কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে মতবিরোধ কাটেনি

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫
  • ভোটের আগে মাঠের হাওয়া
  • দুই সিটির প্রতি ওয়ার্ডে চার পাঁচজন প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে আছে মতানৈক্য। তবে এখনও মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে দলীয়ভাবে এমনটি ১৪ দলের পক্ষ থেকে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে তিন সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে ১৪ দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছাড়া শরিক দলের মেয়র প্রার্থীরা নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এমনকি নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে এবার ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। উত্তরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুল হককে সমর্থন জানানো হয়েছে। তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। দলীয় কোন পদ পদবিও তাঁর নেই। দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন নগর আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় পদ থাকলেও রাজনীতির মাঠে তাকে খুব একটা দেখা যায়নি। নিজের মতো করেই চলতে চেষ্টা করেছেন। ভোটের মাঠে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুঁজি হলো সাবেক মেয়র তাঁর বাবা মোহাম্মদ হানিফের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ইমেজ। পাশাপাশি নগরবাসীর ভালবাসা তো আছেই। তাই নিজেদের মধ্যে সকল দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে এই দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো খুবই সহজ। এজন্য সরাসরি ১৪ দলীয় জোটের সমর্থন এই দুই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের জন্য গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এতে বাড়বে জনসমর্থন। পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব।

১৪ দলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঢাকার দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষে বিজয় নিশ্চিত করার আগে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়া জরুরী। শরিক দলসহ মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন জানাতে হবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে। প্রত্যাহার করতে হবে নিজেদের মনোনয়নপত্র। এজন্য জোট প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

এদিকে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ওপর মহানগরের নেতাকর্মীদের একটি অংশ নাখোশ। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অনেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সাংসদ হাজী সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও মান ভাঙ্গেনি তাঁর। এ সমস্যার সমাধান জরুরী। কারণ পুরান ঢাকায় হাজী সেলিমের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। সরাসরি তিনি যাকে মেয়র পদে ভোট দেয়ার জন্য সমর্থন দেবেন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তাঁর জন্য অনেক সহজ হবে। অনৈক্য আর মান অভিমানের কারণে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সরব তৎপরতা লক্ষণীয় ওঠেনি বলে ঢাকা মহানগরে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে মেয়র প্রার্থীর চেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়েই বেশি ব্যস্ত মহানগরের নেতাকর্মীরা। এজন্য চলছে গ্রুপিং-লবিং। দলের একক কাউন্সিলর প্রার্থী এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নেতারা অনেকেই নিজেদের পছন্দের কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে দলীয় সমর্থন আদায়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত রবিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই দলের ৪/৫ জন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কোন কোন ওয়ার্ডে রয়েছেন ৭/৮ জন প্রার্থী। আগামী ৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে দল সমর্থিত একজনকে রেখে বাকিদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে। একক প্রার্থী নির্ধারণের জন্য ঢাকা সিটির দুই অংশে ১৫টি কমিটি (সংসদীয় এলাকা ধরে) গঠন করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরের নেতারা এ কমিটিতে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে দলের বাইরে থেকে আনিসুল হককে প্রার্থী করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কিছুটা গাছাড়া ভাব রয়েছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মহানগর আওয়ামী লীগের যারা প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন তাদের কেউ কেউ এখনও দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে সরব হয়ে মাঠে নামেননি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী বাহিনী ছাড়া আনিসুল হকের নিজস্ব কর্মীও নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ঠিক করে দিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে হবে। ঘরে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই।

ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী সমর্থন দেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। এক্ষেত্রে ১৪ দলীয় জোটনেত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যাকে সমর্থন দেবেন, সেই হবেন ১৪ দলেরও একক প্রার্থী। সেই প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত আপাতত পিছু হটলেও চক্রান্ত এখনও অব্যাহত আছে। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন ও সংগ্রামের মাঠে একসঙ্গে থাকবে ১৪ দলীয় জোট।

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

০২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: