কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বুড়িগঙ্গা ও মেঘনায় ১৪ জনের সলিল সমাধি ॥ ফের ট্রলারডুবি

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫
বুড়িগঙ্গা ও মেঘনায় ১৪ জনের সলিল সমাধি ॥ ফের ট্রলারডুবি
  • নিখোঁজ অনেকে ॥ লালবাগের শহীদনগওে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জে ট্রলারডুবিতে সলিল সমাধি হয়েছে দশ জনের। এরআগে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ট্রলারডুবিতে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেককে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বিশ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনায় ২৪ জেলেসহ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। পৃথক তিনটি ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে কেউ জানে না। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ও কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলগুলোতে ভিড় করেছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাতে উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ রয়েছে। আজ সকাল আটটা থেকে আবার উদ্ধার কাজ শুরু হচ্ছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ট্রলারডুবি ॥ বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে কেরানীগঞ্জের আলীগঞ্জে ৭০ থেকে ৮০ যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটির পানগাঁওয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে যাওয়ার সময় সাথীবুল বাহার-২ নামের একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে প্রচ- ধাক্কা খায়। ধাক্কায় ট্রলারের তলা ফেটে যায়। মুহূর্তেই ট্রলারের মধ্যে পানি উঠে ভরে যায়। যাত্রীরা নামতে নামতেই সেটি ডুবে যায়। ডোবার সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। কিন্তু যারা সাঁতার জানেন না তাঁরা ডুবে যান। এছাড়া প্রচ- ধাক্কায় ট্রলারটি কাত হয়ে যায়। এতে করে ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিচে আটকা পড়েন অনেকেই। নিচে আটকে পড়া যাত্রীদের অনেকেই মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন লালবাগের বাসিন্দা লাটমিয়ার ছেলে মোঃ ছমির হোসেন (৪৫), ওয়াহাব মোল্লার ছেলে রুবেল (১৮), হাফিজ উদ্দিনের ছেলে রুবেল (৩০), নুরুদ্দিনের ছেলে জাকির (২৮) ও মিজানুর রহমানের ছেলে সাগরের (১০) লাশ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত আইয়ুব আলীর স্ত্রী করমজান বিবি (৬৫) এবং অজ্ঞাত এক যুবকসহ (২৮) মোট ১০ জনের লাশ উদ্ধার হয়। নিহতদের মধ্যে আহত ছমির উদ্দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। বাকি আটটি লাশ ট্রলারযোগে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আরেকটি লাশ সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানোর কথা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ট্রলারটি ৭০ থেকে ৮০ যাত্রী নিয়ে সকালে চাঁদপুরের মতলবের একটি মাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিল। ট্রলারটি লালবাগের শহীদনগরে ফেরার কথা ছিল। যাত্রীদের অধিকাংশই লালবাগের শহীদনগরের বাসিন্দা। এখনও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় লালবাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছেন ঘটনাস্থলে।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। রাত হয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ চালানো যাচ্ছিল না। আজ সকাল আটটা থেকে আবার উদ্ধার অভিযান চলবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ট্রলারটি উদ্ধার হয়নি। নিখোঁজদেরও হদিস মেলেনি।

মুন্সীগঞ্জে ট্রলারডুবি ॥ জেলার গজারিয়ার ভাষানচরে মেঘনা নদীতে বুধবার রাত আটটার দিকে ৭০ থেকে ৭৫ যাত্রী বোঝাই একটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে। ঝড়ের কারণে ট্রলারটি ঠিকমত চালাতে পারছিলেন না সারেং। বার বার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় যাত্রীবাহী ট্রলারটির সঙ্গে মা-বাবার দোয়া নামের একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে প্রচ- ধাক্কা লাগে। এতে ট্রলারটি উল্টে যায়।

ঝড়োবাতাস আর ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি কাত হয়ে যায়। ট্রলার ও বাল্লহেড বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় অনেকেই সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হয়। অনেকেই ট্রলারের নিচে পড়ায় আর উঠতে পারেননি। ঝড়োবাতাসে ট্রলার ও বাল্কহেডটি ভাসতে ভাসতে ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার ভাটিতে গজারিয়ার ভাষানচরে গিয়ে আটকে যায়।

পরে স্থানীয় জনতা বালুভর্তি বাল্কহেডটির মাথায় এক যুবককে ঝুলতে দেখে। বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারের সামনে থাকা এক যুবকের পেট ভেদ করে যুবক সেখানেই আটকে থাকে। রাতেই ফায়ার সর্ভিস সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে সেখান থেকে আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়।

নিহতরা হচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মুনির হোসেনর কন্যা মুনিয়া আক্তার (৪) ও কুমিল্লার হোমনার সুভরাম গ্রামের শামিমের পুত্র হাবিব (১৬)। বৃহস্পতিবার রাত আটটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত দুই যুবকের পরিচয় মেলেনি।

পুলিশ জানায়, বাউশিয়ার মোঃ ফয়েজ (১৬) ও কুমিল্লার চান্দিনা কেয়ামনি (৪) নিখোঁজ রয়েছে। তবে তালিকার বাইরে আরও যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারে। এ ব্যাপারে মামলা হচ্ছে।

বেঁচে যাওয়া যাত্রী শামীম জানান, তাঁরা মেঘনা-গোমতী সেতুর (দাউদকান্দি সেতু) বাউশিয়ার লঞ্চঘাট থেকে ট্রলারে করে চাঁদপুরের বেলতলীর লেংটার মেলায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ট্রলারটি ছাড়ে। মূল মেঘনা নদীর মোহনায় ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বেশকিছু যাত্রী আহত অবস্থায় কোনক্রমে তীরে উঠে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত আটকে থাকা ট্রলারটি এবং বাল্কহেডে উঠে অনেক যাত্রী রক্ষা পায়।

মুন্সীগঞ্জের ডিসি সাইফুল হাসান বাদল জানান, নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। নিহত প্রতি পরিবারকে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশগুলো এখনও মেঘনা পাড়ে রাখা হয়েছে।

এদিকে রাতের বেলায় বিশাল মেঘনায় উদ্ধার কাজ সতর্কতায় চলবে। এছাড়া রাতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ সত্ত্বেও কিভাবে বালুর বাল্কহেড চলেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

চরফ্যাশনে ২৪ আরোহী নিয়ে ট্রলারডুবি ॥ ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর মেঘনা নদীতে বৃহস্পতিবার সকালে ২৪ মাঝি-মাল্লা নিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ উদ্ধার হয়নি। তবে তৎপরতা চলছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও ঢালচর মৎস্য আড়তের সভাপতি নান্নু মাতাব্বর জানান, চট্টগ্রাম থেকে বুধবার দুপুর দুইটার সময় সিরাজুল ইসলামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ছেড়ে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢালচর মেঘনা নদীতে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। মোবারক হোসেন নামের এক জেলে ফোনে ঘটনাটি জানান।

দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, জেলেদের অবস্থান নির্ণয় করতে না পারার কারণে তাদের উদ্ধার করা যায়নি। তবে জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: