মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

ইলিশ বাঙালীর খুবই প্রিয় মাছ। বাংলাদেশের এটি জাতীয় মাছও। অসংখ্য নদ-নদীর এই দেশে মাছে-ভাতে বাঙালীর খাদ্য তালিকায় নানা ধরনের মাছ থাকলেও ইলিশ সব সময়েই বিশেষ কদর পেয়ে আসছে। পদ্মা-মেঘনার ইলিশের সুনাম পার্শ্ববর্তী দেশের বাঙালী সমাজ ছাড়িয়ে বিশ্বের বহু দেশের রসনাবিলাসীদের কাছে পৌঁছে গেছে। বিশ্বের মোট ধৃত ইলিশের শতকরা ষাট ভাগ ধরা হয় আমাদের দেশেই। অথচ দিন দিন উর্ধমুখী দামের জন্য দেশের সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সুস্বাদু মাছটি। তার প্রধান কারণ হলো যতটা উৎপাদিত হওয়ার কথা তার প্রায় অর্ধেক ইলিশই উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এর নেপথ্য কারণ এক শ্রেণীর লোকের অপরিণামদর্শিতা। গত বছর ১১ হাজার ৮০০ টন জাটকা ধরা হয়েছে। ডিম ছাড়ার সময় মা ইলিশ রক্ষা না করতে পারা এবং ছোট ইলিশ বা জাটকা ধরাÑ এ দুটো কারণে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে এটাও অনস্বীকার্য যে, সরকার মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার ফলে ক্রমশ ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। এ লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ’ পালিত হয়ে আসছে ফিবছর। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

আর কয়দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বাঙালীর বর্ষবরণ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে আছে ইলিশ। বাঙালী সংস্কৃতির সঙ্গে ইলিশের রয়েছে গভীর সংযোগ। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় এক কোটি বাঙালীও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ইলিশ খেতে ভোলে না বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে। বাঙালীর অতিথি আপ্যায়নে ইলিশের রয়েছে বিশেষ স্থান। জামাইষষ্ঠীতেও হেঁশেলে প্রয়োজন হয় এই রূপালী প্রিয় দর্শন মাছটির। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বছরে যে পরিমাণ জাটকা ধরা হয় তার অর্ধেক রক্ষা করা গেলেও ইলিশের উৎপাদন ৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হতো। প্রজনন মৌসুমে সর্বোচ্চসংখ্যক ইলিশ যাতে ডিম ছাড়তে পারে ও ছোট ইলিশ যাতে বড় হতে পারে, সে ব্যবস্থা করলেই বাংলাদেশের ছোট-বড় নদী আবার ইলিশে ভরে উঠবে। আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। পাঁচ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ আহরণের সঙ্গে জড়িত। আরও ২০ লাখ লোকের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ। বিগত কয়েক বছর থেকে জাটকা রক্ষায় সরকার পদক্ষেপ নেয়ার পর ইলিশের উৎপাদন ও বিস্তৃতি বেড়েছে। এমনকি জাটকা ধরা বন্ধে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পও গৃহীত হয়েছে। এছাড়া ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য জাটকা নিধনকারী ও বিক্রেতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় গতি বাড়াতে হবে।

আমরা জানি ব্যাপকভাবে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার, যন্ত্রচালিত নৌকা ও জাটকা নিধনের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সকলে জাটকা নিধন বন্ধ ও ইলিশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সরকারের প্রচারণা শুধু জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবছর অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবেন।’ সবাই আশা করে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের রূপালী শস্য বাড়ানোর কাজে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন।

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: