আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নতুন ভোটাররা ফ্যাক্টর

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
  • চসিক নির্বাচন ॥ ভোটার বেড়েছে লক্ষাধিক

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ভোটার তালিকা হালনাগাদে লক্ষাধিক ভোটার বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে নতুন ভোটাররা জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ছক কষছেন মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁদের পরিকল্পনায় রয়েছে তরুণ ভোটারদের আকর্ষণ করা। এছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টায় শুরু থেকেই তৎপর হয়েছেন নেতারা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে বিরোধ বেশি থাকায় নেতারা রয়েছেন কর্ম কৌশল চূড়ান্ত করার চেষ্টায়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০১৫ সালের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই। আওয়ামী লীগের জন্য এ চ্যালেঞ্জ হারানো পদ ফিরে পাওয়ার। অপরদিকে, বিএনপির লক্ষ্য চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে শীর্ষ পদটি ধরে রাখা। বিশেষ করে বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জÑ এটি প্রতিষ্ঠিত করা যে, বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। ঠিক তার উল্টো মনোভাব সরকারী দলের।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এবার নগরীতে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩ জন। আর নারী ভোটার ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। গতবারের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৩ জন। এদের প্রায় সকলেই তরুণ ভোটার, যারা বিগত নির্বাচনের পর ১৮ বছর বয়সে উন্নীত হয়েছে। এ তরুণ ভোটারদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী সেই আগের মেয়র এম মনজুর আলমই রয়েছেন। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ পুরনো পরীক্ষিত নেতা নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বয়সের বিবেচনায় সমর্থন না দিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছে। নতুন এ প্রার্থীকে নেতাকর্মীরা তুলে ধরছেন তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে। বিশেষ করে আ জ ম নাছিরকে তুলে ধরা হচ্ছে একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও তরুণের প্রতীক হিসেবে। মেয়র পদে দলীয় সমর্থন লাভের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আ জ ম নাছির উদ্দিনের বক্তব্যেও তরুণদের আকর্ষণের প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। তিনি বলেছেন, পুরো চট্টগ্রাম নগরীকে ওয়াইফাই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা। এছাড়া ক্রীড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনও আ জ ম নাছিরের পক্ষে মাঠে নামবে বলে এরই মধ্যে আভাস মিলেছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটার বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার বাড়াতে হয়েছে কেন্দ্র সংখ্যাও। এবার ভোট কেন্দ্র বেড়েছে ৪৬টি। গত বছর কেন্দ্র ছিল ৬৭৩টি। এবার ভোট কেন্দ্র ৭১৯টি। মোট ৪৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্রগুলো স্থাপিত হবে। এর বেশিরভাগই প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। তবে মোট কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে। নির্বাচনে এবার মোট বুথ হবে ৪ হাজার ৯০৬টি। এরমধ্যে ৪৪৭টি অস্থায়ী বুথ।

রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল বাতেন জানান, ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে ১৫ হাজার ৪৩৭ জন। এরমধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার থাকবেন ৭১৯ কেন্দ্রে ৭১৯ জন। আর সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৯০৬ জন ও পোলিং অফিসার থাকবেন ৯ হাজার ৮১২ জন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে প্রদান করা হবে নিয়োগপত্র।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের মনিটরিংয়ের কাজ করছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট টিম। ১৪ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে কাজ চলছে। এছাড়া রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আচরণ বিধির কোন ব্যত্যয় দৃষ্টিগোচর হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন কোন ধরনের অনিয়মকে প্রশয় দেবে না বলে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়।

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: