মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিন্টু-পিন্টুর ভাগ্য নির্ধারণ আজ

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতার বিষয়ে ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে আজ। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেতে দায়ের করা আপীলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল চারটা থেকে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দক্ষিণে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু প্রার্থী হতে পারবেন কিনা তাও ফয়সালা হবে। গত বুধবার ঢাকার দুই রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁদের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকার কারণে বাতিল করে দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবারই তাঁরা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমানের কাছে আপীল করেন।

এছাড়া গত বুধ ও বৃহস্পতিবার যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাঁরা আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করতে পারবেন। ঢাকার দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটিতে বাছাইকালে পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়। এরমধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনই প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপীল করেছেন। এছাড়া শুক্রবার পর্যন্ত ৭৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপীল করেছেন। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার আপীল করেছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুুসহ তিনজন মেয়র প্রার্থী ও ২২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। অপরদিকে শুক্রবার জুমার নামাজের আগ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপীল করেন আরও দু’জন মেয়র প্রার্থীসহ ৫৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। বিভাগীয় কমিশন অফিসের কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, আজ বিকেল চারটা থেকে প্রার্থিতার ওপর দায়ের করা আপীলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনেই আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ও নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর আপীলের ওপর শুনানি হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আপীলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আগামী ররিবার পর্যন্ত যাঁদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাঁরা আপীল করতে পারবেন।

প্রার্থিতা বাছাইয়ের দু’দিনে ঢাকা উত্তরে মোট ৪৭ জন সাধারণ কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এ সিটিতে ৩৬ ওয়ার্ডে ৪৪৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া এ সিটিতে ১২টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২২ জনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১১৬ প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাছাই শেষে এ সিটিতে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে।

অপরদিকে বাছাই শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফলে এ সিটিতে ৫৭টি ওয়ার্ডে বৈধ কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩৬ জনে। এছাড়া ১৯টি সংরক্ষিত আসনের বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১২৬ জন। বাছাইকালে বাতিল করা হয়েছে ৩১ জনের মনোনয়নপত্র। এ সিটিতে মেয়র, কাউন্সিলর সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮৫ জনে। বাছাইকালে এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা, ঋণখেলাপী, বকেয়া বিল, হলফনামায় তথ্য গোপন করা এবং আয়কর সনদ দিতে না পারার কারণে তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে যাঁদের মনোনয়নপত্র এসব অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে তাঁরা রবিবার পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপীল করতে পারবেন। আপীলে প্রার্থিতা টিকে গেলে তাঁদের নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোন বাধা থাকবে না।

এদিকে, বাছাইয়ে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে সেসব প্রার্থী ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছেন। যদিও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ২১ দিন আগে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। আগামী ১০ এপ্রিল বৈধ সব মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দ নিয়েই আনুষ্ঠানিক গণসংযোগে নেমে পড়বেন প্রার্থীরা। তবে তার আগেই আগামী ৭ এপ্রিল থেকেই প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন বলে জানিয়েছে ইসি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে ৭ এপ্রিল থেকেই প্রার্থীদের গণসংযোগের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে, তিন সিটিতে প্রার্থীদের নিয়ে সংলাপে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ছাড়া অন্য চার কমিশনার, কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন বলে গেছে। এছাড়াও সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের প্রার্থীদের নিয়ে সংলাপের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের নিয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, চট্টগ্রামে সংলাপ অনুষ্ঠানের পরই ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল যে কোন দিন ঢাকার প্রার্থীদের নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, মূলত প্রার্থীদের আচরণবিধি নিয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হবে। নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের আচরণবিধি সঠিকভাবে পালনের জন্য ইসির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে। আবার প্রার্থীদের দাবি-দাওয়া ও অভিযোগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ বলেন, প্রার্থীদের সঙ্গে সিইসিসহ আমরা আলোচনায় বসব। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সহযোগিতা ও মতামত নেয়া হবে। এতে চট্টগ্রামে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সিইসির সঙ্গে একজন নির্বাচন কমিশনার যাবেন। আর ঢাকায় একটি সভা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে চার সিটি নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের সঙ্গে বিবিসি বাংলা সার্ভিস সংলাপের উদ্যোগ নেয়। এবারও সে ধরনের একটি সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবছে ইসি।

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

০৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: