রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইনডেনজারড

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

মানবতা আর মানবতাহীনতা, এই দুয়ের অপূর্ব রূপসজ্জায় দক্ষ কারিগর বেশ কয়েকটি বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক সি.জে বক্স। তাঁর বইগুলো থ্রিলারধর্মী ঢঙে রচিত হলেও এগুলোতে মানুষের জীবনের সব আখ্যানই খুঁজে পাওয়া যায়। প্রেম, ভালোবাসা, আনন্দ, বেদনা, খুনসুটি ইত্যাদিকে তিনি জীবন বইগুলোতে জীবন্ত করে তোলেন, তেমনি গল্পের নায়ককে অপরাধপ্রবণ দুর্ধর্ষ শত্রুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে পাঠকের মাঝে তৈরি করেন টান টান উত্তেজনা। জো পিকেট সিরিজের ষোলতম বই ‘ইনডেনজারড’ ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবং সিরিজের অন্যান্য বইয়ের মতো এই বইটি যথারীতি বেস্ট সেলার। বইটির কাহিনীর গভীরতাই পাঠকের হৃদয়ে দাগ কেটেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের পাঠকের বই পর্যালোচনাগুলো পড়লেই তা বোঝা যায়।

জো পিকেটের জীবন বেশ চলছিল। পেশাগত ব্যস্ততা এবং পারিবারিক প্রশান্তি, এই দুয়ে জো পিকেটকে পুরো সুখী মানুষই বলা যেতে পারে। ওমিংয়ের খেলাধুলার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করার পর ঘরে ফিরে তিন মেয়ে আর বউকে নিয়ে কাটানো সময়টা জো পিকেটের কাছে বেশ মধুরই লাগত। মানুষের জীবনে এর চেয়ে বেশি চাওয়ার কী থাকতে পারে। জো পিকেটেরও চাওয়ার তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু বিধি বাম। সুখের জীবনেই অশান্তি তৈরি হয়ে যায় পরপর ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায়।

প্রথম আঘাত পেয়েছিল তার পালিতা মেয়ে এপ্রলের কাছ হতে। মেয়ে পরিবারের অমতে পালিয়ে যায় ডালাস কেটস নামের এক যুবকের সঙ্গে। কেটসকে জো পিকেট দু’চোখে দেখতে পারে না যদিও ছেলেটি অশ্ববশ খেলায় চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু চালচলনের রুক্ষতার কারণে পিকেট তাকে অপছন্দ করে। তাই যখন শুনল তার অষ্টাদশ বছর বয়সী মেয়ে কেটসের সঙ্গে পালিয়ে গেছে, তখন বিমর্ষ হয়ে পড়েছিল জো। জীবন থেকে হারিয়ে যায় আনন্দ।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতোই আরেকটি সংবাদ পিকেটের জীবনকে আরও বেশি বিষিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন পিকেটকে ফোন করে এপ্রলেরর মৃতপ্রায় ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার সংবাদে পিকেট দিশাহারা হয়ে যায়। মেয়ের এই দুঃসংবাদ যে কোন পিতার জন্য কতটা হৃদয়বিদারক তা সহজে অনুমেয়। হাসপাতালে মেয়ের শিয়রে বসে জো পিকেটের হৃদয়ে জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। খুঁজে বের করতে চায় সেই দস্যুকে যে বা যারা তার মেয়ের এই সর্বনাশ করেছে। এমন সময় সেই হাসপাতালেই দেখা হয়ে যায় তার পুরনো বন্ধু নেট রোমান্সকির সঙ্গে। নেট খুনের মামলায় জেল থেকে সদ্য ছাড়া পেয়েছিল শর্তসাপেক্ষে।

এফবিআইয়ের হয়ে কাজ করার শর্ত দেয়া হয়েছিল তাকে। বিলিয়নর উলফগ্যাঙ্গ টেম্পলটন খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্যই এফবিআইয়ের জিম্মায় নেটকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। অথচ এই উলফগ্যাঙ্গের নির্দেশেই নেট ভাড়াটে খুনি হিসেবে খুন করতে গিয়েছিল। আবার নেটের নতুন গার্লফ্রেন্ডের পুরনো বসও ছিল উলফগ্যাঙ্গ। উলফগ্যাঙ্গকে খুঁজতে গিয়ে নেটকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এপ্রল যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সে হাসপাতালেই। যদিও এফবিআই নেটকে বলেছিল তার বন্ধু পিকেটের সঙ্গে সে যেন সাক্ষাত না করে, তবু এই ঘটনা দুই বন্ধুর সাক্ষাত ঘটিয়ে দেয়। জো পিকেট নেটের সঙ্গে আলোচনা করে দুটি ঘটনার মধ্যে দেখতে পায় যোগসূত্র।

আগেই পিকেট তার মেয়ের এই দুরবস্থার জন্য ডালাস কেটসকে সন্দেহ করেছিল। এবং সে সন্দেহ করাটাই স্বাভাবিক ছিল। পারিপার্শ্বিক সকল ঘটনা কেটসের দিকেই সন্দেহের তীর নির্দেশ করে। পিকেট রহস্যে উন্মোচনে নেমে পড়ে। কিন্তু সে ধারণাই করতে পারেনি কী রকম বিপদে সে পড়তে পারে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সন্ধান পায় এমন একটি পরিবারের যারা সবাই অপরাধে সিদ্ধহস্ত। হেন অপকর্ম নেই যা এই পরিবারের সদস্যরা করে না। খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন থেকে শুরু করে সবধরনের অপকর্মই তারা করে। জঘন্য সে পরিবারের সন্তানই ডালাস কেট। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ে, সেই সঙ্গে বিপন্ন হতে বসে জো পিকেটের জীবন। জো পিকেট সিরিজের ষোলতম বই ‘ইনডেনজারড’ বইটির কাহিনী এভাবেই সি.জে বক্স চিত্রায়িত করেছেন। অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় সি.জে বক্স তাঁর এই বইটি লিখেছেন। ভাষার মাধুর্য আর কাহিনীর গভীরতার পাঠকের হৃদয় কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। আর তাই তো বইটি বেস্ট সেলার তালিকার শীর্ষে।

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: