু’বার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর জাহানারা বেগমের জীবনপ্রবাহ শিখিয়েছে অন্ধকার সমাজব্যবস্থার ভেতরেও ঘুরে দাঁড়ানো যায়। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার এমন কোন ঘটনা আখতার জাহান লিপির জীবনে না থাকলেও মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে এবং সমাজে দাঁড়াতে হবে, এমন প্রত্যয় থেকে লিপি সাহসী হয়ে উঠেছেন। নিরহঙ্কার বাবা-মা’র ৫ সন্তানের দ্বিতীয় সন্তান আখতার জাহান লিপি ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিধর্মী কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। বড় ভাই রায়হান সাহিত্যচর্চা করলেও ব্যবসায়ী হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত। ছোট ভাই মামুন বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক বর্তমানে হকি ফেডারেশনের মেম্বার। ক্রীড়া জগতে প্রতিষ্ঠিত। ছোট বোনও গ্রাফিক্সবিষয়ক কর্মতৎপরতায় জড়িয়ে আছে। নানা সমাজকর্মে জড়িয়ে থাকা মা জাহানারা বেগমের কাছেই হাতে খড়ি সেলাই প্রশিক্ষণের। তারপর দিনে দিনে এক সময় সেলাই প্রশিক্ষক এবং একপর্যায়ে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন আখতার জাহান লিপি। সেলাইয়ের পাশাপাশি তিনি প্রশিক্ষণ নেন ব্লক, বুটিক, বাটিক, এম্ব্রয়ডারি, এ্যাপ্লিকসহ নানা ডিজাইনের উপরে। পরবর্তীতে প্রশিক্ষিত করেন জয়পুরহাটের প্রায় ৩ শতাধিক নারীকে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছী ও ভাদসা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ছাড়াও বুজরুক ভারুনিয়া, কুঠিবাড়ি ব্রিজ, খঞ্জনপুর, চকগোপাল গ্রামগুলোর অবহেলিত ও দরিদ্র নারীদের সংগ্রহ করে তিনি সেলাই এবং নানা ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের এক একজনকে স্বাবলম্বী করে তোলেন। এসব নারীরা নিজ নিজ বাড়িতে ডিজাইন করা পোশাকশিল্প গড়ে তোলেন। বর্ণিত গ্রামগুলোর ৩শ’ নারী আখতার জাহান লিপির সরবরাহ করা শাড়ি, কাঁথা, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, কুশনকভার, বেডকভারে ব্লক, বুটিক, বাটিক, এম্ব্রয়ডারি, এ্যাপ্লিকসহ নানা ধরনের নক্সা বুননের পর সেগুলো তিনি বিপণনের জন্য ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরের বিভিন্ন পোশাক বিপণন কেন্দ্রে পাঠান। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউ-রোপের ইতালি আর মধ্যপ্রাচ্যের কাতারেও তার ডিজাইন করা বস্ত্র সামগ্রী বিপণন করেন। ইতালি এবং কাতারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে কাঁথা, কুশন কভার ও বেডকভারের। সেই লক্ষ্যে তিনি তার পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৮৬ সালের খঞ্জনপুর গ্রামে মায়ের সেলাই প্রশিক্ষণ ও ডিজাইন কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত হয়ে আজকের অবস্থানে আসা আখতার জাহান লিপি তার ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর জন্য সরকারের ক্ষুদ্রশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে গৃহীত এসএমই ঋণের সহায়তার জন্য জয়পুরহাটের ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এ ব্যবসার গতি বাড়ান। জয়পুরহাট জেলা পরিষদ মার্কেটে তার একটি সুদৃশ্য শোরুম রয়েছে। জয়পুরহাটের গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি পোশাক ও কাপড়ের নানা সামগ্রী জয়পুরহাটের ক্রেতাদের মাঝে নতুন ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

এ ধরনের ব্যবসায় জয়পুরহাটের ২-১ জন নারীও ঝুঁকে পড়েছেন। তারা এ ধরনের ব্যবসায় সাফল্যের জন্য উৎসাহী হয়ে উঠছে।

Ñতপন কুমার খাঁ

জয়পুরহাট থেকে

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

০৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: