কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পাল্টে গেছে ঢাকা উত্তরের নির্বাচনী হিসাব

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫
  • কোন্্ পথে যাবে বিএনপি?

রাজন ভট্টাচার্য ॥ পাল্টে গেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু উত্তরে মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। বুধবার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মজার বিষয় হলো- বিএনপির পক্ষ থেকে দক্ষিণে অন্তত পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। উত্তরে ছিলেন মিন্টু একাই। সব মিলিয়ে মেয়র প্রার্থী নিয়ে এখন বেকায়দায় বিএনপি। যদিও মিন্টুর আইনজীবী জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ করতে আপীল করবেন তাঁরা। তবে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে ত্রুটির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, আপীলে তা বিবেচনার কোন সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে উত্তরে বিএনপি তথা ২০ দলের পক্ষে সরাসরি কোন প্রার্থী নেই। এখন কোন কৌশলে সামনের দিকে যাবে বিএনপি?

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২০ দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় বিএনপি নেতারা এখন অনেকটাই দিশেহারা। তাই বুধবারই করণীয় নির্ধারণে দলের একাধিক নেতা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বৈঠক করেছেন। নিজেদের মধ্যেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আলোচনা। রাজনৈতিক নেতা ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০ দলীয় জোটের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা। একটি হলো উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মিন্টুর ছেলেকে সমর্থন দেয়া। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এতে কতটা সফল হবে বিএনপি। তাই ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পরিচিতি ও জনসমর্থনের দিক থেকেও শূন্যের কোঠার মিন্টুর ছেলে।

অপরদিকে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে ২০ দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়া হতে পারে। যদিও ২০ দলের শরিক নয় বিকল্পধারা। তবে বর্তমান বিএনপির অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দলটি। এছাড়া বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিকল্পধারার সভাপতি ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে এসব মিলিয়ে মাহিকে সমর্থন দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এ হিসাব যদি না মিলে তাহলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে বিএনপি-জামায়াত জোট।

এদিকে উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মিন্টু। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হয়েছে। নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও আন্তরিক সমর্থন থাকলে ক্লিন ইমেজখ্যাত আনিসুল হকের বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন কোন বিষয় নয়। তাছাড়া সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সর্বশেষ ২০০২ সালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা সিটি হাতছাড়া হয় আওয়ামী লীগের। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। ২০০৭ সালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একপর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।

এদিকে সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এ সব ক’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছিল। এ সবকটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। তাই সময় এসেছে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের। এবারের ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোট নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও জনসমর্থনের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা না হলে সুযোগ নিতে পারে তৃতীয় কোন পক্ষ।

এদিকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী, সিপিবি-বাসদ প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জুনায়েদ সাকিসহ ১৯ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৈধ হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী, মোঃ শামছুল আলম চৌধুরী, চৌধুরী ইরাদ আহমদ সিদ্দিকী, জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের সাবেক উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ, এ ওয়াই এম কামরুল হাসান, জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, জাসদ সমর্থিত প্রার্থী অভিনেতা নাদের চৌধুরী, কাজী মোঃ শহীদুল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস, মোঃ আনিসুজ্জামান খোকন, মোঃ জামান ভূঞা, শেখ শহিদুজ্জামান, শেখ মোঃ ফজলে বারী মাসউদ ও মোস্তফা কামাল আজাদী।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটে অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলম এ তথ্য জানান। মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং নির্দলীয় প্রার্থী নাইম হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিল করা ২১ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ওই দু’জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এদিকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এই প্রার্থীর সমর্থনকারী আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভোটার নন। তবে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করবেন। নির্বাচন কমিশনের সিটি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর-দক্ষিণ) এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ এপ্রিল।

ইসলামী আন্দোলনের তিন মেয়র প্রার্থী ॥ আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ আব্দুর রহমান ও উত্তরে অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ মোঃ ফজলে বারী মাসউদ এবং চট্টগ্রামে আলহাজ মোঃ ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া।

ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী আলহাজ আবদুর রহমান বলেন, তিনি একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তির নগরী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে লড়তে চান। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও কালো টাকার মালিকদের রুখে দিতে আল্লাহভীরু লোককে নির্বাচিত করতে হবে। নগরজীবনে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে নাগরিক বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে তার কাজ। রাজধানীবাসীর বসবাসের অনুপযুক্ত রাজধানী ঢাকাকে বসবাসযোগ্য শহরে রূপান্তরিত করার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধতা, মশামাছির উপদ্রব থেকে রক্ষা, ধুলোবালিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার আন্তরিক ইচ্ছা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। সঙ্গে সঙ্গে সবুজ ঢাকা গড়ারও ইচ্ছা আছে তাঁর।

প্রকাশিত : ২ এপ্রিল ২০১৫

০২/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: