কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আমাদের সঙ্গে ছদ্মবেশে কি এলিয়েন হাঁটছে!

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
  • ইব্রাহিম নোমান

মহাবিশ্বের তুলনায় সৌরজগৎ কিছুই নয়, একেবারে বালির মতো। আর সে তুলনায় পৃথিবী তো অনেক ছোট। এই মহাকাশের অনেক কিছুই এখনও রয়ে গেছে অনাবিষ্কৃত। অধরা রয়ে গেছে মহাবিশ্বের অনেক রহস্যও। পৃথিবী ব্যতীত অন্য কোন গ্রহে অন্য কোন প্রাণী আছে কিনা, সেই তর্ক-বিতর্ক চলছে এখনও। মহাশূন্যে কোথাও কেউ আছে কিনা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য চলছে বিরামহীন প্রচেষ্টা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো রিসার্চ প্রজেক্টের পেছনে ব্যয় করছে কোটি কোটি ডলার। আমাদের জানার সীমাবদ্ধতায় হয়ত অচেনা রয়ে গেছে নানা বিস্ময়কর জগৎ। কতটা জানি আমরা? আরও কত কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা তো কেবল চাঁদে পা দিলাম। মঙ্গলে যান প্রেরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে প্রায় সবই আমাদের অজানা। অজানা সেই জগতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক নয় পৃথিবী ছাড়া বসবাসযোগ্য কোন গ্রহের অস্তিত্বও।

এলিয়েন কি

এলিয়েন বলতে এমন জীবকে বোঝায়, যাদের উদ্ভব পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও। আর সেখানেই এদের বসবাস। এলিয়েন দেখতে কেমন হবে তার কোন ঠিক নেই। তারা দেখতে পৃথিবীর প্রাণীদের কাছাকাছিও হতে পারে, আবার এ ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদাও হতে পারে। আবার সত্যি সত্যি মহাবিশ্বে এলিয়েনের কোন অস্তিত্ব আছে কিনা, এ নিয়েও দ্বিধার অন্ত নেই। তবে এলিয়েন আসলেই রয়েছে, এ রকম বিশ্বাসীর সংখ্যাই বেশি। এলিয়েনদের এসব বিষয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের অস্তিত্ব রয়েছেÑ এ ধারণার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি প্রমাণ খুঁজেও পাওয়া গেছে।

এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাসী মানুষ

এলিয়েনের অস্তিত্ব আছে কি নেই, থাকলে তারা কোথায় কিভাবে রয়েছে, এ নিয়ে ‘রয়টার্স বিসিএমএম’-এর এক বিশ্ব জরিপের ফলাফলে মানুষের এই বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে। ২২টি দেশের ২৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ভারত এবং চীনে এ বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে, এলিয়েনরা মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এছাড়াও দেখা গেছে, এলিয়েনে বিশ্বাস নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি। পুরুষদের মধ্যে এ বিশ্বাস ২২ শতাংশ হলেও নারীদের মধ্যে তা ১৭ শতাংশ। আর ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এলিয়েনে বিশ্বাস বেশি।

এলিয়েন খোঁজার প্রজেক্ট

পৃথিবী ব্যতীত অন্য কোন গ্রহে অন্য কোন প্রাণী আছে কিনা, সেই তর্ক-বিতর্ক চলছে এখনও। মহাশূন্যে কোথাও কেউ আছে কিনা, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য চলছে বিরামহীন প্রচেষ্টা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো রিসার্চ প্রজেক্টের পেছনে ব্যয় করছে কোটি কোটি ডলার। আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ড্রেক ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে সৌরজগতের বাইরের কোন সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি প্রজেক্ট চালু করেন, যার নাম ছিল প্রজেক্ট ওজমা। এখন ১০টিরও বেশি দেশে সেটি অনুসন্ধান কাজ চলছে।

স্টিফেন হকিংয়ের ধারণা

বিশ্বের অধিকাংশ বিজ্ঞানীর ধারণা, এই মহাবিশ্বে আমরা মোটেও একা নই। আমাদের মতো আরও অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী নাকি ছড়িয়ে আছে মহাবিশ্বে। আর এদেরই আমরা এলিয়েন নাম দিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের ধারণা, এলিয়েন আছে, অবশ্যই আছে। এত বড় মহাবিশ্ব আর এত গ্রহ-নক্ষত্র-ছায়াপথ, এদের মধ্যে কি কোথাও নেই এলিয়েন! তিনি বিশ্বাস করেন, অবশ্যই এলিয়েন আছে। শুধু আমরাই তাদের খুঁজে পাচ্ছি না। তবে একদিন তাদের খোঁজ পাওয়া যাবেই।

এরিয়া ৫১-এ এলিয়েনের সন্ধান!

পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন স্থান হিসেবে চিহ্নিত আমেরিকার নেভাদা অঙ্গরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি এরিয়া ৫১। আজ পর্যন্ত কোন বেসামরিক লোক এখানে ঢুকতে পারেনি। দুর্ভেদ্য বেষ্টনী ঘেরা এ ঘাঁটির প্রবেশপথে লেখা আছে ‘অনধিকার প্রবেশকারীকে গুলি করা হতে পারে’। তাই কেউ যদি এখানে ঢুকেও থাকেন, তাহলে তিনি হয়ত আর জীবিত থাকতে পারেননি। এলাকাটিকে রহস্যময় করে তোলার পেছনে এর আশপাশের বাসিন্দারাই দায়ী। তাদের অনেকের দাবি, এরিয়া ৫১-এর আকাশে ফ্লাইং সসারের মতো কিছু উড়তে দেখেছেন তারা।

এরিয়া ৫১-এ কর্মরত পদার্থবিজ্ঞানী বব লেজার বলেন, সেখানে নাকি এলিয়েনদের নিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক ফ্লাইং সসার আছে। সেই সঙ্গে রয়েছে এলিয়েনের দেহাবশেষও। সেই এলিয়েনটির ব্যবচ্ছেদ করে নাকি জানা গেছে, ওই প্রাণীটি রেটিকুলাম-৪ নামক জ্যোতিষ্ক থেকে এসেছে। প্রাণীটির উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট। শরীর লোমহীন। কালো বড় বড় চোখ এবং শরীর কৃষ্ণকায়। এর দেহব্যবচ্ছেদ করে নাকি ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের বদলে বিশাল এক পতঙ্গ পাওয়া গেছে। তবে বরাবরের মতো উড়ন্ত সসার আর এলিয়েন প্রসঙ্গেও আমেরিকা সরকার ও আমেরিকা সেনাবাহিনী নিশ্চুপ রয়ে গেছে। আর তাই এরিয়া ৫১-এ সত্যি কোন এলিয়েন কানেকশন আছে কিনা, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা, যা রটে তা কিছুটা হলেও বটে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এ রকম কিছু যদি থেকেই থাকে, তাহলে এরা কেমন? তারা খায়ই বা কি? তাদের কি আমাদের মতোই বুদ্ধি আছে, নাকি স্রেফ পোকামাকড়ের মতো বোকাসোকা। তবে অধিকাংশেরই অভিমত, এরা আমাদের থেকেও অনেক বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন। আজকের সভ্যতা যতটুকু এগিয়েছে, সে তুলনায় এলিয়েনরা নিশ্চয়ই আরও অনেক অগ্রগামী। আমাদের সভ্যতার শুরু থেকেই যদি তারা ভিন্ন গ্রহ থেকে এখানে আসতে পারে, তাহলে এতদিনে তাদের উন্নতি কতটুকু হতে পারে, তা কেবল কল্পনা করা যায়। কে জানে তারা হয়ত নিয়মিতভাবেই পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করে চলেছে! আর এ কারণেই হয়ত পৃথিবীতে হঠাৎ হঠাৎ দেখা যায় কিছু অদ্ভুত চেহারার জীব। চোখের পলকে আবার তারা মিলিয়েও যায়। তারাই কি তবে ভিনপ্রহের বাসিন্দা, এলিয়েন?

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: