কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চট্টগ্রামে ১৬ থানাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
  • চসিক নির্বাচন

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে নগরীর ১৬টি থানায় পুলিশকে সতর্কতা অবলম্বন করতে সিএমপি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সহসাই এ ব্যাপারে দাফতরিক পত্রও দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ নির্দেশনায় ভোট কেন্দ্রের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন সন্ত্রাসীদের তালিকা ও গ্রেফতার অভিযানের বিষয়ে উল্লেখ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে থানাগুলোতে চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব সময়ে পুলিশের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, কর্ণফুলী থানা নগরীর বাইরে এবং চসিক এলাকার আওতায় না থাকায় ওই এলাকার কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্মলগ্ন থেকে চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ম বারের মতো এ নির্বাচন আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিএমপিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক দফতর (আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশন, চট্টগ্রাম) গত ২৯ মার্চ ১৩ জন মেয়র ও ৩৫৯ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা নিয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোন ভূমিকা নেই। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রচার কাজে গ্রুপিং অথবা যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সামাল দিতে পুলিশ কাজ করবে।

সিএমপি আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নগরীর ১৬টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুসম্পন্ন করতে থানার করণীয় বিষয়ে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে লিখিতভাবে থানাগুলোকে জানানো হবে পুলিশের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকেই সন্দেহভাজনদের উপর পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। পুলিশের স্বাভাবিক কর্মকা-ের পাশাপাশি নির্বাচন সুশৃঙ্খল করতে অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করাসহ তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে লিখিত চিঠি প্রেরণ করা হবে স্বল্প সময়ের মধ্যে।

নির্বাচন উপলক্ষে পলাতক সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি কোন ধরনের মামলা থাকে সেক্ষেত্রে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কোন ধরনের বাধা থাকবে না। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে কারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে তা আগে থেকেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে পুলিশকে। মৌখিক এসব নির্দেশনা কার্যকরে থানা পর্যায়ে কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪১টি ওয়ার্ড রয়েছে ১৬টি থানার আওতায়। এসব থানা এলাকায় গত তিন মাসে পুলিশ নাশকতাকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীসহ প্রায় ৮শ’ সদস্যের তালিকা প্রস্তুত করেছে। নির্বাচন উপলক্ষে এ তালিকায় থাকা সন্ত্রাসীদের উপর কড়া নজরদারি রাখার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। উর্ধতন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট জোনের আওতায় থাকা থানা কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের ইতোমধ্যে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা পেয়েছেন বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তরা কোন দলের তা দেখার বিষয় নয়। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সকল সদস্যের প্রতি সজাগ থাকার বিষয়ে সিএমপির সদর দফতর থেকে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিএমপির এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, পুলিশ সন্ত্রাস দমন যেমন করতে পারে, তেমনি সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগে জনগণকে সহায়তাও করতে পারে। কোন ধরনের পক্ষপাতিত্ব নয়। সুশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করে ফলাফল গণনা পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সিএমপির ১৬টি থানার মধ্যে কর্ণফুলী থানা ব্যতীত ১৫টি থানায় চিঠি প্রেরণ করার কথা রয়েছে। কারণ কর্ণফুলী থানা সিটির বাইরে এমনকি চসিকের কোন ওয়ার্ডও ঐ থানার আওতায় পড়েনি। এরপরও কর্ণফুলী থানা পুলিশকে সিটি নির্বাচন উপলক্ষে সজাগ থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে।

অতিরিক্ত পুলিশ ও অর্থ বরাদ্দ ॥ চসিক নির্বাচনকে সুষ্ঠু এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে সরকারের কাছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে ৬ হাজার অতিরিক্ত ফোর্স এবং আড়াই কোটি টাকা।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য ৬ হাজার পুলিশ ফোর্স চাওয়া হয়েছে সদর দফতরের কাছে। এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি ব্যয় মেটাতে চাওয়া হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: