মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আইনের আশ্রয় নেবেন তামান্নার স্বজনরা

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
  • মেরে ফেলার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ২ এপ্রিল ॥ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কানাইয়া এলাকায় নানার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নারী পাইলট তামান্না রহমান হৃদিকে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টার দিকে তাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ও বাদ আছর গাজীপুরের কানাইয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কানাইয়ার জানাজায় তার বাবা মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ আনিসুর রহমান, গাজীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ আলী হায়দার খান, গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় কয়েক শ লোক অংশ নেন।

হৃদির মামা চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক এবং সচিত্র বাংলাদেশের সম্পাদক লিয়াকত হোসেন ভুইয়া জানান, বুধবার রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তার ভাগ্নি মারা যান। হৃদির একমাত্র ভাই হাফিজুর রহমান উত্তরার শহীদ মুনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাবা ডাঃ আনিসুর রহমান মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি গাজীপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুই মাস আগে তিনি পদোন্নতি লাভ করে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। বাদ আসর কানাইয়া মাদ্রাসা মাঠে হৃদির জানাজা শেষে তার লাশ নানা ডাক্তার আরিফ ভূইয়ার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

তামান্নার মা রোহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে’। এ জন্য তিনি তামান্নার বাবার সঙ্গে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। তামান্নার মা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দুর্নীতির কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদের চেয়ে আমার মেয়ে মেধাবী হওয়ায় ও তার সাফল্যে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই অকেজো ওই প্রশিক্ষণ বিমানে উঠানো হয়েছে। আমার মেয়ে মারা গেলেও ওই বিমানের প্রশিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাঈদ কামাল তার জীবন নিয়ে বের হয়ে এসেছেন। তার মেয়ে উদ্ধার ও রক্ষার জন্য ডাকাডাকি ও সাহায্য চাইলেও তাকে সঠিক সময়ে উদ্ধার করা হয়নি। প্রায় আধাঘণ্টা পর ওই বিমান থেকে তার পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। অকেজো এসব বিমানে প্রশিক্ষণার্থীদের তুলে দিয়ে কয়েক বছর পর পর মূল্যবান ও মেধাবীদের মারা হচ্ছে।’

স্বপ্নের শুরুতেই সব শেষ তামান্নার ॥ রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, স্বপ্ন ছিল দক্ষ পাইলট হয়ে আকাশে আকাশে ডানা মেলার। তবে সেই স্বপ্নের হাতছানি শুরুতেই শেষ হয়ে গেল মেধাবী তামান্নার। শেষ পর্যায়ে এসে পাইলট হওয়া হলো না তাঁর। রাজশাহীর শাহ মাখদুম বিমানবন্দরের রানওয়েতে বাংলাদেশ ফ্লাইং এ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এই নারী বৈমানিকের মৃত্যু হয়। সেইসঙ্গে শেষ হয়ে যায় তার লালিত স্বপ্নও। ঢাকায় ইংরেজি মাধ্যমের একটি স্কুলে ‘এ’ লেভেল শেষ করা তামান্না বাংলাদেশ ফ্লাইং এ্যাকাডেমির পার্সোনাল পাইলট লাইসেন্স কোর্সে (পিপিএল) ভর্তি হন দুই বছর আগে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ১৬ ঘণ্টা ওড়ার পর বুধবার এককভাবে বিমান চালানোর অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। এই কোর্স শেষ করতে একজন বৈমানিককে নিজে ৫০ ঘণ্টা বিমান চালাতে হয়। এর অংশ হিসেবেই প্রশিক্ষককে পাশে নিয়ে সেসনা ডি-১৫২ উড়োজাহাজটিতে উঠেছিলেন তিনি। এর আগে সহপাঠী, প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মিষ্টি খাওয়ান তামান্না।

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: