মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুর্নীতির অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বিটিসিএলের উন্নয়ন প্রকল্

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

ফিরোজ মান্না ॥ বিটিসিএলের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (টিএনডিপি) নামের প্রকল্পটির কাজ নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ৬ শ’ ২২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না বলে খোদ বিটিসিএলের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রকল্পে দাতা সংস্থা জাইকা অর্থ সহযোগিতা দিচ্ছে ৫ শ’ ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাকি ১১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে। একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রকল্পটি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই প্রকল্প নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্পের ব্যয় ৮০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এর পর জাইকা প্রকল্প থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়ে চিঠি দেয় বিটিসিএলকে। পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিটিসিএলকে নির্দেশ দিয়েছে। বিটিসিএল এখন তড়িঘড়ি করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় বিটিসিএলের (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড) দেশব্যাপী বিদ্যমান সব এক্সচেঞ্জের পুরনো ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ও কপার বেজড টেলিফোন নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করে আধুনিক ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি এবং ফাইবার কেবল নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। থাকবে বেজড টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম উইথ এক্সেস গেটওয়ে, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে এক্সচেঞ্জ (আইজিডব্লিউ), ন্যাশনাল টান্সমিশন ব্যাকবোন, ওয়ার্লেস এক্সেস, ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার (এনওসি)সহ কয়েকটি সুবিধা। জাইকার অর্থ সহযোগিতায় টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পটি এ বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে কথা ছিল। ৫শ’ ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি ঝুলে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যাওয়ার পর প্রকল্পটি নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিব্রত হয়ে পড়ে। দাতা জাইকা বিটিসিএলকে কয়েক দফা চিঠি দিয়ে ক্ষোভের কথাও জানিয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ৫০ হাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সুবিধা সাড়ে তিনগুণ বেড়ে এক লাখ ৮০ হাজারে উন্নীত হবে। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক গেটওয়েরও (আইজিডব্লিউ) কল আদান-প্রদানে সুবিধা বাড়বে। বিদেশী কলের ইনকামিং ও আউটগোয়িং ক্যাপাসিটিও অনেক বেশি হবে। অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের উন্নতি ঘটবে। টেলিফোন, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, অডিও, ভিডিও এবং ডাটা ট্রান্সফার সব একটি কেবলের মাধ্যমে চলবে। টেলিফোন মনিটরিং সিস্টেমও অনেক উন্নত হতো। ভিওআইপি কল প্রায় বন্ধই হয়ে যেত। অদৃশ্য কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বিটিসিএল।

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

০৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: